ভেড়ার লোম দিয়ে জায়নামাজ তৈরীর একমাত্র বাংলাদেশী কারিগর আব্দুল খালেক!
, ২৪ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পাঁচ মিশালী
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সরাসরি ভেড়ার লোম থেকেই জায়নামাজ, চাদর, কম্বলসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরী করে আসছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুল খালেক। ভেড়া থেকে লোম সংগ্রহের পর বিভিন্ন প্রক্রিয়ার পর ধীরে ধীরে তৈরী হয় প্রতিটি জায়নামাজ, চাদর বা কম্বল। বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশে ভেড়ার লোমের এসব পণ্য তৈরী করেন একমাত্র তিনিই। যা দেশের গ-ি পেরিয়ে রপ্তানি হয় বিদেশেও।
ভেড়ার লোম দিয়ে কম্বল, জায়নামাজ তৈরীর এই প্রক্রিয়া বেশ চমকপ্রদ ও বেশ শ্রমসাধ্য। প্রথমে বিশেষ কাচির সাহায্যে সুণিপুণভাবে ভেড়ার শরীর থেকে আলাদা করা হয় লোম। এরপর তা ভালো করে ধুয়ে আরেকটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে লোম ছাড়িয়ে তুলার মত করা হয়। জমাট বাধা লোম ছাড়ানো শেষে তা চরকার মাধ্যমে সুতাতে পরিণত করা হয়। সেই সুতা তাতের মত বিশেষ ধাঁচে ফেলে তৈরী হয় ভেড়ার লোমের চাদর, জায়নামাজ, মাফলারসহ নানা পণ্য।
এ বিষয়ে ভেড়ার লোম থেকে পণ্য তৈরীর একমাত্র কারিগর আব্দুল খালেক বলেন, পশমগুলো কেটে নিয়ে একটা ভেড়ার গায়ে ছয় থেকে সাত রকমের রং পাই; এই রংটা বাছাই করতে হয়। বাছাই করে তারপর ভালোভাবে ধুতে হয় অর্থাৎ পবিত্র করতে হয়। তারপর শুকায়ে তা মেশিন আছে সেখানে ধোলাই করে সম্পূর্ণ চরকার সাহায্যে আমি সুতা বানাই। সুতা বানানোর পরে তাকে আমার তাত আছে সেই তাতে দিয়ে বোনাতে হয়।
আব্দুল খালেক বলেন, এই ভেড়ার লোম থেকে তৈরী বিভিন্ন পণ্য আমার পূর্বপুরুষরাও করে গেছে; আমিও এই কাজ নিয়ে আমার জীবনটা অতিবাহিত করেছি।
মূলত ভেড়ার লোমের ঘনত্ব ও এর প্রাকৃতিক বায়ুস্তর শরীরকে দীর্ঘসময় গরম রাখে বিধায় শীতপ্রধান ও ইউরোপ-আমেরিকায় এই চাদর ও কম্বলের চাহিদা ব্যাপক। বাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছেন চাপাইনবাবগঞ্জের নয়াগোলা এলাকার বাসিন্দা সত্তর বছরোর্ধ আব্দুল খালেক।
বহু প্রজন্ম ধরে তাদের পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও আজ তিনি দেশজুড়ে একমাত্র কারিগর।
আব্দুল খালেকের আশঙ্কা- তার পরে এই কাজে কেউ এই পেশায় না এলে এবং উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে ঐতিহ্যটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই পরের প্রজন্মকে এই শিল্প শেখাতে চান তিনি।
তিনি বলেন, আমার পরে আমার বিশ্বাস এই শিল্পটি বাংলাদেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে, বাজার দখল করবে ভীনদেশী কোন গোষ্ঠী। সরকারের কাছে আমার আবেদন হলো- এই শিল্পের দিকে যথোপযুক্ত নজর দেয়া এবং ব্যাপকভাবে এই কাজে মনোনিবেশ করা।
স্থানীয়রাও মনে করেন, আব্দুল খালেক কাজ ছেড়ে দিলে বা মারা গেলে এই মহামূল্যবান ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। তারাও চান সরকারিভাবে এই শিল্প রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া হোক দ্রুতই।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘সাদা সোনা’ কি সত্যিই সোনা, এর দাম এত বেশি কেন?
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কডিনি সুস্থ রাখতে করণীয়
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
গৃহসম্পদের উপযোগিতা বৃদ্ধির উপায়
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ওজন কতটুকু কমানো উচিত
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
জবিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে ২২ শতাংশ সাশ্রয়ের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির উদ্ভাবন
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু বরফই নয়, ঠান্ডায় পানি জমে যেভাবে কাচও হতে পারে
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাখিরা কি উড়ে আনন্দ পায়-কাকাতুয়াদের নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর, বাদামি নাকি সাদা?
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একটি ভেড়ার দাম কোটি টাকা!
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পৃথিবীর যে ছয় পবিত্র মসজিদে সবচেয়ে বেশী জনসমাগম হয়
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাট শিল্পের স্বর্ণযুগ ফেরাতে দুই শিক্ষার্থীর অ্যাপ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কোন দেশ থেকে কত রেমিট্যান্স আসে?
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












