জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে কঠিন বিপর্যয় তৈরি করছে।
মানুষ প্রতিদিনের বাজার খরচ, যাতায়াত ব্যয় কিংবা পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
জ্বালানি ব্যয়ের চাপে শিল্প ব্যবসাসহ গোটা অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষ চরমভাবে পিষ্ট ও নিষ্পেষিত হচ্ছে।
, ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
গ্যাসের ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানায়। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করেছে। কিছু কারখানাকে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধও রাখতে হয়েছে।
গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং ও সরবরাহে বিঘœ দেখা দিয়েছে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও এর শিকার হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যয়বহুল ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা কমাতে সরকার শপিং মল ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র আগেভাগে বন্ধ রাখার মতো জরুরি ব্যবস্থাও নিয়েছে। গৃহস্থালি ও পরিবহন খাতেও সংকটের প্রভাব পড়েছে। রান্নার গ্যাস সংগ্রহে ভোগান্তির পাশাপাশি সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়া এবং বিকল্প জ্বালানির বাড়তি খরচ ব্যবসার পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতি চললে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা কঠিন হতে পারে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। ফলে খাদ্যপণ্যের বাইরেও বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এই চাপ বাড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে খুচরা বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জ্বালানির দাম ১৫ থেকে ২১ শতাংশ বেড়েছিল। সেপ্টেম্বরে জ্বালানির দাম গড়ে আরও ১৫ শতাংশ বাড়ে। এসব মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়েছে। সরবরাহব্যবস্থার অদক্ষতা এবং অর্থ সরবরাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতির চাপ ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।
এর প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বল্প মজুরির শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক ছিল। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে এই হার সাময়িকভাবে ইতিবাচক হলেও অর্থবছরের শেষ দিকে আবার ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টেও এ পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল।
প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক বাস্তবতার এই চাপের পুরো বোঝা কি সাধারণ মানুষের ওপর বর্তানো উচিত? অর্থনীতির হিসাব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবন ও জীবিকার হিসাবও।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে মোটরসাইকেলনির্ভর কর্মজীবীদের ওপর। বর্তমানে হাজার হাজার তরুণ রাইড শেয়ারিং, অনলাইন ডেলিভারি, কুরিয়ার সেবা ও বিভিন্ন পরিবহনভিত্তিক পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাদের অধিকাংশের আয় নির্ভর করে দৈনিক ট্রিপসংখ্যার ওপর। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে তাদের প্রতিদিনের ব্যয় বেড়ে গেলেও আয় সেই অনুপাতে বাড়বে না।
জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির দ্বিতীয় বড় অভিঘাত আসে পরিবহন খাতে। বাংলাদেশে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। ইতিমধ্যে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মানুষের ওপর, যারা প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সমস্যার গভীরতা এখানেই শেষ নয়। জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত অভিঘাত শুরু হয় বাজারব্যবস্থায়। কৃষকের খেত থেকে বাজারে সবজি পৌঁছানো, খামার থেকে মাছ-গোশত পরিবহন, শিল্পকারখানা থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য সরবরাহ- সবকিছুতেই পরিবহন ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে প্রায় সব ধরনের পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যাবে। ফলে তার প্রভাব সব কিছুতেই পড়বে।
একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন বার বার সামনে উঠে এসেছে: এই জ্বালানি সংকটের দায় আদতে কার? আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হলেও, আমাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতের অপচয়, সিস্টেমে থাকা বড় ধরনের অদক্ষতা, উচ্চ হারের সিস্টেম লস এবং দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর সংস্কার পরিলক্ষিত হয়নি।
