ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (৩৩)
, ০৫ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৪ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য “Confession of British Spy and British enmity against IslamÓ গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
৫. মুসলমানদের মধ্যে এ ধারণার জন্ম দিতে হবে যে, “নবীগণ ইসলাম বলতে যা বুঝিয়েছেন তাই পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। সেদিক থেকে ইহুদী ধর্ম এবং খ্রিস্টান ধর্মও আসলে ইসলাম। এ মতবাদকে নীচের যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করবে।
কুরআন শরীফে সব ধর্মের সবাইকে মুসলমান নাম দিয়েছে। যেমন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়েছে, আমাকে একজন মুসলিম হিসেবে কতল করো। ” আর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনারা উনাদের দোয়ায় বলেছেন, “হে আমাদের রব (আল্লাহ পাক) আমাদিগকে মুসলমান বানান এবং আমাদের বংশধরদের থেকেও মুসলিম জনতা তৈরী করুন। ” হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম উনার ছেলেকে বলেছিলেন, “মরতে হলে একমাত্র মুসলমান হিসেবে মরবে। ”
(সকল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ একই মৌলিক নীতি সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু সকল রসূলগণের শরীয়ত বা আদেশ নিষেধ এক রকম নয়। ঈমান আনা এবং শরীয়ত অনুসরণ করাটাই হলো ইসলাম। প্রত্যেক নবী আলাইহিমুস সালামগণের শরীয়ত অন্যদের চেয়ে ভিন্ন রকমের, সেজন্য ইসলাম পালনও ছিলো ভিন্ন রকম। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হিসেবে উলুল আ’যম মিনার রসূলগণ ওহীর মাধ্যমে নতুন শরীয়ত প্রণয়ন করেছিলেন। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে ইসলাম এনেছেন সেটা দুনিয়ার শেষ দিন পর্যন্ত অক্ষুন্ন থাকবে।
সূরা আল ইমরান শরীফের ১৯তম এবং ৮৫তম আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইহুদী খ্রিস্টানদেরকে তাদের পূর্বের ধর্ম ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, “যারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আনীত ইসলাম কবুল করবে না, তারা বেহেশ্তে প্রবেশ করতে পারবে না এবং অনন্তকাল দোযখের আগুনে জ্বলবে। ”
পূর্বোক্ত নবী হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম ও হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম তৎকালীন ইসলামকে মান্য করতে বলেছেন। গির্জায় যাওয়ার সেই শরীয়ত এখন আর কার্যকর নয়। )
৬। পুনঃ পুনঃ এটা বলবে যে, গীর্জা তৈরী করা হারাম নয় এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং খলীফাগণ গীর্জাসমূহ ধ্বংস করেননি বরং সেগুলোকে সম্মান দেখিয়েছেন। কুরআন শরীফে বলা হয়েছে, “আল্লাহ পাক যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খ্রিস্টানদের) নির্জন, গীর্জা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসূহ ধ্বংস হয়ে যেতো, যেগুলোতে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম অধিক স্মরণ করা হয়।
(বিগত যামানায় যত ধর্মের ভিত্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উনার পক্ষ থেকে এবং ওহীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো, ইসলাম আসার পর সেগুলো রহিত হয়ে গেছে সেসব ধর্মের উপাসনালয়সমূহের নাম এই আয়াত শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ স্ব-স্ব যামানায় তাদের উপাসনালয়গুলো সম্মান ও সংরক্ষণ ফরয ছিলো। )
৭। আরব বদ্বীপ থেকে ইহুদীদেরকে বিতাড়িত করবে এবং বদ্বীপে দুটো ধর্ম একত্রে থাকতে পারে না- এ হাদীছ সম্পর্কে মুসলমানদেরকে দ্বিধাগ্রস্ত করবে। এ হাদীছ সত্য হয়ে থাকলে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন ইহুদী বা খ্রিস্টান স্ত্রী থাকার কথা নয়। তেমনি নজরান খ্রিস্টানদের সঙ্গেও কোন চুক্তি সম্পাদন হওয়ার কথা নয়।
(কোন উম্মুল মু’মিনীন ইহুদী বা খ্রিস্টান ছিলেন না। প্রত্যেকেই দ্বীন ইসলাম কবুল করেছিলেন। আর মুসলমানদের সাথে শর্ত সাপেক্ষে যে কোন ধর্মের লোকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে; যা মহান আল্লাহ পাক বলেন- তাতে দোষের কিছু নেই)
৮। মুসলমানদের ইবাদতের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করতে হবে এবং উপকারী ইবাদতসমূহের মধ্যে ত্রুটি প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে এবং বলবে যে, মহান আল্লাহ পাক মানুষের ইবাদত চান না।
(ইবাদত করা হয় যেহেতু সেটা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ। অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক বান্দার ইবাদতের মুখাপেক্ষী নন তথাপি বান্দাদের নিজেদের জন্যই ইবাদতের প্রয়োজন রয়েছে। খ্রিস্টানরা দলবেধে চার্চে যায় অথচ মুসলমানদেরকে মসজিদে যাওয়া থেকে বাধা প্রদান করে। )
৯। যুদ্ধে গণীমতের যে মাল পাওয়া যায় তার এক পঞ্চমাংশ উলামাদের দেয়ার ব্যাপারে শিয়াদের বিভ্রান্ত করতে হবে। ব্যাখ্যা করবে যে, এক পঞ্চমাংশ গণীমতের মালের সাথে ব্যবসায়িক উপার্জনের কোন যোগ নেই। তারপর যোগ করবে যে, খুমুস (এক পঞ্চমাংশ গণীমত) দিতে হয় নবী বা খলীফাকে, উলামাকে নয়। উলামাদের দিতে হবে বাড়ী, প্রাসাদ, প্রাণী এবং উদ্যান। তাদের খুমুস দেয়া বৈধ নয়।
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফরাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং নববী মুহব্বতের দৃষ্টান্ত
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: অভিশপ্ত ইহুদী মনস্তত্ব বিশ্লেষণ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (৩)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উসমানীয় সালতানাতে যেভাবে পবিত্র কুরবানীর ঈদ বিশেষভাবে উদযাপন করা হতো
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কুরবানীবিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী জালিম শাসক গৌরগোবিন্দের করুণ পরিণতি
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (২)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (২য় পর্ব)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৫ম পর্ব)
১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












