হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
, ১৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৪ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
فَاِنْ اٰمَنُوا بِـمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا.
অর্থাৎ আপনারা অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান মুবারক এনেছেন তদ্রƒপ যদি তারা (অন্য লোকেরা) ঈমান মুবারক গ্রহণ করে তাহলে তারা হিদায়েত মুবারক লাভ করতে পারবে। (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ : আয়াত শরীফ ১৩৭)
এ লিখনীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল মহব্বত মুবারক প্রকাশের কতিপয় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
......
মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালনে আনন্দ চিত্তে জান কুরবান:
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত মামা, উনার সম্মানিত মা হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সম্মানিত ভাই হযরত হারাম ইবনে মিলহান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বে-মেছাল নিদর্শন স্বরূপ নিজের জীবনকে কুরবান করে ছিলেন। তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক-এ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দা'ওয়াত এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নুবুওওয়াত মুবারক উনার রিসালাত মুবারক নাজদ এলাকার ‘বী'রে মা'উনাহ’ নামক স্থানের বনু 'আমির গোত্রের নিকট প্রচার করতে গিয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দুশমনদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে সম্মানিত শাহাদাত মুবারক বরণ করেন। হযরত হারাম ইবনে মিলহান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন মুমূর্ষ অবস্থায় সম্মানিত শাহাদাত মুবারক উনার দিকে ধাবিত হচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে উনার এই পরম সৌভাগ্য লাভের অপরিসীম আনন্দ আর আত্মতৃপ্তির কথা নিজ ভাষায়-ই প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনাটি হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ خَالَهُ أَخَا لِحَضْرَتْ أُمِّ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا فِي سَبْعِينَ رَاكِبًا .... فَانْطَلَقَ حَضْرَتْ حَرَامٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَخُو حضرت أَمِّ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا وَهُوَ رَجُلٌ أَعْرَجُ وَرَجُلٌ مِنْ بَنِي فُلَانٍ قَالَ كُونَا قَرِيبًا حَتَّى آتِيَهُمْ فَإِنْ آمَنُونِي كُنْتُمْ وَإِنْ قَتَلُونِي أَتَيْتُمْ أَصْحَابَكُمْ فَقَالَ أَتُؤْمِنُونِي أُبَلِّغْ رِسَالَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يُحَدِّثُهُمْ وَأَوْمَنُوا إِلٰى رَجُلٍ فَأَتَاهُ مِنْ خَلْفِهِ فَطَعَنَهُ قَالَ هَمَّامٌ أَحْسِبُهُ حَتَّى أَنْقَذَهُ بِالرُّمْحِ قَالَ اللهُ أَكْبَرُ فُرْتُ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ
অর্থ : নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত মামা, হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সম্মানিত ভাই উনাকে ৭০ জনের একদল হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে পাঠান। (উনারা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছার পর অগ্রবর্তী হিসেবে) হযরত উম্মু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সম্মানিত ভাই হযরত হারাম ইবনে মিলহান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আরো দুইজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা হন। (কিছু দূর যাওয়ার পর) হযরত হারাম ইবনে মিলহান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সঙ্গীদ্বয়কে বলেন, আমি তাদের (বনু 'আমির গোত্রের লোকদের) নিকট আসা অবধি আপনারা দু'জন আমার থেকে অনতি দূরে অবস্থান করুন। যদি তারা আমাকে নিরাপত্তা প্রদান করে, তখনি কেবল আপনারা আমার নিকটে আসবেন। আর তারা যদি আমাকে শহীদ করে, তাহলে আপনারা আপনাদের সাথী উনাদের কাছে ফিরে আসবেন। তারপর তিনি তাদের (গ্রামবাসীদের) নিকট নিবেদন করে বলেন, তোমরা কি আমাকে অভয় দিবে যে, আমি তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার বার্তা মুবারক পৌঁছে দেব? অতঃপর তিনি তাদের সাথে কথা বলা শুরু করেন। কিন্তু তারা জনৈক ব্যক্তিকে (হযরত হারাম ইবনে মিলহান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে শহীদ করার) ইঙ্গিত করে। তখন সে ব্যক্তি পিছন দিক থেকে এসে উনাকে প্রচ-ভাবে আঘাত করে। মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাকারী হযরত হাম্মাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার মনে হয়, সেই ব্যক্তি পিছন দিক থেকে বর্শার আঘাতে উনাকে ধরাশায়ী করে ফেলে। তখন হযরত হারাম ইবনে মিলহান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, 'আল্লাহু আকবার! আল্লাহ পাক তিনি মহান! মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কা'বা শরীফ উনার রব তায়ালা উনার কসম! আমি সফল হয়েছি'। সুবহানাল্লাহ!
ফিকিরের বিষয়, হযরত হারাম ইবনে মিলহান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তক অর্পিত দায়িত্ব পালনে রত অবস্থায় উনার সুমহান সুন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্য নিজ জান কুরবান করে চূড়ান্ত সফলতার আনন্দে আনন্দিত হয়েছেন এবং এর জন্য তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান মুহব্বত মুবারকে, উনার সুমহান আদেশ-নির্দেশ মুবারক পালনে এবং উনার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালনে উনাদের জান-মালসহ দুনিয়ার আর কোন কিছুকেই পরওয়া করেন নি। সুবহানাল্লাহ! উনারা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আদেশ-নিষেধ মুবারক পালনে, উনার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালনে উনাদের জান-মালসহ সমস্ত কিছুই কুরবান করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদ্বার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন মুরাদী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (২)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (২য় পর্ব)
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৮)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ; খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৬)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ফায়সালা মুবারক তথা উনার সুন্নত মুবারক পালন করা ব্যতীত ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












