মন্তব্য কলাম
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, দেশে কেন উল্টো বেড়েছে? বিশ্ববাজারে জ্বালানি সহ খাদ্যপণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশে ভোক্তা বাড়তি দামে কিনছে বিশ্বে জ্বালানীসহ খাদ্য পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে, কিন্তু বাংলাদেশে সুফল মিলছে না কেন? প্রতিবেশীরা স্বস্তিতে, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে কেনো?
, ১৭ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
নভেম্বরেও কমেছে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম
অভিজ্ঞমহল মনে করছেন, বাজারে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা আগের মতোই থাকায়
এবং ‘সরকার যথাযথ পদক্ষেপ’ না নেওয়ায়ই মূল্যস্ফীতি কমছে না। বরং বাড়ছে।
সমালোচক মহল মনে করছেন, তারা আগের জালিমের পর এখন মবজালিম তথা মহাজালিমের কাছে পড়েছেন। যেখানে শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির চাকা বন্ধ হচ্ছে। আর উন্মুক্ত হচ্ছে কেবলি দুর্ভিক্ষ আর গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা। (নাউযুবিল্লাহ)
সবজির ভরা মৌসুমে সাধারণত খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি কমে। অথচ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে চলতি বছরের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮.২৯ শতাংশ। এর আগের মাস হার ছিল ৮.১৭ শতাংশ।
গত পরশু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭.৩৬ শতাংশে, যা আগের মাস অক্টোবরে ছিল ৭.শূন্য ৮ শতাংশ।
অথচ বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম গত তিনমাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে।
অপরদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অব্যাহত কমার পরও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ডিসেম্বর মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে দুই টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম দুই টাকা বাড়িয়ে ১০৪ টাকা, কেরোসিন লিটারে দুই টাকা বাড়িয়ে ১১৬ টাকা, পেট্রলের দাম দুই টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকা এবং অকটেনের দাম লিটারে দুই টাকা বাড়িয়ে ১২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১লা ডিসেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল ব্যবহার হয়। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, প্রতিবেশী দেশ ভারত ছাড়াও উন্নত বিশ্বে প্রতি মাসেই জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসেবে গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া চালুর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশে কমবে আবার বাড়লে দেশের বাজারেও বাড়বে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমেছে। কিন্তু দেশে বরং বেশি দাম রাখার কারণে সরকারের কোম্পানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মুনাফা বেড়েছে।
বিপিসি গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ৪ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ছিল ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০২৪ সালের মার্চ) বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে দেশে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের (ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিন) দাম নির্ধারণ শুরু হয়। ভর্তুকি থেকে সরে আসে ওই সরকার। তখন ‘অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের’ কারণে অর্থনীতি সংকটে পড়েছিল।
বিপিসি জ্বালানি তেল থেকে শুধু বড় অঙ্কের মুনাফাই করছে না, সরকারের আয়ও অনেক। জ্বালানি তেলের ওপর শুল্ক-কর আরোপ করে সরকার প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৪ সালের মার্চে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ব্যারেলপ্রতি (১৫৯ লিটার) দর ছিল ৮৫ মার্কিন ডলারের কিছু বেশি। গত অক্টোবরে এই দর নেমেছে ৬৪ ডলারের কাছাকাছিতে। ফলে তখনকার তুলনায় দর এখন ২৫ শতাংশ কম।
বিপিসি জ্বালানি তেল থেকে শুধু বড় অঙ্কের মুনাফাই করছে না, সরকারের আয়ও অনেক। জ্বালানি তেলের ওপর শুল্ক-কর আরোপ করে সরকার প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। বিপিসির নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুল্ক-কর বাবদ সরকারের আয় ছিল ১৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে পরিবহন ভাড়া ও কৃষির উৎপাদন খরচ অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে অন্যান্য কারণে বাড়ে দ্রব্যমূল্য। ফলে মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।
অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, আয়করের মতো প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে না পেরে, ধনী ও সচ্ছলদের কাছ থেকে যথেষ্ট কর আদায় করতে না পেরে এবং বড় বড় প্রকল্প নিয়ে বিপাকে থাকা বিগত সরকার রাজস্ব আয়ের জন্য জ্বালানি তেলের মতো খাতকে বেছে নিয়েছিল। সে অবস্থার পরিবর্তন তেমন একটা হয়নি।
