সম্পাদকীয়
পারমাণবিক বোমায় সফলতা অর্জন প্রতিটি মুসলিম দেশের জন্য জরুরী এবং সম্ভব ইনশাআল্লাহ। এজন্য ঈমান দ্বীপ্ত মুসলিম বিজ্ঞানী, সরকারের পাশাপাশি বিশ্বাস ঘাতকদের সম্পর্কে সচেতনতা এবং সাবধানতাও দরকার।
, ২৯ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
(১)
কোনো পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন দেশ আগ্রাসনের শিকার হয়নি বা দখল করা হয়নি, কিংবা তাদের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। ইরাক এবং লিবিয়া যদি পারমাণবিক শক্তি হতো, তবে তাদের এভাবে ধ্বংস করা যেত না বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।
তথাকথিত আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে ২০০৫ সালে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি বিকাশে সম্মত হয়। পরে ২০১৫ সালে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং রাশিয়ার সাথে একটি পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।তিন বছর পরে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে এবং ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করে।
আজকে ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল এতদূর আগাতো না যদি ইতোমধ্যে ইরান, পারমানবিক বোমার তৈরীর সক্ষমতা অর্জন করতো।
১৯৮০-এর দশকে পর্দার আড়ালে ইরানি সরকার পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া-উল-হকের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করে।
গত ছয় সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান অজুহাত ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। অথচ সন্ত্রাসী ইসরায়েল ব্যাপকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হিসেবে পরিচিত, যদিও তারা কখনও এটি জনসমক্ষে স্বীকার করেনি।
১৯৭৪ সালের ১৮ মে ভারত যখন তাদের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়, তখন ভুট্টো বোমা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। ভুট্টো প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, "আমরা ঘাস বা পাতা খাব, এমনকি ক্ষুধার্ত থাকব, কিন্তু আমরা আমাদের নিজস্ব একটি বোমা অর্জন করবই।"
তিনি বলেছিলেন, "একটি খ্রিস্টান বোমা, একটি ইহুদি বোমা এবং এখন একটি হিন্দু বোমা আছে। একটি ইসলামিক বোমা কেন থাকবে না?"
তিনি এই প্রকল্পটিকে দেশের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য মনে করতেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, "বোমা কেবল একটি অস্ত্র নয়; এটি আমাদের জাতির টিকে থাকার চাবিকাঠি।"
যে ব্যক্তি সেই "চাবিকাঠি" তৈরি করবেন, সেই এ.কিউ. খান ১৯৭৪ সালে আমস্টারডামে একটি বড় পারমাণবিক জ্বালানি কোম্পানি 'ইউরেঙ্কো'র উপ-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন। কোম্পানিটি ইউরোপীয় পারমাণবিক চুল্লির জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানি সরবরাহ করত।
ইউরেঙ্কো সুবিধার অতি-গোপন এলাকা এবং বিশ্বের সেরা সেন্ট্রিফিউজগুলোর নকশা (ব্লুপ্রিন্ট) দেখার সুযোগ ছিল খানের কাছে। এই সেন্ট্রিফিউজগুলোই প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে বোমার জ্বালানিতে রূপান্তরিত করত।
তিনি ভুট্টোর উদ্দেশ্যে পাকিস্তানে একটি হাতে লেখা চিঠি পাঠান, যেখানে তিনি বলেন: "আমি গ্যাস সেন্ট্রিফিউজ সিস্টেম সম্পর্কে খুব বিস্তারিত এবং ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করেছি এবং এখন পাকিস্তানকে সাহায্য করার অবস্থানে আছি... এটি অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়।"
পরে তিনি বলেছিলেন যে তিনি চিঠিটি লিখেছিলেন "পুরোপুরি সচেতন হয়ে যে আমি গ্রেপ্তার বা নিহত হতে পারি। কিন্তু আমি অনুভব করেছিলাম যে আমার কোনো বিকল্প নেই। ভারত পরীক্ষা চালিয়েছে। আমাদের জবাব দিতেই হতো।"
