ইতিহাস
ফ্রান্সের অব্যাহত লুটপাট! একটি সমৃদ্ধ জনপদের ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার না জানা ইতিহাস (১)
, ২৮ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ইতিহাস
অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ কথাটা শুনলেই আমাদের মানসপটে ভেসে আসে আফ্রিকা মহাদেশের (উত্তর আফ্রিকা বাদে) কথা। অথচ আফ্রিকা কখনোই অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ ছিলো না। তাকে অন্ধকারে আবৃত করেছে ফরাসি, বেলজিয়াম, পর্তুগিজ সহ ইউরোপীয় সভ্য (!) দেশগুলো।
মধ্যযুগে আফ্রিকার (বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার) এক সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য ছিলো। উত্তর আফ্রিকা মোটামুটি তা ধরে রাখতে পারলেও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো এখন দারিদ্রতার অতল গহীনে পর্যবসিত। অথচ এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটি পশ্চিম আফ্রিকার অধিবাসী।
আসুন দেখে নিই মধ্যযুগে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশগুলোর সমৃদ্ধ ইতিহাসের দিনগুলি।
পশ্চিম আফ্রিকায় আরব বণিকদের আগমন: নতুন যুগের সূচনা যেখান থেকে!
জাজিরাতুল আরবে দ্বীন ইসলাম আবির্ভাবের পরপরই এটি জাজিরাতুল আরব পাড়ি দিয়ে ১০০ বছরের মধ্যেই উত্তর আফ্রিকা (মাগরেব) হয়ে পৌঁছে যায় ইউরোপীয় ভূখন্ডে। অর্থাৎ ৭ম শতাব্দীর মধ্যেই বিস্তীর্ণ সাহারা মরুভূমির উত্তর অংশে ইসলাম পৌঁছে যায়। কিন্তু মুসলিম সৈন্যদলের পক্ষে সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিয়ে দ্বীন ইসলামকে পশ্চিম আফ্রিকা তথা সাব সাহারা অঞ্চলে আনা সম্ভব হয়নি।
কিন্তু মুসলিম বণিকরা এই সময় বাণিজ্যের জন্য ব্যাপকহারে সাব সাহারা অঞ্চলে গমন করতো। বিশেষ করে ঘানা তে তখন একটা সাম্রাজ্য ছিলো যা ব্যাবসা বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিলো সে যুগে।
১) ঘানা সাম্রাজ্যে ইসলাম ও ঘানার অর্থনৈতিক অবস্থা:
তৎকালীন ঘানা সাম্রাজ্যটি আজকের মৌরতানিয়া, সেনেগাল, নাইজার ও মালি নিয়ে গঠিত একটি সমৃদ্ধ সাম্রাজ্য (আজকের ঘানা রাষ্ট্র ও তৎকালীন ঘানা সাম্রাজ্য অবশ্য এক জায়গা না)। সমৃদ্ধ রাজ্য হওয়ায় এই রাজ্যে ব্যবসা বাণিজ্য উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই আসতো।
বিখ্যাত আন্দালুসিয়ান ঐতিহাসিক আল বাকরি এগারো শতাব্দীতে ঘানা সফর করেন।তার মতে, ঘানা অর্থনৈতিকভাবে খুবই উন্নত ছিলো।
ঘানা সাম্রাজ্যের রাজাদের দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার দলিল পাওয়া যায়নি। তবে তারা মুসলিম বণিকদের সাথে নিয়মতি বাণিজ্যক লেনদেন করতো। শহরের একদিকে মুসলমানদের আবাস ছিলো। আর বাকরির মতে, ঘানার রাজধানী দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত ছিলো। যার একদিকে থাকতো মুসলিমরা। সেখানে বারোটি মসজিদ ও ছিলো।
বিখ্যাত আন্দালুসিয়ান ঐতিহাসিক আল বাকরি আরো বলেন, সেখানকার রাজা মুসলিম না হলেও তার অনেক মন্ত্রী ও পরিষদবর্গ মুসলিম ছিলো। ফলে এই সাম্রাজ্যের সাথে আরবদের একটা যোগাযোগ ছিলো। যার ফলে আরব বণিক এবং এই সাম্রাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য বহুল পরিমাণে সম্পাদিত হতো।
ঘানা সাম্রাজ্যের সিজিলমাসা শহর থেকে মুসলিম বণিকরা দুইদিকের রুটে বাণিজ্য করতো।
একটা রুট ছিলো: সিজিলমাসা-টেগহাসা-আওডাগাস্ট।
আরেকটি রুট হলো: সিজিলমাসা-তওয়াত-গাও-টিম্বাকটু।
