সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (২)
, ১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
একজন মায়ের যদি দ্বীনের সঠিক বুঝ না থাকে তবে সেই মা তার সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবে না। তাই বাবার দায়িত্ব হচ্ছে তার আহলিয়াকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হয় এমন স্থানে নিয়ে গিয়ে সঠিক দ্বীনি বিষয়ে শিক্ষা লাভের ব্যবস্থা করে দিয়ে হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালী বানানো।
পক্ষান্তরে শুধুমাত্র মায়ের যদি দ্বীনি জ্ঞান থাকে আর পিতার দ্বীনি জ্ঞান না থাকে এক্ষেত্রে মা যদি সন্তানকে কোন দ্বীনি বিষয়ে আদেশ করেন বা দ্বীনি কথা বলেন এমতাবস্থায় পিতা সেই কথাকে গুরুত্ব না দিলে সন্তানও মায়ের কথা গুরুত্ব দিবে না। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই সন্তান তখন তার বাবার দিকে রুজু হয়ে যাবে। এমন অবস্থায় মা দ্বীনদার হওয়া সত্ত্বেও ঐ সন্তানকে মায়ের পক্ষে দ্বীনদার বানানো কঠিন হয়ে যাবে অর্থাৎ সম্ভব হবে না।
আরো উল্লেখ্য যে, সন্তানকে যদি মা শরীয়ত পালনের ব্যাপারে শাসন করেন এবং বাবা যখন বাসায় ফিরে আসেন, সন্তান বাবার কাছে মায়ের উক্ত বিষয়ে অভিযোগ করে তখন দেখা যায় বাবাও সন্তানের পক্ষে কথা বলে। তাই সন্তানের কাছে বাবাকেই তখন ভাল মনে হয়। এভাবে বাবার কাছ থেকে প্রশ্রয় পেয়ে সন্তান এক সময় বেপরোয়া হয়ে যায়। সুতরাং বাবার দায়িত্ব হচ্ছে বিষয়টি দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে তাহক্বীক করে ফায়সালা করা।
কেননা প্রবাদ আছে “সময়ের এক ফোঁড়; অসময়ের দশ ফোঁড়”। সময় থাকতেই অর্থাৎ ছোট বেলা থেকেই সম্মানিত শরীয়ত মুতাবেক যখন যেখানে যা দরকার তথা শাসন করার ব্যাপারে শাসন করা আবার আদর বা কোন আবদার রাখার বিষয়েও বাবা-মা উভয়কেই বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝে নিয়ে ফায়সালা করা, তবেই সেই পরিবারে থাকবে জান্নাতের নিয়ামত তথা শান্তি। আর সন্তানও হবে হাক্বীক্বী দ্বীনদার ও আল্লাহওয়ালা।
অপরদিকে সন্তানকে দ্বীনদার হিসাবে গড়ে তুলতে হলে বাবা-মা উভয়কে কেমন হওয়া উচিত তা জগৎ বিখ্যাত লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ হযরত বড়পীর সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত আব্বা-আম্মাজান উনাদের জীবনী মুবারকের দিকে লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়। মূলত উনারা দ্বীনদার-পরহেযগার, মুত্তাকি ছিলেন বলেই উনাদের হুজরা শরীফে লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ হযরত বড়পীর ছাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। এ ঘটনা থেকে বাবা-মা উভয়কেই ইবরত-নছীহত গ্রহণ করতে হবে।
কাজেই পুরুষ এবং মহিলা উনারা কিভাবে, কার কাছ থেকে দ্বীনি ইলম অর্জন করবে? যেহেতু খাছ করে মহিলাদের জন্য পর্দা করা ফরয কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাই, হাক্বীক্বী পর্দার সাথে কোথাও দ্বীনি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করার ব্যবস্থা নেই। আবার শুধুমাত্র কিতাবাদি পড়েও হাক্বীক্বী জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। যদি কিতাবাদি পড়েই দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হত, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি যুগে যুগে হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে না পাঠিয়ে সরাসরি কিতাব নাযিল করে দিতেন। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি কিতাব নাযিল করার পাশাপাশি যুগে যুগে হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেও পাঠিয়েছেন।
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে প্রেরণ করার পিছনে কি কারণ রয়েছে, এ সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
لَقَدْمَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ اِذْ بَعْثَ فِيْهِمْ رَسُوْلًا مِنْ اَنْفُسِهِمْ يَتْلُوْا عَلَيْهِمْ ايتِه وَ يُزَكِّيْهِمْ وَ يُعَلِّمُهُمُ الْكِتبَ وَ الْـحِكْمَةَ وَاِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِىْ ضَللٍ مُّبِيْنٍ
অর্থ: অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনগন উনাদের প্রতি ইহসান মুবারক করেছেন। কারণ মু’মিনদের মাঝে মু’মিনদের জন্য এমন একজন মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করেছেন, যিনি উনাদেরকে উনার (মহান আল্লাহ পাক) মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করে শুনাবেন এবং অন্তর পরিশুদ্ধ করবেন ও কিতাব এবং হিকমত শিক্ষা দিবেন যদিও তারা ইতিপূর্বে সঠিক পথপ্রাপ্ত ছিলেন না। (সূরা আল ইমরান : আয়াত শরীফ ১৬৪)
যদিও এই আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কিতাবসহ পাঠিয়েছেন মানুষকে হিদায়েত দেওয়ার জন্য, অন্তর পরিশুদ্ধ করার জন্য, গোমরাহী থেকে হিদায়েতের দিকে নিয়ে আসার জন্য। উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে সম্মানিত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের ধারা বন্ধ হয়ে গেছে।
যেহেতু হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের ধারা বন্ধ হয়ে গেছে, তাহলে মানুষ এই নিয়ামত গুলো অর্থাৎ দ্বীনি জ্ঞান কার থেকে অর্জন করবে। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয় হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফে জানিয়ে দিয়েছেন,
اَلْعُلَمَاءُ وَرَثَةُ الْاَنْبِيَاءِ
অর্থ: হযরত কাছির ইবনে ক্বায়েছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, “হক্বানী রব্বানী আলিম (যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করেন এবং গুনাহ্, হারাম-নাজায়িয কাজ থেকে বেঁচে থাকেন) উনারাই হচ্ছেন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ওয়ারিছ। (তিরমীযি শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)
(সংকলনে : মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা।)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান, মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী? (১)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের- সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের জন্য সন্তান প্রতিপালন করা সুন্নত (৫)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন”
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












