সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার নেপথ্য কারণ
, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অন্যতম একটি হলো লালবাগ কেল্লা। এক সময় এই স্থাপনাটির নাম ছিল ‘ফোর্ট আওরঙ্গবাদ’, যার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিলো এখন থেকে প্রায় সাড়ে তিন’শ বছর আগে এবং যে কাজ আর শেষ হয়নি।
কেন শেষ হয়নি সেই কাজ? আর কেনই বা নির্মাণ করা হয়েছিলো এই দুর্গ? এসব প্রশ্নের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
মোঘল শাসক আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার (আওরঙ্গজেব) শাসনামলে দুই দফায় বাংলার সুবেদার ছিলেন শায়েস্তা খান। এর মধ্যবর্তী সময়ে এক বছরের বেশি ঢাকায় সুবাদার হিসেবে এসেছিলেন তার ছেলে যুবরাজ মুহম্মদ আজম। তার সময়েই ঢাকায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিলো।
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন তার ‘স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ বইয়ে লিখেছেন, “ঢাকায় থাকাকালীন সময়ে যুবরাজ আজম বুড়িগঙ্গার তীরে একটি দুর্গ নির্মাণ শুরু করলেন। নাম রাখলেন ‘কিল্লা আওরঙ্গবাদ’। যদিও সবাই এটিকে চিনতো লালবাগ দুর্গ নামেই”।
এর নির্মাণকাজ শুরুর কিছুদিনের মাথায় যুবরাজ আজমকে ঢাকা থেকে দিল্লিতে ফিরিয়ে নেন বাদশাহ আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি। দ্বিতীয় দফায় ঢাকায় সুবাদার নিয়োগ করা হয় শায়েস্তা খানকে।
ইতিহাসবিদরা বলছেন, শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তিনি এই দুর্গের নির্মাণকাজ আর এগিয়ে নেননি। এরপরে আর কোনো শাসক এটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করেননি। ফলে সাড়ে তিনশো বছর ধরে এই দুর্গের নির্মাণকাজ অসমাপ্তই থেকে যায়।
এর পেছনে নানা ধারণা গবেষকদের লেখায় উঠে এলেও অধিকাংশ ধারণাকে সত্য বা নির্মোহ হিসেবে মনে করেন না খোদ গবেষকদের অনেকেই। এর পেছনে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যাও এসেছে ইতিহাসের বইয়ে।
তবে এতটুকু জানা যায়, মুঘল সাম্রাজ্যের অবসানের পর আস্তে আস্তে এই অসমাপ্ত দুর্গটিও অবহেলিত হয়ে পড়ে। এক সময়ে ভবঘুরের দখলে চলে যায় স্থাপনাটি। পরে ব্রিটিশ শাসনামলে তারা স্থাপনাটি দখল করে প্রথমে সেনাবাহিনীর ব্যারাক এবং আরো পরে পুলিশ ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করেছিলো।
‘কিল্লা আওরঙ্গবাদ’ থেকে লালবাগ কেল্লা:
মোঘল শাসক আওরঙ্গজেবের তৃতীয় ছেলে যুবরাজ মুহম্মদ আজম বাংলার সুবাদার থাকাকালে ১৬৭৮ সালে বড় একটি দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বাবার নাম অনুসারে এই দুর্গটির নাম রাখেন ‘কিল্লা আওরঙ্গবাদ’ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ। সেখানে একটি প্রাসাদ তৈরির পরিকল্পনাও ছিলো।
ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাসান তার ‘দি মুসলিম মনুমেন্টস অব বাংলাদেশ’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই দুর্গ নির্মাণের সিদ্ধান্তটি ছিলো অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী।
এই বইয়ে বলা হয়েছে, লালবাগ কেল্লার দক্ষিণ দিকের প্রধান প্রবেশদ্বারটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি দুই তলাবিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন মোঘল স্থাপনা, যার সঙ্গে ছোট ছোট অলংকৃত প্যাভিলিয়ন সংযুক্ত রয়েছে। কেল্লাটি মূলত একটি সামরিক দুর্গের চেয়ে বেশি একটি প্রাসাদ-দুর্গ হিসেবে নির্মিত হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়।
যে কারণে লালবাগ কেল্লাকে ঢাকার ইতিহাসের স্বর্ণযুগের একটি মূল্যবান স্মারক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তখন যুবরাজ আজম এটিকে শুধু প্রশাসনিক দুর্গ নয়, রাজপরিবারের আবাস হিসেবেও ব্যবহার করার চিন্তা করেছিলেন।
