মন্তব্য কলাম
বিদেশে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের দশ লাখ টাকার ব্যাংক সহযোগিতার ঘোষণা- যুগপৎ দুর্ভাগ্যজনক এবং আত্মঘাতী যা মেধা পাচার, অর্থ পাচার এবং দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থার উৎকর্ষতা সাধনে অবহেলার দৃষ্টিভঙ্গী। দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়াতে হবে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে অতি সত্ত্বর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ইনশাআল্লাহ।
, ২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এ পদক্ষেপে আমরা আশাহত, দুঃখিত এবং মর্মাহত। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন তার একটা পরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনার সার্থক রূপ দেখিয়েছেন, মালয়েশিয়ার মাহাথির। তিনি একদিকে বলেছিলেন, তোমরা আমাকে ১০টা মালয় যুবক দেও আমি তাদেরকে নিয়ে জাতি গঠন করব। অপরদিকে তিনি বিদেশে থাকা বিজ্ঞ, দক্ষ, প্রাজ্ঞ মালয় নাগরিকদের দেশ গড়ার উদাত্ত আহবানে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন। তাদের সম্মিলিত মেধা ও প্রচেষ্টায়, আলহামদুলিল্লাহ মালয়েশিয়া এখন অনেক সমুন্নত দেশ।
অভিজ্ঞমহল আশা করেছিলেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের একটা ইতিবাচক পরিকল্পনা পেশ করবেন।
কিন্তু তার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী যে পদক্ষেপ নিলেন তাতে দেশ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আরো ব্যাপক দেশ ছেড়ে যাবে। দেশ আরো মেধা শুণ্য হবে। দেশ গঠন অনেক পিছিয়ে এবং নেতিয়ে পড়বে। (নাউযুবিল্লাহ)
দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বছরে বছরে বাড়ছে। তাতেও উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়া কমছে না। বরং গত ১০ বছরে বিদেশগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
ইউনেসকোর ‘গ্লোবাল ফ্লো অব টারশিয়ারি লেভেল স্টুডেন্টস’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য গেছে ৫৫টি দেশে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশ করা বিগত পাঁচ অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদেশগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এক্ষেত্রে ব্যয়ও ক্রমেই বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা ব্যয় করেছেন ৬৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ব্যয় ছিল ৫৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫২ কোটি ৮ লাখ ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ কোটি ৩১ লাখ ডলার অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে এ ব্যয় আড়াই গুণের বেশি বেড়েছে। আর শুধু বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।
অনেক আগে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যেত। এরপর ধনাঢ্য পরিবারের ইংরেজি মিডিয়ামে পড়া শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যাওয়া শুরু করল। বর্তমানে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে যারা একান্তই বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে যেতে পারছে না, তারা ছাড়া সব মাধ্যমের শিক্ষার্থীরাই বিদেশে পড়তে যেতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ধনাঢ্যরা তো আছেই, সেই সঙ্গে উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরাও যে কোনো উপায়ে দেশের বাইরে পড়তে যেতে চাচ্ছে। মা-বাবারা তাদের জমানো অর্থ ভেঙে বা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সন্তানদের বর্তমানে বিদেশে পড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন। এর কারণ কী।
আজকাল বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে ও নাগরিকত্ব লাভে আগ্রহী।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদেশে গবেষণামুখী শিক্ষা, পর্যাপ্ত পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা, চাকরির নিশ্চয়তা, রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ছুটে চলছে বিদেশে। একসময় শুধু উচ্চবিত্ত শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখিতা থাকলেও এখন মধ্যবিত্তরাও সমান তালে দৌড়াচ্ছে।
সম্প্রতি ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালনায় 'নেক্সট জেনারেশন বাংলাদেশ ২০২৪' গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৫৫ শতাংশেরই ইচ্ছা বিদেশে পাড়ি জমানো।
