এক কেজি আলু বেচে এক কাপ চা হয় না আলুর কেজি ৮ টাকা, লোকসানে কাঁদছে কৃষক ও ব্যবসায়ী ২৫০ মিলি লিটার পানির দামে এক কেজি আলু, আলুচাষির কান্নার আওয়াজ কে শুনবে? তিন মাসেও মেলেনি প্রণোদনা, লোকসানের চক্রে আলুচাষি আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের উদ্যোগ জরুরি
, ১৫ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
আলু রফতানীতে কমপক্ষে লাখো কোটি টাকা আয় সম্ভব
আলুর জাতের মান বৃদ্ধি এবং হিমাগার স্থাপনসহ রফতানীর ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করে
সরকারকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
এক কাপ চায়ের দাম ১০ টাকা। অথচ এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। এমন বৈপরীত্যে হতাশ সারাদেশের আলুচাষিরা। উৎপাদন খরচই যেখানে ওঠে না, সেখানে লাভ তো দূরের কথা। লোকসানের বোঝা টানতেই হাঁপিয়ে উঠেছেন কৃষকেরা। গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবারও একই শঙ্কা ঘিরে ধরেছে তাদের।
অথচ আলুর ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারদর নেমে গেছে উৎপাদন খরচের নিচে। এতে চাষিরা বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১২-২৫ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫-৭ টাকা দরে। কোথাও কোথাও ১৮ টাকায় বিক্রি করেও খরচ উঠছে না।
আলুর দাম কমার একটি বড় কারণ হচ্ছে সরবরাহ বেশি থাকা। গত বছরের মজুত এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার ওপর এ বছরও ফলন ভালো। হিমাগারগুলোতে নতুন আলু নেয়ার জায়গা নেই। কোথাও ভাড়া বেড়েছে। ফলে কৃষক মাঠ থেকে আলু তুলে সংরক্ষণ করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছে। এতে বিঘাপ্রতি ১৪-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
আলু উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। দেশে বছরে প্রতি একজন মানুষ আলু খায় ৫১ দশমিক ৫ কেজি। সেদিক থেকে বিশ্বে অবস্থান ৪৪তম। রপ্তানিতে নেই শীর্ষ ১৫ দেশের তালিকায়। তাহলে উৎপাদিত এত পরিমাণ আলু বাজারে ওঠার পর দাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় কেন। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হিমাগার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, এবার রেকর্ড পরিমাণ এক কোটি ৩০ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ৪০ লাখ টন বেশি। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতার প্রভাব পড়েছে দামে। বিসিএসএ বলছে, হিমাগার ফটকে এলাকাভেদে কেজি এখন ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ সব মিলিয়ে কৃষকের প্রতি কেজিতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ২৫ টাকা। আবার সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, এবার আলুর গড় উৎপাদন খরচ ছিল কেজিতে ১৪ টাকা। এর সঙ্গে হিমাগার ভাড়া যোগ হবে। ফলে সরকারি হিসাবেই প্রতি কেজি আলুতে কৃষক লোকসান গুনছেন। বিভিন্ন জেলার কৃষকরা যে তথ্য দিয়েছেন তাতে এই লোকসান কেজিতে ১০ টাকার মতো।
মাঠ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলু উৎপাদনে খ্যাত মুন্সীগঞ্জের প্রান্তিক চাষি এবং হিমাগারে মজুদকারী ব্যবসায়ীরা আলুর দাম না বাড়ায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেক আলু ব্যবসায়ী রয়েছেন তারা আলু উত্তোলন না করে দলিল কোল্ডস্টোরেজে রেখে আসছেন। তার কারণ আলু বিক্রি করলেও তারা তাদের খরচটুকু পর্যন্ত ওঠাতে পারছেন না। দেশে অন্যান্য শাকসবজির দাম যেখানে আকাশচুম্বী, সেখানে আলু কেউ ছুঁয়েও দেখছে না। বাজারে আলু বিক্রি না হয়ায় কোল্ডস্টোরেজগুলোও অলস সময় পার করছে। সামনে আলুর দাম বাড়ার সুযোগও তেমন নেই। তার কারণ সামনে আগাম নতুন আলু চলে আসবে। আবার বর্ষার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে পুরোদমে আলুর চাষ। এ সময়ের মধ্যে হিমাগারে যে পরিমাণ আলুর মজুদ রয়েছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।