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন তার ‘স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ বইয়ে লিখেছেন, দুর্গ সাধারণত নির্মিত হতো আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তবে লালবাগ দুর্গের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ছিলো খানিকটা ভিন্ন। কারণ যুবরাজ আজম চেয়েছিলেন বুড়িগঙ্গার তীরে একটি মনোরম প্রাসাদ নির্মাণ করতে। এবং সে প্রাসাদ রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিলো প্রাচীরবেষ্টিত একটি দুর্গ।
প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে কেল্লার মধ্যে যে স্থাপনাগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে টিকে আছে, সেগুলো হলো বিবিপরি বা পরীবিবির কবর, লালবাগ মসজিদ, হাম্মামখানা, দরবার হল, দক্ষিণ ফটক এবং প্রতিরক্ষা প্রাচীর ও বুরুজ।
প্রতœতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মোঘল শাসকরা দীর্ঘদিন বাংলা শাসন করলেও তারা শুধু শাসনই করেছে, এই অঞ্চলে অনেক বেশি স্থাপনা নির্মাণ করেনি। তবে, যুবরাজ আজমই একটি থাকার জায়গা তৈরি করেছিলেন, সেটি ছিলো লালবাগ কেল্লা”।
নির্মাণকাজ বন্ধের কারণ প্রসঙ্গে জানা যায়, যুবরাজ আজমের তত্ত্বাবধানে যখন নির্মাণ কাজ চলছিলো, তখন হঠাৎই মারাঠা বিদ্রোহ শুরু হয়। এই বিদ্রোহ দমনে সহযোগিতার জন্য আজমকে দিল্লি ডেকে পাঠান বাদশাহ আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি। তার পরিবর্তে ১৬৭৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলার সুবাদার হয়ে রাজধানী ঢাকায় এলেন শায়েস্তা খান।
যুবরাজ আজমও শায়েস্তা খানকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন কেল্লার নির্মাণকাজটি সমাপ্ত করতে। কিন্তু শায়েস্তা খান ব্যক্তিগতভাবে এর মালিক হওয়া সত্ত্বেও এই দুর্গের প্রতি তেমন কোনো আকর্ষণ বোধ করেননি। সুতরাং দুর্গের নির্মাণকাজও তিনি শেষ করেননি।
পরবর্তীতে এই লালবাগ কেল্লা নিয়ে যে সব প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণা হয়েছে সেখানেও উঠে এসেছে, যে এটি একটি অসমাপ্ত প্রকল্প ছিলো।
ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাসানের মতে, গঠনগত-ভাবে অসম্পূর্ণ হলেও, লালবাগ কেল্লার দক্ষিণ ফটকটি চমৎকারভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। মোঘল স্থাপত্য রীতির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের সাথে সুনির্দিষ্ট সামঞ্জস্য রেখে, এটিকে মূলত একটি তিনতলা ভবন হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিলো, যদিও শেষ পর্যন্ত উপরের তলাটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
প্রতœতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, মোঘল শাসকরা বাংলা শাসনে আসার পর তারা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন যুদ্ধ বিগ্রহে। যে কারণে ঢাকা যখন বাংলার রাজধানী হয় তখনও সেখানে সুবাদারদের বসবাসের জন্য তেমন কোনো প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়নি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিশ্বে ৩০০ কোটিরও বেশী মুসলমান থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদে পঞ্চ শক্তিতে কোনো মুসলিম দেশ নেই ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ার মতো দেশগুলোতে মার্কিন হস্তক্ষেপ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে, অথচ জাতিসংঘ সেই আগ্রাসন রুখতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন ভেটোর ভয়ে। আর ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বর্বরতায় যখন বিশ্ববিবেক থমকে দাঁড়ায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র নির্লজ্জভাবে তা সমর্থন করে বা নীরব থেকে জাতিসংঘের অবস্থানকেও প্রভাবিত করে।
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কোনো সমালোচনা আলোচনা অথবা আন্দোলনের প্রশয় না দিয়ে সরকারের উচিৎ জিয়ার নীতি অনুসরণ করে পাহাড়ে কমপক্ষে ১ হাজার সেনা ছাউনি তৈরী করা।
