ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা (৩০)
, ২৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০৮ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইতিহাস
শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খ্রিষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রিষ্টীয় ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য ÒConfession of British Spy and British enmity against Islam গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। যা মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
হেমপারকে দেয়া বইটিতে আরও বলা ছিলো যে, তোমরা মিথ্যাচার করবে যে, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি ক্ষমতা পান হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার সুপারিশক্রমে। অন্যদিকে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশে হযরত উছমান আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা হন। আর হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনার বেলায় বিদ্রোহীরা উনাকে রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচিত করে। হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ক্ষমতা পান তরবারীর জোরে।
অতঃপর উমাইয়া খলীফাদের সময় সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রাপ্তির বিষয়টি পৈত্রিক ধারায় উত্তরাধিকার হিসেবে চালু হয়। একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয় আব্বাসীয়দের বেলায়। আর এভাবেই এটা সত্য বলে প্রমাণিত হয় যে, ইসলাম মানে স্বৈরাচারতন্ত্র।
(এক্ষেত্রেও সংক্ষিপ্ত সঠিক ইতিহাস হচ্ছে যে, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনাকে শাহাদাতের পূর্বে অর্থাৎ আহত অবস্থায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আরজ করলেন, উনার পরবর্তী খলীফা মনোনীত করার জন্য। তখন তিনি বললেন, আমি ছয়জনের নাম ঘোষণা করে যাচ্ছি। এর মধ্য হতে যে কোন একজনকে খলীফা হিসেবে মনোনীত করতে হবে।
উল্লেখিত ছয়জন হচ্ছেন- হযরত উছমান আলাইহিস সালাম, হযরত আলী আলাইহিস সালাম, হযরত ত্বালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত জুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।
স্মরণীয় যে, উপরোক্ত ছয়জনই ছিলেন “আশাররায়ে মুবাশ্শারার” অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখিত ছয়জনের নাম ঘোষণা করে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দায়িত্ব দিলেন। তিনদিনের মধ্যে যে কোন একজনকে মনোনীত করার জন্য। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উল্লেখিত পাঁচজনের সাথে পরামর্শ করে হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনাকে খলীফা হিসেবে মনোনীত করেন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মনোনীত হন হযরত আলী আলাইহিস সালাম। যার ফলশ্রুতিতে হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনার শাহাদাতের পর হযরত আলী আলাইহিস সালাম খলীফা হিসেবে খেলাফত লাভ করেন।
স্মর্তব্য যে, উল্লেখিত ছয়জনের মধ্যে কেহই খলীফা পদের অথবা খিলাফতের জন্য পদপ্রার্থী হননি। বরং হযরত উমর আলাইহিস সালাম তিনি উনাদের নাম ঘোষণা করার কারণে উনারা পরস্পর পরামর্শ করেই একজনকে খলীফা হিসেবে মনোনীত করেছেন। )
৬। হত্যাকা-ের শাস্তি মৃত্যুদন্ড এই বিধান ফৌজদারী দ-বিধান থেকে বাদ দিবে। দস্যু ও ডাকাতদের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারী উদ্যোগের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তাদেরকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে রাস্তায় চলাচলকে নিরাপত্তাহীন করে তুলবে।
৭। নীচের ব্যবস্থা অনুযায়ী তাদেরকে একটা অস্বাস্থ্যকর জীবনে পরিচালিত করতে হবে।
(ক) সবকিছুই আল্লাহ পাকের উপর নির্ভরশীল। (খ) স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে চিকিৎসার কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহ পাক কি কুরআন মজিদে ইরশাদ করেননি? আল্লাহ পাক আমাকে খাওয়ান এবং পান করান। অসুস্থ হলে তিনিই সুস্থ করেন। তিনিই একমাত্র ক্ষমতাবান আমাকে মৃত্যুদানে এবং পরে পুনরায় জীবিত করার ব্যাপারে। সুতরাং কেও আল্লাহ পাকের ইচ্ছা ব্যতীত রোগ থেকে মুক্তি এবং মৃত্যু থেকে রেহাই পাবে না। (সূরা শূরা আয়াত ৭৯-৮১)
(মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই ব্রিটিশ এজেন্টরা আয়াতে কারিমা এবং হাদীছ শরীফের অর্থের বিকৃতি ঘটিয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণ করা সুন্নত। আল্লাহ পাক ওষুধের মধ্যে শিফা দিয়েছেন।
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন যিনি সব কিছুর সৃষ্টিকারী, তিনিই আরোগ্যকারী। আল্লাহ পাক সবকিছুর কারণ সৃষ্টি করেছেন। এবং কারণ ভিত্তিক নিয়ম কানুন পালন করারও নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের এই কারণগুলো অনুসন্ধানের জন্য পরিশ্রম করতে হবে এবং সে অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। “তিনি আমাকে আরোগ্য দান করেন” বলার অর্থ তিনি আমাকে আরোগ্য লাভের উপায়ও প্রদান করেন। এটাই ইসলামের বিধান যে, রোগের কারণ নির্ণয়ের জন্য গবেষণা করতে হবে। )
ভাষান্তর : আবুল বাশার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালী পুলিশ বিভাগের ইতিহাস (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












