ইতিহাস
বাংলার সীমান্ত রক্ষায় শহীদ মেজর তোফায়েল মোহাম্মদের আত্মত্যাগ
, ২৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৬ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইতিহাস
৭ আগস্ট ১৯৫৮, লক্ষ্মীপুর সীমান্ত। ভারী অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত ভারতীয় বাহিনীর বড় একটি দল গোপনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভেতরে প্রবেশ করে লক্ষীপুর সংলগ্ন একটি এলাকা দখল করে।
মেজর তোফায়েল, যিনি কিনা তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের কোম্পানি কমান্ডার, তৎক্ষণাৎ ৩টি দল নিয়ে রাতের অন্ধকারে শত্রু ঘেরাও করে আক্রমণ চালান।
উনার উদ্দেশ্য ছিলো ২টি- প্রথমত: ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসন রুখে দেয়া ও দ্বিতীয়ত: হারানো সীমান্ত পুনরুদ্ধার করা।
কিন্তু শত্রু বাহিনী ততক্ষণে দখল করা এলাকায় বাঙ্কার তৈরি করে ভিতরে মেশিন গান বসিয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যা জানা ছিলো না আক্রমণকারী মেজর তোফায়েলের বাহিনীর। সুতরাং ভূমি পুনরুদ্ধারের এই তড়িৎ অপারেশন চালু করতেই ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয় উনাকে। ভারতীয় মেশিনগানগুলো বাঙ্কারের ভিতর থেকে গুলি ছুড়তে থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়া মেজর তোফায়েলদের জন্য মুশকিল হয়ে পড়ে।
এদিকে বাঙ্কার বিধংসী কোন ভারী অস্ত্র ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের কাছে মজুদ ছিলো না। কিন্তু এতো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও হালকা অস্ত্রে সজ্জিত ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের দলগুলোকে নিয়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মেজর তোফায়েল পৌঁছে যান শত্রু পক্ষের বাঙ্কারের স্রেফ ১৫ গজ দূরে! বাঙ্কারের কাছাকাছি পৌঁছাতেই শত্রুর ছোড়া তিনটি গুলি মেজর তোফায়েল এর পেটে লাগে। তবুও তিনি থামেননি। শত্রুর বাঙ্কারে ফিট করা প্রথম মেশিনগানটি তিনি গ্রেনেড ছুড়ে ধ্বংস করেন, দ্বিতীয় মেশিনগানও নিস্তেজ করেন। এক পর্যায়ে তিনি হ্যান্ড টু হ্যান্ড যুদ্ধে অবতীর্ণ হন ও নিজের হেলমেট দিয়ে শত্রুকে আঘাত করে ঘায়েল করেন ও নিজের সৈনিকদের জীবন রক্ষা করেন।
যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে রক্তক্ষরণের ফলে তিনি ততক্ষণে নিস্তেজ হয়ে গেলেন। তারপরও নিজের সর্বশক্তি দিয়ে সেনাদের নেতৃত্ব দেয়া চালিয়ে যান যতক্ষণ না পর্যন্ত শত্রুকে পিছু হটতে বাধ্য করেন। যুদ্ধ শেষে বন্দী হয় শত্রুর তিনজন, নিহত হয় চারজন। হাসপাতালে নেওয়ার আগে উনার শেষ কথা ছিলো
I have completed my duty the enemy is on the
run.
.
আর এভাবেই শহীদ হয়ে যান মেজর তোফায়েল মোহাম্মদ। এই বীরত্বের জন্য তিনি পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান নিশান-এ-হায়দার পান। উনার কবর এবং স্মৃতিসৌধ এখনো আছে বি-বাড়িয়া পুরনো আদালতের সম্মুখে দীঘির পাড়ে। স্বাধীন বাংলাদেশের মূলধারার ইতিহাসে এই সীমান্ত রক্ষার লড়াই, ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবিলা, আর ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস এর ত্যাগ প্রায় সম্পূর্ণই অনুপস্থিত। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৫৪০০ জনেরও বেশী বাংলাদেশী বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলেই ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিহত হন ১৮০০ জন। আর বিএনপির সর্বশেষ শাসন আমলে ২০০১-২০০৬ নিহত হন ৪০০ জন বাংলাদেশী। মোট কথা বাংলাদেশে কোনও সরকারই ভারতের আগ্রাসন মোকাবেলা করতে পারে নাই একমাত্র প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছাড়া।
এত হত্যাকা-ের পরও আজকের বাংলাদেশ সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে কোনও দৃঢ় জবাব দিতে পারছে না। অথচ মেজর তোফায়েলদের সময়, সেনাবাহিনী ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস আগ্রাসনের জবাব সঙ্গে সঙ্গে দিতো এবং সীমান্ত রক্ষা করতো দৃশ্যমানভাবে। ইতিহাস বলে, সীমান্ত প্রতিরক্ষা করার ক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
-মুহম্মদ মুশফিকুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালী পুলিশ বিভাগের ইতিহাস (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