বাজারদরের কথা বললেও তা এড়িয়ে সুবিধামতো মূল্য নির্ধারণের স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়ের সূত্র তৈরি করা হয়েছে। সূত্রে ৯টি জায়গায় দুর্বলতা জানানোর পর বর্তমান সরকার দুটি সংশোধন করেছে। তাই বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ভোক্তা বাড়তি দামে কিনছে, আর বিপিসি মুনাফা করছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে তেল পাচারের যুক্তি হাস্যকর। সীমান্তের অজুহাতে দেশের ভোক্তাকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই।
অভিজ্ঞমহল বরং মনে করেন, বিপিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জ্বালানি তেল চুরি, দুর্নীতি ও অদক্ষতার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, চুরি, দুর্নীতি ও অদক্ষতা কমাতে পারলে জ্বালানি তেলের দাম কমানো যাবে।
অকটেন ও পেট্রল বিক্রি করে সব সময় মুনাফা করে বিপিসি। মূলত ডিজেলের ওপর বিপিসির লাভ-লোকসান নির্ভর করে। দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৭৫ শতাংশই ডিজেল। দেশের একমাত্র শোধনাগারটি থেকে পাওয়া যায় ৬ লাখ টন ডিজেল, বাকিটা আমদানি করতে হয়।
উল্লেখ্য, ‘এক দশক আগেই বিপিসির আন্তর্জাতিক নিরীক্ষার দাবি তোলা হয়েছে। আজও তা হয়নি। ’ তিনি বলেন, ‘সারা দুনিয়ার নিয়ম হলো সরকার সেবা দেবে, মুনাফা করবে না। অথচ শুল্ক-করের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব নিয়েও উন্নয়নে বিনিয়োগ করে না সরকার। বিনিয়োগের নামে বাড়তি মুনাফা করছে বিপিসি। ’
অপরদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম কমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে নেমে এলেও বাংলাদেশে তার তেমন প্রভাব পড়েনি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় সাফল্য দেখালেও বাংলাদেশে তা এখনও সাড়ে আট শতাংশের ওপরে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলারের বিনিময় হারের প্রভাবের পাশাপাশি বাজারের ওপর মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা না থাকা এবং কার্যকর তদারকির অভাবেই ভোক্তারা বিশ্ববাজারের সুফল পাচ্ছে না।
শ্রীলঙ্কায় এখন মূল্যস্ফীতি ঋণাত্মক, অর্থাৎ সেখানে পণ্যের দাম কমছে। চরম সংকটে থাকা পাকিস্তানেও মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। ভারতে তা ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বিপরীতে গত পরশু বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৮.২৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৩৮ শতাংশ কমেছে। কিন্তু দেশে ভালো ফলন ও বিপুল পরিমাণ আমদানির পরও দাম না কমে উল্টো বেড়েছে।
একইভাবে, বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম ৪৪ শতাংশ কমলেও দেশে কমেছে মাত্র ১৭ শতাংশ।
বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম নভেম্বরে টানা তৃতীয় মাসের মতো কমেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ১ পয়েন্টে। এটি অক্টোবরে সংশোধিত মূল্যসূচকের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক কমার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েল, সূর্যমুখী তেল ও সরিষা তেলের মূল্যহ্রাস। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী ডিম, গোশত ও দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ডে চিনির উৎপাদন বৃদ্ধি মূল্যসূচক কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া চাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আমদানি চাহিদা কমে যাওয়া সূচক হ্রাসে প্রভাব ফেলেছে।
জাতিসংঘের সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক অক্টোবরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। নভেম্বরে গোশতের মূল্যসূচক কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ।
বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম দ্রুত কমছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে নিউজিল্যান্ডের বাড়তি দুধ উৎপাদন। ফন্টেরার গ্লোবাল ডেইরি আপডেট অনুযায়ী, গত অক্টোবরে সংগ্রহ হয়েছে ২০ কোটি ৯৫ লাখ কেজি মিল্ক সলিডস। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে নভেম্বরে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি কমেছে মাখন ও ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দাম।
এফএও আরো জানায়, অক্টোবরে চিনির মূল্যসূচক কমেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ঊর্ধ্বমুখী সরবরাহ এবং ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ডে শক্তিশালী উৎপাদনপ্রবণতা এ দরপতনের মূল কারণ।
