সাধারণ মানুষের ক্ষুব্ধ প্রশ্ন আইন শৃঙ্খলার এত অবনতির পরও সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ ও সক্রিয় তৎপরতা নাই কেন?
প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস কেনো আশাহীন বিষয়ে পরিণত হলো?
যখন আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক বা নিয়মে পরিণত হয়, তখন ধীরে ধীরে অপরাধী আর নির্দোষ মানুষের পার্থক্য করার সুযোগটুকুও হারিয়ে যায়। এই সংস্কৃতি এখনই কঠোর হাতে দমন করা না গেলে তা সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে এক গভীর অরাজকতার দিকে ঠেলে দেবে।
, ১৪ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৮ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
রাজধানীসহ সারা দেশে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সূচক ক্রমেই ওপরে উঠে যাচ্ছে। পাড়া-মহল্লার গলিপথ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট সর্বত্র এখন ছিনতাই আতঙ্ক ভর করেছে। সন্ধ্যা নামলেই চারদিকে ছিনতাই-ডাকাতির আতঙ্কে সাধরণ মানুষ বাইরে বের হতে ভয় পায়। খোদ রাজধানীতে শত শত মানুষের সামনে রামদা দিয়ে রিকশা আরোহীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি বাসের মধ্যেও কেউ এখন নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারছেন না। ডাকাতি করে সর্বস্ব লুট করা ছাড়াও ধর্ষণের মতো পৈশাচিক ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই সারা দেশে এ রকম অপরাধ চিত্র বাড়ছে। তবে এত পুলিশ থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কেন এত অবনতি হচ্ছে-সেটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আর প্রশ্নের শেষ নেই।
সাধারণ মানুষের মনে আজ এক বড় প্রশ্ন-আইনশৃঙ্খলা কি কেবলই কিতাবি বুলি? অপরাধীরা কেন দিন দিন এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠছে?
কুমিল্লায় সামান্য একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে কিশোর অপ্রতীমের নৃশংস হত্যাকা-, খুলনায় ‘ভাত চুরি’র অভিযোগে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা এবং সাভারে প্রকাশ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার মতো ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এসব ঘটনা সমাজে সহিংসতা, আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় কমে যাওয়ার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। খুলনা ও সাভারের ঘটনাও একইভাবে উদ্বেগজনক। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, গ্রেপ্তার, তদন্ত, বিচার ও শাস্তির জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অথচ মানুষ যদি আইন ও আদালতের পরিবর্তে নিজেরাই শাস্তি দেওয়ার পথ বেছে নেয়, তাহলে আইনের শাসনের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে প্রকাশ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের দুঃসাহস নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মূলত দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য এই সংস্কৃতি অত্যন্ত মারাত্মক। যখন কোনো সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক বা নিয়মে পরিণত হয়, তখন ধীরে ধীরে অপরাধী আর নির্দোষ মানুষের পার্থক্য করার সুযোগটুকুও হারিয়ে যায়।
এর ফলশ্রুতিতে সামান্য অভিযোগ, ভিত্তিহীন গুজব কিংবা তুচ্ছ কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেও সাধারণ মানুষ যেকোনো মুহূর্তে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হওয়ার তীব্র আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই মব সংস্কৃতির বিস্তার কেবল নিরপরাধ মানুষকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতেই ফেলছে না, বরং এর পাশাপাশি রাষ্ট্রের মৌলিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার ব্যবস্থার সামগ্রিক কর্তৃত্বকেও মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংস্কৃতি এখনই কঠোর হাতে দমন করা না গেলে তা সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে এক গভীর অরাজকতার দিকে ঠেলে দেবে।
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে শঙ্কা থাকলে কোনো অর্জনই টেকসই হয় না।
কেবল মুখের প্রতিশ্রুতি বা রুটিন রদবদলের মাধ্যমে জনমনে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই হবে বর্তমান সরকারের সফলতার মাপকাঠি। মানুষ এখন আর অতীতে ফিরে যেতে চায় না; তারা চায় রাস্তায় নির্ভয়ে চলতে, ব্যবসা-বাণিজ্য শান্তিতে পরিচালনা করতে এবং ঘরে নিরাপদে ঘুমাতে।
নাগরিকদের অভিযোগ ও তথ্য জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর নয়, সম্ভাব্য অপরাধের আগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। দেশে নিরাপত্তার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ১২ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত মহাসম্মানিত ১২ই রবীউছ ছানী শরীফ আজ।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সরকারের এক মূর্খ মন্ত্রী বলেছে তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি হবে না। অথচ তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রথম দাম বাড়বে খাদ্যের।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












