মুসলিমবিদ্বেষ:
ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমনে অস্ত্র তৈরি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিচ্ছে ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
, ১৪ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৮ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) বিশেষ প্রতিবেদন
আল ইহসান ডেস্ক:
গাজায় চলমান নির্মম আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম সরব ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তবে এসব ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ দমন করতে দেশটির চরম মুসলিমবিদ্বেষী বৃহত্তম অস্ত্র তৈরি প্রতিষ্ঠান ‘বিএই সিস্টেমস’-এর কাছ থেকে নিরাপত্তা কৌশল ও পরামর্শ নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের অন্তত ১৩টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সংস্থা ‘লিবার্টি ইনভেস্টিগেটস’ এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’র যৌথ এক অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ফাঁস হওয়া ইমেইল ও অভ্যন্তরীণ নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ম্যানচেস্টার, নটিংহ্যাম, সাউথ্যাম্পটন, বার্মিংহাম, গ্লাসগো, শেফিল্ড এবং ক্র্যানফিল্ডসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিএই সিস্টেমসের সাথে তাদের অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন প্রতিবাদ দমনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর বিএই সিস্টেমসের থেকে যৌথ অর্থায়নে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার) পেয়ে থাকে।
নথিতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে বিএই সিস্টেমস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী বয়ান, বিশেষ করে ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান জেনোসাইড বিষয়ে সন্ত্রাসী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিপরীতে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় পাল্টা বার্তা তৈরি করতে উৎসাহ দেয়।
উল্লেখ করা যেতে পারে, বিএই সিস্টেমসের তৈরি সরঞ্জাম ও অস্ত্র ইসরায়েলি দখলদাররা গাজায় মুসলিম নিধনে ব্যবহার করে থাকে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই কোম্পানির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়ে আসছিলো।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনলাইন ক্যারিয়ার ইভেন্টে বিএই-বিরোধী বার্তা পোস্ট করায় চারজন মুসলিম শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তির আওতায় আনা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধান্তের আগে সরাসরি বিএই কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে। পরে অভিযুক্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জরিমানার পাশাপাশি আর কখনো অননুমোদিত প্রতিবাদে অংশ না নেওয়ার মুচলেকায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।
একইভাবে, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ও ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটিতে বিএই-এর উপস্থিতির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রামাণ্যচিত্র পর্যবেক্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব নজরদারি দল। পরবর্তীতে সেই তথ্য তুলে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির হাতে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এসব আচরণ বিষয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক লেবার পার্টি নেতা ও মানবাধিকারকর্মী জেরোমি করবিন বলে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই আচরণ "ভীতিজনক ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক"।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতি চর্চার নামে হারাম কার্যক্রম হিতে বিপরীত হবে
শিক্ষার্থীদেরকে সন্ত্রাসবাদ বিমুখ করার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (হারাম) সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রকৃতপক্ষে বাস্তবসম্মত নয়, বরং বাস্তবতার নীরিখে হওয়া উচিত ছিলো বিপরীত। অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের সর্বস্তরে সংস্কৃতির নামে হারাম কর্মকা- তুলে দিয়ে সঠিক দ্বীন ইসলাম শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা উচিত।
বাস্তবতার আলোকে আমরা দেখতে পাই, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর সাথে যারা জড়িত তারা প্রত্যেকেই উচ্চবিলাসী, সংস্কৃতমনা এবং সংস্কৃতির নামে হারাম পরিবেশের মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠা। যেমন- গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত তাহমিদ খান গান-বাজনা, নাটক ইত্যাদি সংষ্কৃতি চর্চার মধ্যেই বেড়ে উঠা ছেলে। এই তাহমিদ খান কিন্তু কোনো মাদরাসার ছাত্র নয়। সে নাচ-গান, খেলাধুলা, হারাম অনুষ্ঠান আয়োজনে অংশগ্রহণ, কথিত সংস্কৃতির এমন কোনো হারাম পর্ব নেই, যেখানে তার পদচারণা ছিলো না। কিন্তু তারপরও তাহমিদ কেন সন্ত্রাসবাদে জড়ালো? এছাড়া বাংলাদেশে আইএস আছে প্রমাণ করতে যে ভিডিওটি গুলশান হামলার পরপর অনলাইনে প্রচারণা হয়, সেখানে তিন জনের মধ্যে একজন ছিলো তাহমিদ রহমান সাফি। এই সন্ত্রাসী তাহমিদ রহমান সাফি ছিলো সঙ্গীতশিল্পী। ক্লোজআপ ওয়ান তারকা হিসেবেও সে পরিচিত। সে ছিলো রবীন্দ্র চেতনায় উজ্জীবিত। রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে পিএইচডি করারও ইচ্ছা ছিলো তার। অথচ এমন সংস্কৃতিবান ও রবীন্দ্রচর্চাকারীই মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে আইএস-এ যোগ দিয়েছে এবং বাংলাদেশে হামলার হুমকি দিয়েছে।
পাশপাশি গুলশানে হামলাকারী নিহত সন্ত্রাসী নিবরাস ইসলামও সংস্কৃতিমনা ছিলো। সে ভারতীয় নায়িকার সাথে নাচানাচি করতো অর্থাৎ ভারতীয় সংস্কৃতি পালনে প্রথম কাতারে ছিলো। সেও সন্ত্রাসবাদে পা বাড়ালো। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়, কথিত সংস্কৃতি চর্চার দ্বারা তরুণ প্রজন্মকে কখনোই সন্ত্রাসবাদ বিমুখ করা যাবে না বরং সন্ত্রাসবাদের দিকেই ধাবিত করা হবে। কারণ হারাম থেকে ভালা কিছু বের হয় না, হারাম থেকে হারামই বের হয়। এছাড়া প্রকৃত দ্বীনিশিক্ষার যেখানে অভাব হয়, সেখানেই সাম্রাজ্যবাদীরা সন্ত্রাসবাদের বিষ মিশ্রণ করার সুযোগ পায়।
তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কথিত সংষ্কৃতি চর্চার নামে হারাম কর্মকান্ড বৃদ্ধি না করে, বরং এসব সংস্কৃতিচর্চার দিকে বিমুখ করে দ্বীনি চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে। সিলেবাসগুলোকে ইসলামীকীকরণ করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকৃত দ্বীন শিক্ষার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
-মুহম্মদ ইবরাহীম সোহেল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৬ মাসই বন্ধ থাকলে, মামলাজট ছুটবে কিভাবে?
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এ ধরণের পেপার-পত্রিকাগুলো প্রকাশ হয় কিভাবে?
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আপনি কতটুকু মুসলমান...?
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রকান্ড কিছু দেখলেই অবনত হওয়া নত হওয়া একটি বদ খাছলত
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সমন্বিত অক্ষ ও বাংলাদেশের অবস্থান
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শক্ত মানসিকতার দৃঢ়চিত্ত শাসন: বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সরকারের জন্য ফরজ
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো জরুরি (২)
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো জরুরি (১)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উপজাতিগুলোকে যেভাবে উস্কানি দিচ্ছে এনজিওগুলো
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আপনি কি শুকরের চর্বিযুক্ত সাবান দিয়ে গোসল করে ইবাদত বন্দেগী করছেন?
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী মূল্যবোধহীন সরকার ব্যবস্থায় ‘ভেজাল খাদ্য’
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