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি মুসলিম বিশ্বে এরূপ ইসলামী চেতনা সম্বলিত বিজ্ঞানী হওয়া অনেক বেশী দরকার। তবে সে সাথে সে আবহ মনন ও প্রজ্ঞা তৈরীর পরিবেশ করে দেয়ার জন্য সরকার ও জনগণের চেতনা ও চেষ্টাও বেশী দরকার।
(২)
১৯৮৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে পাকিস্তান ইরানকে প্রয়োজনীয় মূল উপাদানগুলো সরবরাহ করেছিল।
খান ১৯৮০ এবং ৯০-এর দশকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ করতেন, তখন মোসাদ তার ওপর নজরদারি চালিয়েছিল, কিন্তু বিজ্ঞানী আসলে কী করছেন তা তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল।
তৎকালীন মোসাদ প্রধান শাবতাই শভিত পরে বলেছিলো যে, সে যদি খানের উদ্দেশ্য বুঝতে পারতো, তবে সে তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার কথা বিবেচনা করতো যাতে "ইতিহাসের মোড় বদলে দেওয়া যায়"।
১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে খান ইরানকে সেন্ট্রিফিউজের ২,০০০-এর বেশি যন্ত্রাংশ এবং সরঞ্জাম পাঠিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
২০০৩ সালে পুরো অভিযানটি ভেস্তে যায়। লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি মার্কিন সমর্থন পাওয়ার প্রচেষ্টায় খানের নেটওয়ার্ক ফাঁস করে দেয়।
গাদ্দাফি সিআইএ এবং এমআইসিক্স-এর কাছে প্রকাশ করে যে খান তার সরকারের জন্য পারমাণবিক কেন্দ্র তৈরি করছেন-যার মধ্যে কয়েকটি পোল্ট্রি ফার্মের ছদ্মবেশে ছিল।
সিআইএ সুয়েজ খালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাচার হওয়া যন্ত্রপাতি জব্দ করে। তদন্তকারীরা ইসলামাবাদের একটি ড্রাই ক্লিনারের ব্যাগ থেকে অস্ত্রের নকশা খুঁজে পায়।
২০০৪ সালে খান পারমাণবিক বিস্তার নেটওয়ার্ক চালানোর কথা স্বীকার করেন এবং বলেন যে তিনি ইরান, লিবিয়া এবং উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহ করেছেন। সে বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি টেলিভিশনে হাজির হন এবং জোর দিয়ে বলেন যে তিনি পাকিস্তান সরকারের কোনো সমর্থন ছাড়াই একা কাজ করেছেন।
পরবর্তীতে খান বলেছিলেন, "আমি যখন পাকিস্তানকে পারমাণবিক জাতি হিসেবে গড়ে তুলি তখন প্রথমবার দেশকে রক্ষা করেছিলাম এবং যখন আমি স্বীকারোক্তি দিয়ে নিজের ওপর সব দোষ নিয়ে নিই তখন দ্বিতীয়বার দেশকে রক্ষা করি।"
(৩)
সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি শুধু পাকিস্তান প্রেসিডেন্টের মত অমুসলিম বিরোধী মননের লোক আর বিজ্ঞানী আব্দুল কাদির খানের মত জীবন ফানা করে দেয়ার মত বিজ্ঞানীই শেষ কথা নয়, পাশাপাশি গাদ্দাফির মত দালাল সাম্রাজ্যবাদীদের মত বিশ্বাসঘাতকদের সম্পর্কেও চূড়ান্ত সাবধানতা, গোপনীয়তা এবং বিচক্ষণতাও চরম সক্রিয়তাও একান্ত দরকার।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ জানান, রাশিয়া মালয়েশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক শক্তি উন্নয়নে দেশটির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক, মানবসম্পদ, কারিগরি, বাণিজ্যিক এবং আইনি দিকগুলোতে এ সহায়তার কথা জানিয়েছে দেশটি।
এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হলো অমুসলিম দেশ রাশিয়ার সাহায্য কেনো নিতে হবে? মুসলিম বিশ্ব আর কতকাল হীণমন্যতায় ভূগবে? আর কতকাল কাফির বিশ্ব নির্ভর হয়ে থাকবে? আর কতকাল নিস্ক্রিয় হয়ে থাকবে? বাংলাদেশ, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিশরসহ সব মুসলিম দেশেরই উচিত এখনই পারমানবিক বোমা তৈরীতে সক্ষমতা অর্জন করা ইনশাআল্লাহ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের মালিকানা থেকে অন্যায্যভাবে সেবককে বাড়তি অর্থ দিচ্ছে। বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে ১৪০%। এই বৈষম্য ও অন্যায় সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিরোধী।
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূল আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












