পাকা আম দ্রুত পচে যায়, ভালো রাখবেন যেভাবে
, ২৯ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আপনাদের মতামত
বাজারে পাকা আম আসতে শুরু করলেই অনেকেই একসঙ্গে বেশি করে আম কিনে ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই দেখা যায় আম নরম হয়ে যায়, বোঁটার অংশ কালো হয়ে পচে যায়। এমনকি ফ্রিজে রেখেও অনেক সময় আম ভালো থাকে না। তাই পাকা আম সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম জানা খুবই জরুরি।
সঠিক আম বাছাই করুন:
আম সংরক্ষণের প্রথম ধাপ হলো কেনার সময় সতর্ক থাকা। একেবারে বেশি পাকা আম না কিনে হালকা পাক ধরেছে এমন আম বেছে নিন। খুব বেশি নরম আম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, এমনকি ফ্রিজে রাখলেও ভালো থাকে না। আধা পাকা আম ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে ধীরে ধীরে পাকানো ভালো।
ঘরের তাপমাত্রায় যেভাবে রাখলে ভালো
সব আম ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই। শুকনো ও ছায়াযুক্ত স্থানে ঘরের তাপমাত্রায় রাখলে অনেক সময় আম বেশি দিন ভালো থাকে। রান্নাঘরের কোণ, বিছানার নিচের মতো জায়গাও সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা যায়। সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না এমন স্থানে রাখাই সবচেয়ে ভালো।
প্লাস্টিক ব্যাগ এড়িয়ে চলুন:
পাকা আম কখনোই প্লাস্টিক ব্যাগে মুড়ে রাখা উচিত নয়। এতে ভেতরে আর্দ্রতা জমে দ্রুত পচন ধরে। এর পরিবর্তে কাগজের ব্যাগ বা ঝুড়ি ব্যবহার করা ভালো। পাশাপাশি সব আম একসঙ্গে না রেখে বেশি পাকা আম আলাদা করে রাখা উচিত, কারণ এগুলো থেকে বের হওয়া গ্যাস অন্য আমকেও দ্রুত পাকিয়ে ফেলে।
আর্দ্রতা ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করুন:
পাকা আম থেকে এক ধরনের প্রাকৃতিক গ্যাস (ইথিলিন) বের হয়, যা আশেপাশের অন্য আমকেও দ্রুত পাকিয়ে দেয়। তাই সব আম একসঙ্গে রাখা উচিত নয়। বেশি পাকা আম আলাদা করে রাখুন। চাইলে চালের কৌটোতে আম রাখা যেতে পারে, এতে আর্দ্রতা শোষিত হয়ে আম তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।
দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের কৌশল:
দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য আম কেটে ছোট টুকরো করে জিপলক ব্যাগে ফ্রিজারে রাখা যেতে পারে। চাইলে প্রথমে ট্রেতে আলাদা করে ফ্রিজে জমিয়ে পরে ব্যাগে ভরে রাখা ভালো। এতে সারা বছর জুস, স্মুদি বা ডেজার্টে আম ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম গণহত্যা রোধে মুসলিম উম্মাহর এখনই সময়: আর নীরবতা নয়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আজ এক ভয়াবহ রক্ত¯œাত জনপদে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী যে নারকীয় উল্লাস এবং বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে সুপরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত নির্যাতন শুরু হয়েছে, তা কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং এটি একটি স্পষ্ট এখনিক ক্লিনজিং' বা জাতিগত নিধনযজ্ঞের প্রাথমিক ধাপ। গত কয়েকদিনে নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, ভোটাধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রীয় মদদে চলা এই সহিংসতা প্রমাণ করে যে, সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিমরা আজ নিজ ভূখ-ে চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার।
পদ্ধতিগত নিপীড়ন ও আন্তর্জাতিক নির্লিপ্ততা:
নব্বই লক্ষ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রহীন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা এখন শারীরিক নির্যাতনে রূপ নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা চালানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে তথাকথিত মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরবতা আমাদের বিস্মিত করে। যখন একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তাদের দ্বীনি পরিচয়ের কারণে নির্বিচারে আক্রমণ করা হয়, তখন তা আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বিশ^বিবেক আজ অন্ধ হয়ে কেবল জুলুম দেখছে।
মুসলিম বিশে^র ওপর অর্পিত আমানত:
ইতিহাস সাক্ষী, যখনই বিশে^র কোনো প্রান্তে মুসলিম উম্মাহর রক্ত ঝরানো হয়েছে, তখনই ইসলামের ভ্রাতৃত্বের দাবি উঠেছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। পশ্চিমবঙ্গের মজলুম মুসলিমদের আর্তচিৎকার আজ আরব থেকে আজম- প্রতিটি মুসলিম দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে। কেবল নিন্দা প্রস্তাব বা কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায় এবং অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়, তখন জীবন ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়াই ঈমানি দায়িত্ব।
সামরিক হস্তক্ষেপ ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি:
আমরা মনে করি, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের ওপর চলা এই অমানবিক নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ না হলে, ওআইসি এবং শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে কেবল অর্থ সাহায্য বা ত্রাণের কথা ভাবলেই চলবে না। মজলুমের সহায়তায় প্রয়োজনে সম্মিলিত সামরিক চাপ ও কৌশলগত হস্তক্ষেপের পথও উন্মুক্ত রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রে যদি কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানো হয় এবং রাষ্ট্র তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় বা সহায়ক ভূমিকা পালন করে না, তবে 'জবংঢ়ড়হংরনরষরঃু ঃড় চৎড়ঃবপঃ' (জ২চ) নীতির অধীনে বাইরের হস্তক্ষেপ বৈধ।
মুসলিম দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা কেবল প্যারেড গ্রাউন্ডের জন্য নয়; তা হতে হবে নির্যাতিত মুসলিমদের ঢাল। যদি ভারত সরকার তার অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষা করতে এবং মুসলিম নাগরিকদের জীবন-মালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রতিবেশী দেশসহ মুসলিম শক্তিগুলোকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের আকাশ আজ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, আর বাতাস ভারী হয়ে আছে মা-বোনদের আহাজারিতে। এই মুহূর্তটি হলো মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের অগ্নিপরীক্ষা। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের একবিন্দু রক্তও বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। যদি অবিলম্বে এই নির্যাতন বন্ধ না হয়, তবে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং তার দায়ভার ভারত সরকারকেই বহন করতে হবে।
মুসলিম বিশে^র নেতা ও দায়িত্বশীলদের মনে রাখা উচিত- আজ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা আক্রান্ত, কাল আপনার দুয়ারে বিপদ আসবে। তাই এখনই সময় গর্জে ওঠার, মনে এখনই সময় রুখে দাঁড়ানোর। মজলুমের আর্তনাদ যখন আরশে পৌঁছে যায়, তখন জালিমের পতন অবশ্যম্ভাবী।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুনশী মুহম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব উনার ঈমানী লড়াই এবং আজকের প্রেক্ষাপট
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












