প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুর জন্ম বনাম অস্ত্রপচার নির্ভরতা সিজার বৃদ্ধির ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জন্মলাভ (২)
, ০৭ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ মে, ২০২৬ খ্রি:, ১১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আপনাদের মতামত
বর্তমানে কিছু গাইনি বিশেষজ্ঞ আজও অপ্রয়োজনীয় সিজারের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তবে একইসাথে কিছু প্রাইভেট হাসপাতালের কাঠামো এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই প্রবণতাকে আরও জটিল করে তুলছে। রোগী এবং পরিবারের উপর ভয়, সময় সংকট এবং সিদ্ধান্তহীনতা কাজ করে, যা শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের দিকে ঠেলে দেয়।
অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা কিংবা কিছু কম চিকিৎসা-নির্ভর সমাজে সিজারের হার তুলনামূলকভাবে কম। সেখানে অধিকাংশ প্রসব স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হয় এবং মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ থাকে। এই বৈপরীত্য দেখিয়ে দেয় যে পরিবেশ, জীবনযাপন এবং চিকিৎসা কাঠামো এখানে বড় ভূমিকা রাখে।
স্বাভাবিক প্রসবের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। মানবদেহ নিজেই এই প্রক্রিয়ার জন্য তৈরি। জরায়ু সংকোচন, হরমোন নিঃসরণ এবং শরীরের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া একটি স্বাভাবিক জন্ম প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে। এই সময় অক্সিটোসিন ও এন্ডরফিন নিঃসৃত হয়, যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে প্রসব সম্পন্ন করতে সাহায্য করে এবং মা ও শিশুর মধ্যে আবেগীয় বন্ধন তৈরি করে।
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিকোণ থেকেও মাতৃত্ব একটি স্বাভাবিক ও সম্মানিত প্রক্রিয়া। এখানে কষ্টকে অর্থহীন নয়, বরং একটি অর্থবহ ও ধৈর্যপূর্ণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে জীবনের সূচনা স্বাভাবিক নিয়মেই সম্পন্ন হওয়া উচিত।
স্বাভাবিক প্রসব মানবদেহের মা ও শিশুর জন্য প্রাকৃতিকভাবে উপকারী। সিজার কোনো শত্রু নয়, এটি একটি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পদ্ধতি। যখন সত্যিকারের ঝুঁকি থাকে, তখন এটি অপরিহার্য। কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন এটি প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে একটি সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ভয় থেকে নয়, তথ্য ও সচেতনতা থেকে। তাই সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং অপ্রয়োজনীয় ভয়মুক্ত সিদ্ধান্তই মাতৃত্বকে তার প্রকৃত স্বাভাবিকতায় ফিরিয়ে আনতে।
-ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুনশী মুহম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব উনার ঈমানী লড়াই এবং আজকের প্রেক্ষাপট
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