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন, উচ্ছেদ, বৈষম্য আর মসজিদ-মাদ্রাসা ধ্বংসের উৎসব করে রাষ্ট্রয়ী সন্ত্রাস করে ব্যার্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তাহলে তারা ‘আসাম’ বাংলাদেশের কাছে প্রত্যার্পন করুক। আর আসামের মুসলমান তো সব মরছেই। তাহলে তারা বিদায় হজ্জের ভাষণ অনুযায়ী তাদের জান-মাল রক্ষায় জিহাদে অবতীর্ন হোক।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমান হিন্দু সংঘাত হয়। এ থেকে বাঁচাতে সব মুসলমানকে লালনবাদ গ্রহণ করে অমুসলমান হতে বলেছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই ও তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ। লালনবাদে কোন ধর্মীয় সংঘাত নেই- এজন্য নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষায় লালন বাদ ঢোকানোর পরামর্শ দিয়েছে- এটাই জাহেদের ভাষ্য।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসলমান হিন্দু সংঘাত হয়। এ থেকে বাঁচাতে সব মুসলমানকে লালনবাদ গ্রহণ করে অমুসলমান হতে বলেছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই ও তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ। লালনবাদে কোন ধর্মীয় সংঘাত নেই- এজন্য নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষায় লালন বাদ ঢোকানোর পরামর্শ দিয়েছে- এটাই জাহেদের ভাষ্য।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শুধু ভারতেই আধিপত্যবাদী হিন্দুত্ববাদী নয়। বাংলাদেশে অবস্থানকারী ভারতীয় হাইকমিশনার সহ হিন্দুত্ববাদীরা সবাই আধিপত্যবাদী। এদেশের হিন্দুত্ববাদীরা তাদের আধিপত্য বৃদ্ধি জন্য সরকারকে গভীর চাপ তৈরী করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র, ভারতে- মুসলমানদের উপর সহিংসতাও গণহত্যার অভিযোগ মিথ্যা অভিহিত করে তার বিপরীতে বাংলাদেশে হিন্দু স্বার্থ রক্ষায় নিবেদিত হতে বলেছে।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লালনবাদে কোন ধর্মীয় সংঘাত নেই- এজন্য নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষায় লালন বাদ ঢোকানোর পরামর্শ দিয়েছে- এটাই জাহেদের ভাষ্য।
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
জামাতের গুরু মওদুদী, গো’আযম, সাইদীর ফতওয়া মোতাবেক যদি তাদের আমীর, সেক্রেটারী, এমপি মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে কাফের সাব্যস্ত হয় তবে অন্যদের কী করার আছে?
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমান হিন্দু সংঘাত হয়। এ থেকে বাঁচাতে সব মুসলমানকে লালনবাদ গ্রহণ করে অমুসলমান হতে বলেছে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই ও তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ।
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত রবীন্দ্র কখনো ভারত তথা বাংলার স্বাধীনতা চায়নি, সে বাংলা ভাষাকেও রাষ্ট্রভাষা চায়নি। তার লেখা ‘সোনার বাংলা’ কবিতায় রয়েছে পূজার আরতি। কবিতার শেষ অংশে রয়েছে- ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে- / দে গো তোর পায়ের ধুলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে। / ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে-
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মদ সংশ্লিষ্ট ১০ জনের প্রতি লা’নতের কথা হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে।একইভাবে মূর্তি পূজা স্থলে অবস্থানকারী, সহযোগিতাকারী, পৃষ্ঠপোষকতাকারী, উৎসাহ দানকারী, প্রসাদ গ্রহণকারী সবাই মূর্তি পূজার সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে মুশরিক হবে
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সব নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রধান কঠোরতা ছিলো মূর্তি ও পূজার বিরুদ্ধে। মূর্তি পূজা তথা শিরকের গুনাহ মহান আল্লাহ পাক কিছুতেই ক্ষমা করবেন না। মদ সংশ্লিষ্ট ১০ জনের প্রতি লা’নতের কথা হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে।
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












