মন্তব্য কলাম
খনিজ সম্পদে ভরপুর সোনার বাংলা। অথচ অনুসন্ধানের অভাবে অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে বেশীরভাগ খনিজ সম্পদ। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাবিষ্কৃত তেল গ্যাসই দেশের চাহিদা মিটিয়ে দিতে পারে।
, ২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব মাহবুব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রহমতে তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ দেশ বাংলাদেশ। যুগে যুগে তা-ই দেখা গেছে।
বাংলাদেশে সিলেটের হরিপুরে ১৯৮৬ সালে প্রথম তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। জরিপ অনুযায়ী হরিপুর তেলক্ষেত্রে অন্তত ১ কোটি (বা ১০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। তেলক্ষেত্রের নিজস্ব প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। অতঃপর অদৃশ্য কারণে তেল স্তরের চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোনো পাম্প স্থাপন করা করা হয়নি বা তেলক্ষেত্র উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন উৎপাদন পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়নি। মাটির নিচে রয়ে যায় বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল।
২০২৩ সালে সিলেট গ্যাসফিল্ডের ১০ নম্বর কূপে দেশের ২য় তেল ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। সরকারের নিয়োগকৃত কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন কোম্পানি স্লামবার্জার তার রিপোর্টে তেল ক্ষেত্রটিতে উত্তোলনযোগ্য মজুদ প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল বলে উল্লেখ করে। চলতি বছরে এই কুপ থেকে সরকার তেল উত্তোলনের প্রস্তুতির কথা বলেছে।
এর আগে ২০১২ সালে সিলেটের দুটি গ্যাসক্ষেত্রে ১৩৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় পেট্রোবাংলা। সন্ধান পাওয়া তেলের ১০৯ মিলিয়ন ব্যারেল রয়েছে সিলেট গ্যাসফিল্ডের ৭ নম্বর কূপ কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রে। আর বাকি ২৮ মিলিয়ন ব্যারেল রয়েছে হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে।
এদিকে সিলেটে গোয়াইনঘাটের সিলেট-১২ নম্বর কুপে নতুন করে তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি একটি নতুন খননকৃত অনুসন্ধান কূপ। এখনো কাজ চলমান। যেখান থেকে প্রতিদিন ৮০০ ব্যারেল তেল উত্তোলন করা যাবে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মোট ৩৪টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ৩০টি চলমান রয়েছে। বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোই দেশের সিংহভাগ গ্যাস সরবরাহ করে। দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৫০-৬০ ভাগ আসে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অবশিষ্ট আছে।
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র মজুদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র। সিলেটের কৈলাশটিলা এটি মজুদের দিক থেকে বাংলাদেশে চতুর্থ অবস্থানে। এখানে গ্যাসের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ কনডেনসেট (তেল জাতীয় উপজাত) পাওয়া যায়।
নতুন আবিষ্কৃত শাহবাজপুর ও উত্তর ভোলা ক্ষেত্রগুলোকে এখন ভবিষ্যতের আশার আলো বলা হচ্ছে। এই অঞ্চলের তিনটি ক্ষেত্র (শাহবাজপুর, ভোলা উত্তর ও ইলিশা) মিলিয়ে প্রায় ১.৫ থেকে ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে।
শুধু পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রই নয় বরং প্রায়ই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হচ্ছে।
গত ১৪ মার্চ কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ নম্বর কূপ উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। বাপেক্স কর্তৃক নতুন ১১টি গ্যাসকূপের খনন ও ওয়ার্কওভার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কার্যক্রম শেষে কূপগুলো থেকে দৈনিক ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। এছাড়া বাপেক্সের মোবারকপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শ্রীকাইলে কূপ খনন শেষে সেখানে পাওয়া যাবে আরো ১ হাজার ১৮ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস। মূলতঃ তেল, গ্যাস সহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদে বাংলাদেশ ভরপুর এটাই এ যাবতকালের প্রমাণিত সত্য কথা।
