পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ১৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফের অন্য আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, যেখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রায় দশটা নছীহত করেছেন, বিশেষ করে বণী ইসরাঈল, ইহুদী-নাছারা, কোরাঈশ সকলকে নছীহত করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ ۖ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهٖ شَيْئًا ۖ وَّبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
(পবিত্র সূরা আনআম : আয়াত শরীফ ১৫১)
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সবাইকে বলে দিন, “তোমরা নিকতবর্তী হও, কাছে আস।”
أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ
“তোমাদের রব, তোমাদের জন্য কি হারাম করে দিয়েছেন সেটা আমি তিলাওয়াত করে তোমাদেরকে জানিয়ে দেই, শুনিয়ে দেই,
أَلَّا تُشْرِكُوا بِهٖ شَيْئًا ۖ وَّبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
প্রথম হচ্ছে, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করো না।
দুই হচ্ছে, পিতা-মাতার সাথে সৎ ব্যবহার কর।”
এরপর আরো ৮টা নছীহত মুবারক রয়েছে। মূল এই দু’টা।
الله حَقُّ (হক্কুল্লাহ্) মহান আল্লাহ পাক উনার হক্ব হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক করা যাবে না, শরীক করা কুফরী।
আর الْعِبَاد حَقُّ (হক্কুল ইবাদ) বান্দার হক্বের মধ্যে প্রথম হচ্ছে, পিতা-মাতার সাথে সৎ ব্যবহার করা, সেটাই মহান আল্লাহ পাক এখানে উল্লেখ করেছেন।
الله حَقُّ (হক্কুল্লাহ্) এবং الْعِبَاد حَقُّ (হক্কুল ইবাদ) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হক্ব এবং বান্দার হক্ব প্রত্যেক সন্তানের জন্য দায়িত্ব রয়েছে তা যথাযথ আমল করা।
হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে-
عَنْ أَبِي عِيْسَى بْنِ الْـمُغِيرَةِ بْنِ شُعبَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، عَنِ النَّبيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ إنَّ اللهَ تَعَالٰى حَرَّمَ عَلَيْكُمْ عُقُوْقَ الأمَّهَاتِ
অর্থ : হযরত আবু ঈসা বিন মুগীরা বিন শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তোমাদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন তোমাদের মাতার প্রতি নাফরমানী, অবাধ্যতা। আল্লাহ্ পাক তিনি সেটা হারাম করে দিয়েছেন।
অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই তোমাদের মাতার অবাধ্য হওয়া বা নাফরমানী করা চলবে না। সেটা আল্লাহ্ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে নিষেধ করেছেন এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীস শরীফে নিষেধ করে দিয়েছেন যে, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি সেটা হারাম করে দিয়েছেন।
ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, পিতা-মাতার প্রতি সৎ ব্যবহার করা ফরজ। বিশেষ করে মাতার সহিত। কারণ যেকোন সন্তানের জন্য অর্থাৎ ছেলেদের জন্য সবচাইতে বেশী হক্বদার হচ্ছেন তার মা। আর মেয়েদের জন্য সবচাইতে বেশী হক্বদার হচ্ছেন তার স্বামী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান, মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী? (১)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের- সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের জন্য সন্তান প্রতিপালন করা সুন্নত (৫)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন”
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












