৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন?
ভারত বাংলাদেশ চুক্তিকে তারা গোলামীর চুক্তি বলে কঠিন আওয়াজ তুলেছিলো! আজ আমেরিকার প্রকাশ্য গোলামী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে তারা নীরব কেনো? দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধীরাও নিস্ক্রিয় থেকে কঠিন বৈষম্য করছে।
বানিজ্য চুক্তি বাতিলের যেহেত্র সুযোগ আছে সেহেতু অবিলম্বে এই চুক্তি বাদ দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সবার আগে বাংলাদেশ প্রমাণ করতে হবে ইনশাআল্লাহ। (৩য় পর্ব)
, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
বত্রিশ পৃষ্ঠার একটি চুক্তি, যেখানে ইংরেজি শব্দ shall -এর ব্যবহার হয়েছে একশো উনআশি বার। এর মধ্যে একশো একত্রিশ বারই shall শব্দটা জুড়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের সাথে। বাংলাদেশ shall অর্থাৎ বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকবে। এমন শর্তগুলো আছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া Agreement on Reciprocal Trade বা ART বাণিজ্য চুক্তিতে।
এতে যেসব শর্তের কথা বলা হয়েছে সেসব মানতে হলে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও স্বাধীন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ। এই চুক্তির ধারাগুলোর প্রভাব কোথায় কেমন জানবো আজকের Star Explains -এ। চুক্তির কয়েকটি ধারায় বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় মার্কিন LNG বা তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি। দীর্ঘমেয়াদী এই চুক্তিতে উল্লেখ আছে, আগামী পনেরো বছরে বাংলাদেশ প্রায় পনেরো বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ এক হাজার পাঁচশো কোটি ডলারের মার্কিন LNG কিনবে।
এছাড়াও পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে ধারায় বলা আছে, এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানির রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনা যাবে না, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কৌশলগত স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে। আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশি মালিকানার সীমা শিথিল করতে হবে।
মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং বকেয়া পাওনাও দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। চুক্তির এসব শর্তে বাংলাদেশ কিছু পরিস্থিতিতে জটিলতার সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে বিকল্প উৎস বেছে নেয়ার স্বাধীনতায় চাপ অনুভব করতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে কখনো কাতার, ওমান বা অন্য দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি পাওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদী বাধ্যবাধকতা থাকলে সেই সুযোগ সীমিত হতে পারে। আর রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ বা জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
চুক্তির অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার চার নম্বর ধারায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু দেশ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা সীমিত করার ইঙ্গিতও রয়েছে।
চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে বাংলাদেশকে সে বিষয়ে আলোচনা করে সহায়ক বা পরিপূরক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বা যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্য যুদ্ধে বাংলাদেশকে একই অবস্থানে দাঁড়াতে হবে, যা বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।
তাছাড়া বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে চীন ও রাশিয়া থেকে আসে। ফলে ভবিষ্যতে সেসব উৎস থেকে কেনাকাটা সীমিত হলে ব্যয় ও সরবরাহ দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া চুক্তির কয়েকটি ধারা বাংলাদেশের স্বাধীন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি নন মার্কেট ইকোনমি হিসেবে চিহ্নিত কোনো দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তি করে, যা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তিকে দুর্বল করে দেবে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাতিল বা উচ্চ শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ২য় অংশ)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম রফতানীর বাধা দূর এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় গুরুত্ব দিন
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ১ম অংশ)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বর্তমানে সন্ত্রাসী দখলদার ইহুদীদের দ্বারা ফিলিস্তীনীদের উপরে চরম যুদ্ধাপরাধ করার পরও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করার পরও কী এদেশের মুসলমানরা আর্জেন্টিনা উন্মাদনায় উন্মত্ত থাকবে? গ্যালারীতে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা, মুসলমান বলে মিশরীয় সমর্থকদের উপর মদ ছিটিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করেছে।
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নারিকেল দ্বীপ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অস্তিত্বের সংকট
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
রেলে যাত্রীসেবার সাথে সাথে পণ্য পরিবহণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দিতে হবে।
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কৌশলগত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা: সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যা কিছু ‘কালো’ তার সাথে ‘প্রথম কালো’ প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে "যুদ্ধের ট্রফি" হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (৩)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