চীনে সামনের দিনগুলোয় খাদ্যশস্যের আমদানি বাড়তে পারে। এছাড়া কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও আগামী বছর রাশিয়ায় ফসল আবাদ কমার পূর্বাভাস রয়েছে। এসব কারণে গত মাসে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও গমের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দামও বেড়েছে।
আলাদা এক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদন প্রথমবারের মতো ৩০০ কোটি ৩০ লাখ টন ছাড়াতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এ সময় চালসহ অন্যান্য দানাদার শস্য উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় বাড়বে। সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় চাল উৎপাদন।
বৈশ্বিক শস্য ব্যবহার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শস্যের মজুদ ৯২ কোটি ৫৫ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এছাড়া চলতি অর্থবছর বিশ্বব্যাপী শস্যের আমদানি-রফতানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫০ কোটি ৬ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।
বিশ্ববাজারের ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের বাজারে। বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে এখানে কয়েক বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম লাগামহীন বাড়িয়েছে আমদানিকারকেরা। এরই ধারাবাহিকতায় পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বাড়িয়েছে পণ্যের দাম।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ সময়ে জিনিসপত্রের দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল কিংবা ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে।
অথচ এ সময়ে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। জিনিসপত্রের অতিরিক্ত দামের কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।
প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কা রীতিমতো খাদের কিনার থেকে ফিরে এসেছে। দেশটির মূল্যস্ফীতিও কমেছে। জিনিসপত্রের মূল্যে শক্ত নজরদারির কারণে দেশটির মূল্যস্ফীতি চলতি মার্চে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশে এসে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পরিসংখ্যান অফিস।
প্রতিবেশী নেপালের মূল্যস্ফীতির হার চলতি বছরে হয়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে ভুটানের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু প্রতিবেশী দেশ বলেই নয়, জিনিসপত্রের উত্তাপে পানি ঢেলে দিয়েছে ব্যায়বহুল দেশ যুক্তরাষ্ট্রেও। দেশটিতে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশে।
অথচ বাংলাদেশে এখন ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১০৪ টাকা, পেট্রল ১২০ টাকা এবং অকটেন ১২৪ টাকা। সবশেষ এ মাসেই প্রতি লিটারে ২ টাকা করে বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম।
কিন্তু বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার পর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গত বছর নভেম্বরেও বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিল, বাজারদর অনুযায়ী নির্ধারণ করলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কমানো সম্ভব। উল্লেখ্য, একটি সূত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার মাসে মাসে দাম নির্ধারণের কথা বলেছিল। যদিও সেই সূত্রের পুরোটা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
অভিজ্ঞমহল মনে করছেন, বাজারে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা আগের মতোই থাকায় এবং ‘সরকার যথাযথ পদক্ষেপ’ না নেওয়ায়ই মূল্যস্ফীতি কমছে না। বরং বাড়ছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার অনেক কথা শোনালেও সাধারণ ভোক্তারা এখনও চাল, ডাল, তেল, ডিম, মুরগিসহ নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে হিমশিম খাচ্ছেন।
সমালোচক মহল মনে করছেন, তারা আগের জালিমের পর এখন মবজালিম তথা মহাজালিমের কাছে পড়েছেন। যেখানে শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির চাকা বন্ধ হচ্ছে। আর উন্মুক্ত হচ্ছে কেবলি দুর্ভিক্ষ আর গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা। (নাউযুবিল্লাহ)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সরকার থেকে খাস বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের দাপটে ভূমির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভূমিহীনরা।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“আঃলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে কি করবে তার পরিকল্পনা ফাঁস আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার হওয়া উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মার্কিনীরা তাদের পতিত সরকারকেই নূতন করে তুলে ধরে অপেক্ষাকৃত বেশি লুটতরাজের শর্তে। নূতন করে মার্কিন গোয়েন্দাদের আনা-গোনা কি তারই আলামত!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