আলুর দাম পতনের অন্যতম কারণ হলো আগের বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে আলু চাষ মার খেয়ে ফলন অনেক কম হয়েছিল। তাতে বাজারে আলুর দর বেড়ে ৮০ টাকা পর্যন্ত ঠেকে। সে লোভের কারণেই এ বছর দেশজুড়ে ব্যাপক আলু চাষ হয়েছিল। আবার গত বছরের তুলনায় এ বছর আলু রাখতে হিমাগারের ভাড়াও বৃদ্ধি করা হয়েছে। একদিকে আলুর দরপতন অন্যদিকে আলু হিমাগারে রাখতে যেয়ে খরচ পড়েছে বেশি। তাই চাষি এবং ব্যবসায়ীরা উভয়ই এখন ক্ষতির মুখে পড়ছে। জেলায় ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে তার দ্বিগুণ। আবার এ জেলায় উত্তরাঞ্চলের লাল আলু এসে সয়লাব হয়ে গেছে। সেখানে হিমাগারের তেমন সুযোগ না পেয়ে তারা মুন্সীগঞ্জে এসে আলু রাখছেন। এ জেলার কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে মহাসংকটে পড়েছেন। প্রতি কেজি আলু এখন ১৩ থেকে ১৪ টাকায় হিমাগার থেকে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখন সামনে যদি আলুর দাম বৃদ্ধি না পায় তাহলে ভবিষ্যতে জেলায় আলু চাষ অর্ধেকে নেমে আসবে। তাতে করে আবারও সাধারণ ক্রেতাকে ৮০ টাকা কেজি দরে আলু খেতে হবে। তাই সরকারকে কৃষকের পাশে এখনই দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্র আলু কিনে তা দেশের গরিব মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। তাছাড়া আলু রপ্তানি বাড়ানো ছাড়াও কোনো গত্যন্তর নেই। এর মধ্যে সরকার ঘোষণা দিয়েছে ২৪ টাকা প্রতি কেজি দরে আলু ক্রয় করবে।
গত ৫ মৌসুমে আলুর উৎপাদন ও বাজার দরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক বছর উৎপাদন বেশি হলে দাম কম থাকে। লোকসানের মুখে পরের বছর কৃষক উৎপাদন কমালে বাজারে দামও বেড়ে যায়। সরকারী হিসেবেÑ ২০২২-২৩ মৌসুমে আলুর মোট উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৬ টন। প্রকৃত উৎপাদন এরচেয়ে বহুগুণ। অথচ চাহিদা ছিল ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন। খুচরা পর্যায়ে সরকার প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করে দেয় ৩৫-৩৬ টাকা। কিন্তু তা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রি হয় ৪৫ টাকার ওপরে, যা পাইকারি পর্যায়ে কেনা হয়েছিল ২৭ টাকায়। আলুর উদ্বৃত্ত থাকার পর কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তখন বাজার অস্থির করে। ফলে বিপাকে পড়ে আলুর ভোক্তারা। কৃষি বিপণন ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে তখন এমন পরিস্থিতির কারণও উল্লেখ করা হয়।
বলা হয়, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে। তারা হিমাগার থেকেও চাহিদা অনুসারে আলু খালাস করছে না। এমন চিত্রের দুই বছর পর দেশে আলুর উৎপাদনে রেকর্ড হয়েছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে মোট উৎপাদন এক কোটি ৩০ লাখ টন। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি ৪০ লাখ টন। কিন্তু এবারের ভুক্তভোগী চাষি নিজে। হিমাগার খরচসহ ২৫ টাকায় প্রতি কেজি উৎপাদনের বিপরীতে বিক্রি করছেন এলাকাভেদে ১৩-১৫ টাকায়। আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার দামের যে অবস্থা তাতে অনেক কৃষক আগামী বছর আলু চাষে বিমুখ হতে পারেন। তাতে আগামী বছর আলুর দাম আবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এক মাসে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম ১১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে দর কমেছে ৫৬ দশমিক ৯০ শতাংশ।
দেশে আলুর উৎপাদন বাড়লেও রপ্তানি সেই হারে বাড়ছে না। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে রপ্তানি হয়েছিল ৬৮ হাজার ৭৭৩ টন আলু। ২০২২ সালে ৭৮ হাজার ৯১০ টন আলু রপ্তানি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার টন। ২০২৪ সালে তা আরও কমে হয়েছে ১২ হাজার ১১২ টন। তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার টন আলু রপ্তানি হয়েছে। উদ্বৃত্ত থাকায় রপ্তানি আরও বাড়ানোর তাগিদ কৃষকের। বছরের ধারাবাহিকতা হিসাবে ধরলে রপ্তানির ক্ষেত্রেও মৌসুমভেদে বড় আকারের উত্থান-পতন দেখা যায়। এখন সমাধান কীÑএ নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় এসেছে।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) যে চিঠি দিয়েছে সেখানে একটি সমাধানের পরামর্শ উল্লেখ করা হয়েছে যেমনÑ ১. কৃষকদের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমাগার ফটকে আলুর ন্যূনতম বিক্রয় মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা জরুরি; ২. দেশের ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে দেওয়া চালের পাশাপাশি ১০ কেজি করে আলু দিতে পারে সরকার ৩. এটা সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে পারেও ৪. তারা সারা দেশে টিসিবির মাধ্যমে আলুর ট্রাকসেল করারও পরামর্শ দিয়েছে ৫. সমাধানের পরামর্শ নিয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, টিসিবির মাধ্যমে বিতরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকে। আলুর ভর্তুকি বিষয়ে অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের ওপর ভর্তুকির বিষয়টি নির্ভর করছে ৬. জানা গেছে, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে রংপুর বিভাগসহ দেশের ১৬টি জেলায় ৪৫০টি অহিমায়িত মডেল ঘরে আলু সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিল। গত অর্থবছরে রংপুর জেলায় ৭৫টি অহিমায়িত মডেল ঘরের মধ্যে ৪৫টিতে আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। আলুঘরগুলো কাজ করছে। সরকারের টাকা না থাকলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি তহবিল এই বিরল সফল প্রকল্পে আরও অর্থলগ্নি করেতে পারে। আত্রাইয়ের চাষিরা সহজ শর্তে ঋণ পেলে নিজেরাই ঘর বানিয়ে নেবেন বলে জানালেন।
