সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন সম্পর্কে বাতিলদের মনগড়া বক্তব্য খন্ড
, ১৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২০ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
ওহাবী ফিরকার মুখপত্র ‘সত্যবাণী’ নামক একটি অখ্যাত বুলেটিনে “ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উৎসব ইসলামে নেই।” নামক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। যাতে তাদের কথিত আলিমরা পবিত্র “ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে যে সকল বক্তব্য প্রদান করেছে। তা হলো-
(২) কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফের কোথাও হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বত প্রদর্শনের জন্য জন্মবার্ষিকী পালনের কথা উল্লেখ নেই।
(৩) হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মতবিরোধ থাকলেও আমাদের মাঝ থেকে উনার বিদায় যে ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফে হয়েছে এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই।
(৪) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যিকার অর্থে রসূল প্রেমিক ছিলেন। কিন্তু উনারা কখনো রসূল প্রেমিক হওয়ার জন্য জন্মবার্ষিকী পালন করেছেন বলে প্রমাণ নেই।
(৫) হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইসলামে দুই ঈদের কথা বলেছেন।” অর্থাৎ ইসলামে দুই ঈদ ব্যতীত আর কোন ঈদ নেই।
সুওয়াল হলো- উক্ত অখ্যাত বুলেটিনের উল্লেখিত বক্তব্যগুলো কতটুকু কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফসম্মত?
জাওয়াব: (৫ম অংশ)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন যখন মানুষদেরকে কবর হতে উত্থিত করা হবে, তখন আমিই সর্বপ্রথম পবিত্র রওযা শরীফ হতে বের হয়ে আসবো। আর যখন লোকেরা দলবদ্ধ হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য রওয়ানা হবে, তখন আমিই হবো তাদের অগ্রগামী ও প্রতিনিধি। আর আমিই হবো তাদের মুখপাত্র, যখন তারা নীরব থাকবে। আর যখন তারা আটকা পড়বে, তখন আমিই হবো তাদের সুপারিশকারী। আর যখন তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে, তখন আমি তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করবো। মর্যাদা এবং কল্যাণের চাবিসমূহ সেই দিন আমার পবিত্র হাত মুবারকেই থাকবে। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসার ঝান্ডা সেই দিন আমার পবিত্র হাতেই থাকবে। আমার পরওয়ারদিগারের কাছে আদম সন্তানদের মধ্যে আমিই সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান ও সম্মানিত ব্যক্তি হবো। সেই দিন হাজার হাজার খাদিম আমার চারপাশে ঘোরাফেরা করবে। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম কিংবা বিক্ষিপ্ত মুক্তা। (পবিত্র তিরমিযী শরীফ, পবিত্র দারেমী শরীফ)
তাছাড়া স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে হযরত হাসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মসজিদে নববী শরীফে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে না’ত শরীফ, কাছীদা শরীফ, কবিতা শরীফ আবৃত্তি করে শুনাতেন।
উল্লেখ্য, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করেছেন, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও করেছেন। আর পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারাও আনুষ্ঠানিকভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত করেছেন। এমনকি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ছানা-ছিফত মুবারক করেছেন এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদেরকেও আনুষ্ঠানিকভাবে উনার ছানা-ছিফত মুবারক করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যার কারণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারাও আনুষ্ঠানিকভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেছেন।
এর অনুসরণে পরবর্তীতে ইমাম-মুজতাহিদ এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেন যা জন্মবার্ষিকী তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ অর্থাৎ পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ (সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ) উনার প্রচলিত রূপ লাভ করে।
সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বত প্রদর্শনের জন্য পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের কথা এবং উনার আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার মধ্যে এত সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকার পরও যে বা যারা বলে “পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোথাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বত প্রদর্শনের জন্য জন্মবার্ষিকী পালনের কথা উল্লেখ নেই।” সে চরম জাহিল ও গোমরাহ ব্যতীত অন্য কিছু নয়।
{দলীলসমূহ: (১) তাফসীরে আহকামুল কুরআন জাস্সাস, (২) তাফসীরে রূহুল মায়ানী, (৩) তাফসীরে রূহুল বয়ান, (৪) তাফসীরে কুরতুবী, (৫) তাফসীরে কবীর, (৬) তাফসীরে তাবারী, (৭) তাফসীরে যাদুল মাছীর, (৮) মাযহারী, (৯) তাফসীরে ইবনে কাছীর, (১০) তাফসীরে খাযেন, (১১) তাফসীরে বাগবী, (১২) তাফসীরে দুররুল মনছূর, (১৩) তাফসীরে ইবনে আব্বাস, (১৪) তিরমিযী শরীফ, (১৫) দারিমী শরীফ, (১৬) মিশকাত শরীফ, (১৭) শরহে তিরমিযী, (১৮) মিরকাত শরীফ, (১৯) আশয়াতুল লুময়াত শরীফ, (২০) লুময়াত শরীফ, (২১) শরহুত্ ত্বীবী শরীফ, (২২) তালিকুছ্ ছবীহ্, (২৩) মুযাহিরে হক্ব, (২৪) কিতাবুত্ তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান্ নাযীর, (২৫) সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদিল মুস্তফা, (২৬) মাওলুদুল কবীর, (২৭) দুররুল মুনাজ্জাম, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম ইত্যাদি।} (সমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুওয়াল ও তার জাওয়াব (১)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রসঙ্গ: মশহুর দুইখানা হাদীছ শরীফ নিয়ে আপত্তির খন্ডন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: মশহুর দুইখানা হাদীছ শরীফ নিয়ে আপত্তির খন্ডন
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ইছলাহ অর্জন করতে হলে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ পূর্বশর্ত
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: বাইয়াতের প্রকারভেদ ও বাইয়াত হওয়ার পন্থা-পদ্ধতি
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুওয়াল-জাওয়াব : প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা (৩)
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (৩)
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: বাইয়াতের প্রকারভেদ ও বাইয়াত হওয়ার পন্থা-পদ্ধতি
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (২)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