এই সংকট থেকে উত্তরণ কোনো সাময়িক মলমপট্টি বা পরিবহণ ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী ও আমূল নীতিগত পরিবর্তন।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অবমাননাকারী, এদেশের মুসলমানদের হিন্দুত্ববাদে লীন হতে কু-প্ররোচনাকারী এবং ভারতে মুসলমানরা নিশ্চিন্তে তাদের দ্বীনি উৎসব পালন করছে-
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার নেপথ্য কারণ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বে ৩০০ কোটিরও বেশী মুসলমান থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদে পঞ্চ শক্তিতে কোনো মুসলিম দেশ নেই ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ার মতো দেশগুলোতে মার্কিন হস্তক্ষেপ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে, অথচ জাতিসংঘ সেই আগ্রাসন রুখতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন ভেটোর ভয়ে। আর ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বর্বরতায় যখন বিশ্ববিবেক থমকে দাঁড়ায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র নির্লজ্জভাবে তা সমর্থন করে বা নীরব থেকে জাতিসংঘের অবস্থানকেও প্রভাবিত করে।
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কোনো সমালোচনা আলোচনা অথবা আন্দোলনের প্রশয় না দিয়ে সরকারের উচিৎ জিয়ার নীতি অনুসরণ করে পাহাড়ে কমপক্ষে ১ হাজার সেনা ছাউনি তৈরী করা।
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন, উচ্ছেদ, বৈষম্য আর মসজিদ-মাদ্রাসা ধ্বংসের উৎসব করে রাষ্ট্রয়ী সন্ত্রাস করে ব্যার্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তাহলে তারা ‘আসাম’ বাংলাদেশের কাছে প্রত্যার্পন করুক। আর আসামের মুসলমান তো সব মরছেই। তাহলে তারা বিদায় হজ্জের ভাষণ অনুযায়ী তাদের জান-মাল রক্ষায় জিহাদে অবতীর্ন হোক।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমান হিন্দু সংঘাত হয়। এ থেকে বাঁচাতে সব মুসলমানকে লালনবাদ গ্রহণ করে অমুসলমান হতে বলেছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই ও তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ। লালনবাদে কোন ধর্মীয় সংঘাত নেই- এজন্য নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষায় লালন বাদ ঢোকানোর পরামর্শ দিয়েছে- এটাই জাহেদের ভাষ্য।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসলমান হিন্দু সংঘাত হয়। এ থেকে বাঁচাতে সব মুসলমানকে লালনবাদ গ্রহণ করে অমুসলমান হতে বলেছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই ও তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ। লালনবাদে কোন ধর্মীয় সংঘাত নেই- এজন্য নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষায় লালন বাদ ঢোকানোর পরামর্শ দিয়েছে- এটাই জাহেদের ভাষ্য।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুধু ভারতেই আধিপত্যবাদী হিন্দুত্ববাদী নয়। বাংলাদেশে অবস্থানকারী ভারতীয় হাইকমিশনার সহ হিন্দুত্ববাদীরা সবাই আধিপত্যবাদী। এদেশের হিন্দুত্ববাদীরা তাদের আধিপত্য বৃদ্ধি জন্য সরকারকে গভীর চাপ তৈরী করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র, ভারতে- মুসলমানদের উপর সহিংসতাও গণহত্যার অভিযোগ মিথ্যা অভিহিত করে তার বিপরীতে বাংলাদেশে হিন্দু স্বার্থ রক্ষায় নিবেদিত হতে বলেছে।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লালনবাদে কোন ধর্মীয় সংঘাত নেই- এজন্য নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষায় লালন বাদ ঢোকানোর পরামর্শ দিয়েছে- এটাই জাহেদের ভাষ্য।
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
জামাতের গুরু মওদুদী, গো’আযম, সাইদীর ফতওয়া মোতাবেক যদি তাদের আমীর, সেক্রেটারী, এমপি মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে কাফের সাব্যস্ত হয় তবে অন্যদের কী করার আছে?
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমান হিন্দু সংঘাত হয়। এ থেকে বাঁচাতে সব মুসলমানকে লালনবাদ গ্রহণ করে অমুসলমান হতে বলেছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই ও তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ।
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত রবীন্দ্র কখনো ভারত তথা বাংলার স্বাধীনতা চায়নি, সে বাংলা ভাষাকেও রাষ্ট্রভাষা চায়নি। তার লেখা ‘সোনার বাংলা’ কবিতায় রয়েছে পূজার আরতি। কবিতার শেষ অংশে রয়েছে- ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে- / দে গো তোর পায়ের ধুলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে। / ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে-
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












