জীবনী মুবারক
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১ম পর্ব)
পবিত্র বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) পবিত্র বিছাল শরীফ: হিজরী ৩৮ সন (৬৫৭ খ্রি:)
, ০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
পরিচিতি:
নাম মুবারক: হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি।
পিতার নাম: ‘আমির বিন জায্।
ইয়ামান দেশের মুরাদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আল-ক্বারান উপগোত্রে উনার বিলাদত শরীফ। সে জন্যই উনাকে আল-ক্বারানী বলা হয়ে থাকে। (তাবাকাত)
কেউ কেউ মনে করে থাকেন, তিনি ক্বারান নামক স্থানের লোক বিধায় উনাকে আল-ক্বারানী বলা হয়, তা ঠিক নয়। গোত্রের নাম অনুসারেই উনাকে আল-ক্বারানী বলা হয়ে থাকে, যা উনার নসবনামা থেকে স্পষ্ট।
প্রাথমিক জীবন:
উনার প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দান্দান মুবারক শহীদ হয় উহুদের জিহাদে হিজরী ৩য় সনে। বর্ণিত আছে যে, এ খবর শুনে তিনি উনার নিজের সমস্ত দাঁতগুলি ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। সুতরাং উনার ইসলাম গ্রহণ হিজরী ৩ সনের কাছাকাছি এর পূর্বে অথবা পরেও হতে পারে।
বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত উওয়াইস আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আম্মা ইয়ামানে অসুস্থ ছিলেন এবং উনাকে দেখাশোনা করার জন্য উনার অন্য কোন নিকট আত্মীয় ছিলেন না। সেইজন্য তিনি উনার আম্মার খিদমতে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিলেন। মায়ের খিদমতে নিয়োজিত থাকার কারণে তিনি নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মদীনা শরীফে এসে সাক্ষাত করতে পারেননি এবং এজন্যই তিনি ছাহাবী হতে পারেননি। কিন্তু তিনি যে সর্বশ্রেষ্ঠ তাবে‘ঈ ইহা বিভিন্ন হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
পরবর্তী জীবন:
একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
أويس القرنى خير التابعين بإحسان
(উওয়াইস আল-ক্বারানী নিষ্ঠাবান তাবে‘ঈদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ)। (হিলইয়াতুল আওলিয়া)
অন্য একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
خليلى من هذه الأمة أويس القرنى
(এই উম্মতের উওয়াইস আল-ক্বারানী আমার খলীল বা নিকটতম বন্ধু)। (তাবাকাত)
অপর একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন-
إن خير التابعين رجل يقال له أويس، و له والدة، و كان به بياض، فمروه فليستغفر لكم-
(তাবে‘ঈদের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছেন উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার মাতা জীবিত আছেন। উনার শরীরে একটি শ্বেত চিহ্ন রয়েছে। আপনারা উনাকে বলবেন তিনি যেন আপনাদের জন্য (অর্থাৎ সমস্ত উম্মতের জন্য) ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
অন্য একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফে আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে বলেছেন, উওয়ায়েস ইবনে ‘আমির মুজাহিদদের সাহায্যার্থে আগত ইয়ামানবাসীদের সাথে আপনাদের নিকট আসবেন। তিনি মুরাদ গোত্রের ক্বারান শাখার অন্তর্ভুক্ত। উনার শ্বেত রোগ ছিল, কিন্তু এক দিরহাম পরিমান স্থান ব্যতীত তিনি ইহা হতে আরোগ্য লাভ করেছেন। উনার মাতা জীবিত আছেন এবং তিনি উনার খিদমত করেন। তিনি কোন বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার কসম করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উহা পূরণ করেন। উনার দ্বারা আপনাদের জন্য (অর্থাৎ সমস্ত উম্মতের জন্য) মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করাতে সক্ষম হলে, তা করবেন। (মুসলিম শরীফ, ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা, সিয়ারু আলামিন নুবালা) (চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী আজমেরী সানজেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আনিসুল আরওয়াহ্” নামক কিতাবে দস্তরখানা ব্যবহারের গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাক্বওয়া পরহেযগারী: সাত বছর ছাগলের গোশত খেলেন না!
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