ঘানা সাম্রাজ্য নিয়ে সর্বপ্রথম লিখেন মুসলিম ঐতিহাসিক আল খাওয়ারিজমি। উনার মতে, মুসলিম বণিকরা এই সমস্ত শহরে অবাধে বিচরণ করার সুবাদে এখানকার মানুষ দ্বীন ইসলামের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। অনেক বণিক এসব শহরগুলোতেই বিয়ে করে থেকে যান। পাশাপাশি কিছু কিছু উপজাতিও দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে। এভাবে একটি মুসলিম কমিউনিটি গড়ে উঠে ঘানা সাম্রাজ্যে।
অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী ঘানা সাম্রাজ্যে প্রায় তিনশ/চারশ বছর ধরে সংখ্যালঘু মুসলিমরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই বসবাস করে। এরপর একটা সময় উত্তর আফ্রিকার আল মুরাবিদ এবং মালি সাম্রাজ্যের আক্রমণে অবসান ঘটে ঘানা সাম্রাজ্যের।
ঘানা সাম্রাজ্যের অবসানে সেখানে গড়ে উঠে মালি সাম্রাজ্য। আর এই মালি সাম্রাজ্য পশ্চিম আফ্রিকাকে নিয়ে যায় অর্থনীতি ও রাজনৈতিকভাবে সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায়। মালি সাম্রাজ্যে নিয়ে পরে আলোচনা করা হবে।
২) টেকুর রাজ্য। নিগ্রো জনগোষ্ঠীর প্রথম ইসলাম গ্রহণ:
৮৫০ খ্রিস্টাব্দে টেকুর রাজ্যের “দিয়াওগো রাজবংশ” দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে। এই বংশের বিখ্যাত শাসক “ওয়ার জাবি” ১০৩০ সালে এই রাজ্যে ইসলামী আইন চালু করেন।
টেকুর রাজ্যের রাজধানীর নামও ছিলো টেকুর। যা অষ্টম-নবম শতাব্দীর সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিলে। আরব ও বার্বার বণিকরা মরক্কো হতে “ওলের কাপড়”সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এই রাজ্যে আনতেন। আর বিনিময়ে নিয়ে যেতেন স্বর্ণ।
সমৃদ্ধশালী এই টেকুর রাজ্যের পরিসমাপ্তি ঘটে একাদশ শতাব্দীতে। আল মুরাবিদ রাজবংশের আক্রমণে।
-মুহম্মদ মুশফিকুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৩তম পর্ব)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আফ্রিকান মুসলমান ইউরোপকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছেন
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আইএস’ এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব ভাঙ্গার মানচিত্র বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে এখন গাজা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই চেষ্টা করছে ক্রুসেডার জোট
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হিজরী চর্তুদশ শতকের মহান মুজাদ্দিদ, ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে যামান হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আমেরিকা আবিষ্কারের যে সঠিক তথ্যটি আড়াল করা হয়েছে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসা বিন আবী গাসসান: হার না মানা এক অকুতোভয় মুসলিম সিপাহী
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বৃটিশরা কুচক্রীদের সহযোগিতায় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে চালু করে সেক্যুলার নামক নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস। (২য় পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১১ম পর্ব)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৫)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বৃটিশরা কুচক্রীদের সহযোগিতায় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে চালু করে সেক্যুলার নামক নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস। (১ম পর্ব)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৪)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