মূলত বিদেশে পড়াশোনার জন্য যাওয়া তাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই পড়াশোনা শেষে আর দেশে ফিরে আসতে চায়না এবং তারা সেখানেই স্থায়ী হয়ে যেতে চায়, চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে। আর তাদের এই ইন্টারমিডিয়েট শেষেই বিদেশে চলে যাওয়া ও না ফিরতে চাওয়ার জন্য অধিকাংশেই দায়ী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও আমাদের দেশের চলমান শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান। এতে মূলত আমাদের দেশের লাভের চেয়ে ক্ষতিটাই বেশি হচ্ছে। কিভাবে ক্ষতি হচ্ছে? কিছু কিছু ক্ষতি আছে যা পরিসংখ্যানে দেখানো যায় না। ক্ষতিটা হচ্ছে মূলত সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থাৎ মেধাবৃত্তিক। আমরা হয়তো তাদের নিকট হতে রেমিট্যান্স পাচ্ছি, আবার কারো কারো কাছ থেকে সেটাও পাচ্ছি না। তবে আমরা দেশে যে মেধাকে কাজে লাগানোর কথা ছিল আমাদের সেই মেধাগুলো কাজে লাগাচ্ছে ঐসব দেশগুলো। এইযে তারা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে তাদের দেশে শিক্ষার ব্যবস্থা বা পড়াশোনার সুযোগ করে দিচ্ছে এটা কি তারা এমনি এমনিই করে দিচ্ছে? না, অবশ্যই না। এখানে তাদের অবশ্যই অনেক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। কেননা এই শিক্ষার্থীরা খুব সহজে পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে মিশে যাচ্ছে। শিক্ষার পাশাপাশি তাদের দ্বারা সংস্কৃতি চর্চা করারও একটা বাড়তি সুবিধা আছে। এতে তাদের নিজেদের সংস্কৃতির একটা প্রচার ও প্রসার হচ্ছে। কেননা প্রত্যেক দেশ/জাতি তাদের নিজেদের সংস্কৃতির চর্চা ও প্রচার, প্রসার চায়। তারা এই কাজটা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে করিয়ে বেশি সফল বোধ করছে, এবং তারা সফলও হচ্ছে। এইজন্য বর্তমানে দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের বদলে ছাত্র ভিসায় শিক্ষার্থীদেরকে যাওয়ার জন্য বেশি সুযোগ দিচ্ছে।
অতএব, সরকারের দায়িত্ব হবে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা। আর সাথে সাথে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশের মধ্যেই সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং তাদের মাধ্যমে দেশকে উন্নত করার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ; একটি দেশ ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী অধ্যাদেশ। অধ্যাদেশে বাঙ্গালীদের বাদ দিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য চালু হয়েছে কোটাপ্রথা, উপজাতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে সশস্ত্রবাহিনীও বিচারের আওতায়, পশ্চিমা অমানবিকতাকে প্রাধান্য।
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খনিজ সম্পদে ভরপুর সোনার বাংলা। অথচ অনুসন্ধানের অভাবে অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে বেশীরভাগ খনিজ সম্পদ। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাবিষ্কৃত তেল গ্যাসই দেশের চাহিদা মিটিয়ে দিতে পারে।
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সন্ত্রাসী আম্রিকা যুদ্ধের নামে বাঁচতে চায়। ভূয়া অস্ত্র বেঁচে টাকা লুট করতে চায় ভূয়া আম্রিকানরা মনে করে আম্রিকা যুদ্ধে সেরা অথচ মেক্সিকো, স্পেন, জার্মানসহ কয়েকটি কাফের রাষ্ট্র ছাড়া কানাডা ভিয়েতনামসহ অনেক কাফের রাষ্ট্রের কাছেও তারা শোচনীয়ভাবে হেরেছে
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে ইরানের একটি ২০ হাজার ডলারের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিরোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। যা যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন অর্থনৈতিক শিক্ষার মুখোমুখি করেছে।
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইহুদী-খ্রিষ্টান-হিন্দুরা কোন মুসলিম দেশ ধ্বংস ও দখল করার আগে সে দেশে তাদের অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়। চলচ্চিত্র নামক বিধ্বর্মীদের জাহান্নামী সংস্কৃতির ফাঁদে মুসলিম উম্মাহ।
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
“বিশ্বের সব মুসলমান একটি দেহের ন্যায়”- এ হাদীছ শরীফের শিক্ষা মুসলমানেরা নেয়নি। কিন্তু কাফিররা এ হাদীছ শরীফের ফায়দা নিয়ে এত শক্তিশালী।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের দম্ভকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবেন: ইরানের জনগণকে উদ্দেশ্য করে ইয়েমেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সবেমাত্র আগ্রাসী ইসরায়েলকে শাস্তি দেয়া শুরু করেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানই ঠিক করবে যুদ্ধ কখন শেষ হবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে: খামেনি ২ সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পরাজিত করেছে ইরান
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বহুমুখী সমস্যায় পতিত দেশের আগর-আতর শিল্প পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আতর শিল্পে নেই আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ সঙ্কট ও সমস্যা সমাধান করে আগর-আতর শিল্প থেকে ইনশাআল্লাহ রফতানি হতে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম দেড় মাসে, অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ দিনে সরকার ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে।
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