এদিকে দাম পড়ে যাওয়ার সংকট মোকাবিলায় গত বছরের আগস্টে সরকার ৫০ হাজার টন আলু সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনার ঘোষণা দেয়। লক্ষ্য ছিল, বাজারে দাম স্থিতিশীল রেখে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। তবে সেই সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন হয়নি। পরে আলু কেনার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে সরকার।
একই সময়ে সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, হিমাগারের ফটকে আলুর সর্বনিম্ন দর হবে কেজিপ্রতি ২২ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সেই ঘোষণার পরও কৃষক দাম পাননি, বাজারে দর আরও নিচে নেমে যায়। ফলে হাজার হাজার টন আলু হিমাগারেই পচতে থাকে। সংরক্ষণ খরচ, সুদ ও পরিবহন খরচ মেটাতে না পেরে অনেক কৃষক আলু হিমাগার থেকে তুলতেই পারেননি। অনেকেই লোকসান গুনে আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন।
লোকসানের কষ্ট ভুলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন কৃষক। নতুন মৌসুমে আবারও তারা আলুর আবাদ করেন। এবারও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে একই কষ্টের গল্প। চড়া দামে সার ও কীটনাশক কিনে বেশি লাভের আশায় চাষ করা আলু এখন বিক্রি হচ্ছে পানির দরে। নতুন আলু বাজারে এলেও এখনও হিমাগারে পুরোনো আলুর উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম অস্বাভাবিক কমেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচও উঠছে না। অনেক এলাকায় কেজিপ্রতি আলুর দাম নেমে এসেছে উৎপাদন খরচের নিচে। এতে নতুন করে লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হওয়া, ঘোষিত ন্যূনতম দাম নিশ্চিত না করা এবং সময়মতো প্রণোদনা না দেওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে এই সংকট থেকে বের হতে হলে পরিকল্পিত উৎপাদন, কার্যকর সরকারি ক্রয়, সংরক্ষণ ও রপ্তানি ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। অন্যথায় উৎপাদনের প্রাচুর্যই বারবার কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে ফিরে আসবে।
প্রণোদনা এখনও ফাঁকা বুলি!
বাজারে নতুন আলুর দাম অস্বাভাবিক কম। এতে উৎপাদন খরচই তুলতে পারছে না অনেক কৃষক। কৃষক ও হিমাগার মালিকদের মতে, গত মৌসুমের উদ্বৃত্ত আলু এখনও হিমাগারে থাকায় বাজারে সরবরাহ বেশি। ফলে নতুন আলু ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।
গত বছর লোকসানের পর কৃষককে উৎসাহ দিতে কৃষি মন্ত্রণালয় প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছিল। এই অর্থবছরে আলুচাষির জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১১০ কোটি টাকা ভর্তুকির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। তবে মাঠ পর্যায়ে এখনও কোনো কৃষক প্রণোদনা পাননি। এর আগে উদ্বৃত্ত আলু কিনতে ৫০ হাজার টন প্রকিউরমেন্টের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। তবে বাজারে পুরোনো আলুর মজুত থাকায় নতুন আলুর দাম চাপে রয়েছে।
সময়মতো প্রণোদনা কার্যকর না হওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগস্টে আলু কেনার ঘোষণা দিয়েও সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। এতে সংকট আরও বেড়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশে গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নতকরণ এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা হয়েছে। গত প্রায় তিন দশকে বিশ^ব্যাপী আলুর চাহিদা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পণ্যটির ব্যাপক বাজার চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ভারত। তার সুফলও পেয়েছে তারা।
আর বাংলাদেশ শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। ফলে প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত থাকছে ও নষ্ট হচ্ছে। ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। কৃষি মন্ত্রণালয়কে তাই বিপণন, বিকল্প ব্যবহার, রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাত জোরদার করার উদ্যোগ নিতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