উল্লেখ্য দেশের তেল গ্যাস অনুসন্ধানে পেট্রোবাংলা স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে গভীর ও অগভীর সমুদ্র নিয়ে সারাদেশকে ৪৮টি ব্লকে ভাগ করেছে। এগুলো হচ্ছে, গভীর সমুদ্রে ১৫টি, অগভীর সমুদ্রে ১১টি এবং স্থলভাগে ২২টি ব্লক রয়েছে। তবে এর মধ্যে ২২ নম্বর ব্লক পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুসন্ধানের এখনো তেমন কোন উদ্যোগ নেই সরকারের।
অথচ ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে তেল-গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা ভূ-তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত প্রবল। এই অঞ্চলটি একটি 'হাই-প্রেশার জোন' এবং এখানে গ্যাসের বড় বড় কাঠামোর অস্তিত্ব রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে হিমালয় পর্বতমালা গঠনের ফলে সৃষ্ট বেশ কিছু ভাঁজ বা 'অ্যান্টিলাইন' রয়েছে। এখানের ভূ-তাত্ত্বিক গঠন অনুকূল রয়েছে। এই ধরনের ভাঁজগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেল জমে থাকার আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে সিলেটের (যেখানে সবচেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়া যায়) সাথে পার্বত্য অঞ্চলের অনেক মিল রয়েছে।
পার্বত্য খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের সীতাকু- অঞ্চলে ইতিমধ্যে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। খাগড়াছড়ির সেমুতাংয়ে ১৯৬৯ সালেই গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে। বর্তমানে বাপেক্স এই ক্ষেত্রটি থেকে দৈনিক প্রায় ২ থেকে ৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করছে।
সীতাপাহাড় ও গোবামুড়া এলাকায় বাপেক্স সিসমিক সার্ভে করে গ্যাসের বড় মজুদের ইঙ্গিত পেয়েছে। এছাড়া বান্দরবানের কাসালং ও আলীকদমেও গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্লক ছাড়াও অন্যান্য ব্লকগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে স্থবির অবস্থায় আছে অথবা নতুন বিনিয়োগকারীর অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। বর্তমানে মাত্র ৫-৬টি ব্লকে বিদেশি কোম্পানিগুলো কাজ করছে।
স্থলভাগের (অনশোর) ২২টি ব্লকের মধ্যে ৩টি ব্লকে বর্তমানে শেভরণ কাজ করছে। ৯ নম্বর ব্লকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ক্রিস এনার্জি গ্যাস উৎপাদন (বাঙ্গুরা গ্যাস ক্ষেত্র) করছে।
বাকি ১৮টি স্থলজ ব্লকের কয়েকটিতে বাপেক্স কাজ করছে। এবং সমুদ্রভাগ (অফশোর) ব্লক বর্তমানে প্রায় স্থবির রয়েছে। সমুদ্রের ২৬টি ব্লকের (১১টি অগভীর ও ১৫টি গভীর) অবস্থা বর্তমানে হতাশাজনক।
অগভীর সমুদ্র ভারতের কোম্পানি ওএনজিসি বিদেশ এবং ওয়েল ইন্ডিয়া ৪ ও ৯ নম্বর ব্লকে কাজ করছে। ১০ বছরেও তারা কোন সফলতা অর্জন করতে পারেনি।
অর্থাৎ বেশীরভাগ ব্লকই অনুসন্ধানের বাহিরে রয়ে গেছে। অনাবিষ্কৃত তেল, গ্যাসক্ষেত্রগুলো আবিস্কারে সরকারের গভীর মনোযোগী হতে হবে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশের মজুদের এক বিশাল সম্ভাবনা রয়ে গেছে। এই ব্লককে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
পাশাপাশি ব্লকগুলো একচেটিয়া বিদেশীদের হাতে তুলে না দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তি অর্জনে সরকার তার্কিশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের সাথে চুক্তি করতে পারে।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সরকার থেকে খাস বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের দাপটে ভূমির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভূমিহীনরা।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“আঃলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে কি করবে তার পরিকল্পনা ফাঁস আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার হওয়া উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মার্কিনীরা তাদের পতিত সরকারকেই নূতন করে তুলে ধরে অপেক্ষাকৃত বেশি লুটতরাজের শর্তে। নূতন করে মার্কিন গোয়েন্দাদের আনা-গোনা কি তারই আলামত!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন এমনকী জানালার পর্দা চাইলো জামায়াত এমপি বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’ সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক। এমপিদের জন্য বরাদ্দ প্রদান সংবিধান পরিপন্থী সংসদে বসে সাংসদরাই সংবিধান বিরোধী কাজ এবং নিজস্ব ভোগ বিলাসে তথা লুটতরাজে মত্ত (২য় পর্ব)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












