জীবনী মুবারক
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
পবিত্র বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) পবিত্র বিছাল শরীফ: হিজরী ৩৮ সন (৬৫৭ খ্রি:)
, ১লা ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত
ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সাক্ষাত:
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি এ স্থানে অবস্থান করুন, আমি পবিত্র মক্কা শরীফে গিয়ে আপনার খরচের জন্য কিছু নিয়ে আসছি। আর আমার এই কাপড়খানা আপনার নিকট রেখে যাচ্ছি, আমার ও আপনার মধ্যে ওয়াদার সাক্ষ্য হিসাবে। তিনি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার ও আপনার মধ্যে কোন ওয়াদার প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয় না, আজকে দিনের পর আমাকে আবার পাবেন। খরচা দিয়ে আমার কি হবে? কাপড় দিয়েই বা আমার কি হবে? আপনি কি দেখছেন না, আমার একটি পশমি ইযার (লুঙ্গী) ও একটি পশমি চাদর রয়েছে। এগুলো ছিঁড়ে যাওয়া পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকবো, তা আপনি কি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন?
আপনি কি বলতে পারেন, আমার এই পুরাতন সেন্ডেল জোড়া অকেজো হওয়া পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকবো? আমি পশু চরিয়ে পারিশ্রমিক হিসাবে ৪ দিরহাম পেয়েছি, আপনি কি বলতে পারেন ইহা খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত আমি অবকাশ পাবো? হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার এবং আমার সম্মুখে রয়েছে একটি বিস্তীর্ণ সংকটপূর্ণ উপত্যকা যা হালকা বোঝা না হলে কোন পথিক অতিক্রম করতে পারবে না।
তিনি আরো বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি এ পথ ধরুন, আর আমি এই পথ ধরি। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফের পথ ধরলেন। আর হযরত উওয়ায়েস ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার উটগুলি হাঁকিয়ে নিয়ে চললেন এবং উটের মালিককে উটগুলি সোপর্দ করে নিজে এ কাজ থেকে অব্যাহতি নিলেন। অতঃপর তিনি বিছাল শরীফ পর্যন্ত খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকলেন। (হিলইয়াতুল আওলিয়া)
হযরত উওয়াইস আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের সাক্ষাত ও আলোচনা সীরতের কিতাবসমূহে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ হযরত শায়েখ ফরীদুদ্দীন আত্তার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত তাযকিরাতুল আওলিয়া কিতাবে এই ঘটনার বর্ণনা এভাবে দেয়া হয়েছে-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের অনেক পরে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা কূফায় গিয়ে খুতবার মধ্যে সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, হে কূফাবাসীগণ! আপনারা কি হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সন্ধান দিতে পারেন? উনারা উত্তরে বললেন, তিনি একজন পাগল, লোকালয়ে বাস করেন না, জঙ্গলে উট চরিয়ে থাকেন। দিনশেষে একবার শুকনা রুটি আহার করেন। লোকে যখন হাসে, তিনি তখন কাঁদেন। আর লোকে যখন কাঁদে তিনি তখন হাসেন।
এরপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা একটি নির্জন স্থানের দিকে রওয়ানা হয়ে উনাকে প্রথমে নামাযরত অবস্থায় দেখেন। তিনি লোক আগমনের শব্দে নামায সংক্ষেপ করে ছাহাবীগণ উনাদেরকে সালাম দেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার সালামের জাওয়াব দিয়ে উনার নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা)। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমরা সবাই মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা। আপনার প্রকৃত নাম কি? উত্তরে তিনি বললেন, উওয়ায়েস।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনার ডান হাত খানা দেখান। হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ডান হাত দেখালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নছীহত মুবারক অনুযায়ী উনার ডান হাতে সাদা চিহ্ন দেখতে পেয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার হাতে চুম্বন করে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং নিজ খিরকা মুবারক আপনাকে দান করেছেন এবং উনার উম্মতগণের জন্য দোয়া করতে বলে গিয়েছেন।
হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, দোয়ার জন্য তো আপনারাই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং উপযুক্ত। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমরা তা করছি। কিন্তু আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক পালন করুন। হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আপনি বিশেষভাবে বিবেচনা করে দেখুন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যার কথা বলেছেন তিনি অন্য কেউ হবেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনার হাতের যে চিহ্নের কথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে গেছেন, আমি সে চিহ্ন দেখছি।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৩য় পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (২য় পর্ব)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১ম পর্ব)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী আজমেরী সানজেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আনিসুল আরওয়াহ্” নামক কিতাবে দস্তরখানা ব্যবহারের গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাক্বওয়া পরহেযগারী: সাত বছর ছাগলের গোশত খেলেন না!
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












