ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮২)
, ২৫ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৮ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) ফতওয়া বিভাগ
(৪৩২)
قَوْله تَعَالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ}: قَالَ عُلَمَاؤُنَا: رُدُّوهُ إلى كِتَابِ اللهِ، فَإِذَا لَمْ تَجِدُوهُ فَإِلى سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوهُ فَكَمَا قَالَ عَلِيٌّ عليه السلام: مَا عِنْدَنَا إلَّا مَا فِي كِتَابِ اللهِ تَعَالى أَوْ مَا فِي هذِهِ الصَّحِيفَةِ أَوْ فَهْم أُوتِيهِ رَجُل مُسْلِم، وَكَمَا "قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمُعَاذٍ رضى الله عنه: بِمَ تَحْكُمُ قَالَ بِكِتَابِ الله قَالَ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ قَالَ بِسُنَّةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ قَالَ أَجْتَهِدُ رَأْيِي وَلَا آلُو قَالَ الْحَمْدُ لله الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم".
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কালাম মুবারক (তোমরা যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধে পতিত হও, তাহলে সে বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক ও উনার সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করো) আমাদের উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, তোমরা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার দিকে ফিরে যাও। যদি সেই বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট কিছু না পাও তাহলে পবিত্র সুন্নতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো। যদি সেখানেও না পাও।
যেমনটি হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, পবিত্র কুরআন শরীফ অথবা এই পবিত্র ছহীফা শরীফ ব্যতীত আমাদের নিকট যা আছে অথবা একজন মুসলিম ব্যক্তিত্ব উনার কাছে যে নিয়ামত দেয়া হয়েছে, তার দিকে প্রত্যাবর্তন করো। ‘যেমন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বলেছিলেন, আপনি কীসের সাহায্যে বিচার-ফায়সালা করবেন? তিনি বলেছিলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা। আবারো বললেন, যদি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে না পান তাহলে কী করবেন? জাওয়াবে তিনি বললেন, মহাসম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নাহ শরীফ দ্বারা ফায়সালা করবো।
তিনি আবারো বললেন, যদি সেখানেও না পান তাহলে কী করবেন? তিনি বললেন, আমি ইজতিহাদ করে ফায়সালা প্রদান করবো। পরিশেষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার অসংখ্য শুকরিয়া যে, তিনি আমার প্রতিনিধিকে এমন তাওফীক দিয়েছেন।’ সুবহানাল্লাহ! (আহকামুল কুরআন লি ইবনিল্ আরাবী লেখক: কাজী হযরত মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আবূ বকর বিন আরাবী মুয়াফিরী ইশবীলী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৫৪৩ হিজরী পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
উল্লেখিত ইবারতগুলো থেকে স্পষ্ট বুঝা গেলো যে, ‘উলিল আমর’ তথা আদেশদাতা হলেন যথাক্রমে- হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবেয়ীন-তাবে’ তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম, সাত কারী, চৌদ্দ রাবী রহমতুল্লাহি আলাইহিম, চার মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম-মুজতাহিদ মুতলাক রহমতুল্লাহি আলাইহিম, আকাইদ উনার সম্মানিত ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, চার তরীকা উনাদের ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম, যার যার মুর্শিদ কিবলা বা শায়েখ আলাইহিমুস সালাম, হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত ফুকাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা।
উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই নির্দেশ মুবারক করেছেন। তাই ‘উলিল আমর’ উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করা সকল মু’মিন-মুসলমান আলিম ও সর্বসাধারণ সকলের জন্য ফরজ। আর এ অনুসরণকেই মাযহাব মান্য করা বলা হয়ে থাকে। তাই মাযহাব মান্য করাও ফরজ।
পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১৪
وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَالرَّسُولَ فَاولئِكَ مَعَ الَّذِينَ اَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيّيْنَ وَالصّدّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَحَسُنَ اُولئِكَ رَفِيْقًا.
অর্থ: যে কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মুবারক এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হুকুম মুবারক মান্য করবে, তাহলে যাদের প্রতি নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করা হয়েছে, সে উনাদের সঙ্গী হবে। (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত নিয়ামতের মূল মালিক। উনার সম্মানার্থে) মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন। (আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি) হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, হযরত ছিদ্দীকীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে, হযরত শুহাদা রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে ও হযরত ছলিহীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে (নিয়ামত মুবারকসমূহ বন্টন করে দিয়েছেন।) আর উনারা কতই না উত্তম সঙ্গী। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: ৬৯)
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে অবারিত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন এবং উনার সম্মানার্থে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ছিদ্দীকীন, শুহাদা, ছলিহীন তথা হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, উলামা ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকেও নিয়ামত মুবারকের একটা হিসসা দান করেছেন তা বর্ণনা করা হয়েছে। আর উনাদের পথটিই হচ্ছে সিরাতুল মুস্তাকীম তথা সরল-সঠিক পথ।
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১১)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮১)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮০)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকারী, কটাক্ষকারী, অবমাননাকারীদেরকে শরঈ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৯)
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৯)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রায় ৭০০ বছর আগের ঐতিহাসিক ফতওয়া:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রায় ৭০০ বছর আগের ঐতিহাসিক ফতওয়া:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৭)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৮)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৬)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












