ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮০)
, ১৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩১ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ফতওয়া বিভাগ
(৪২৫)
فصل في دلالة الآية على حجية القياس دلت هذه الايةُ على أنَّ القياس حُجَّة.
অর্থ: এই পরিচ্ছেদ হচ্ছে কিয়াস শরীয়ত উনার দলীল হওয়ার ব্যাপারে পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রমাণ। অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ প্রমাণ করেছে যে, পবিত্র কিয়াস সম্মানিত শরীয়ত উনার অকাট্য দলীল বা প্রমাণ। (তাফসীরুল লুবাব লি ইবনি আদিল, লেখক: হযরত আবূ হাফ্স উমর বিন আলী ইবনু আদিল দামিশ্কী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৮৮০ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(৪২৬)
فصل في تقديم الكتاب والسنة على القياس دَلَّت هذه الايةُ على أنَّ الكِتَاب والسُنة مُقدِّمان على القِياسِ مُطْلقاً فلا نَتْرُك العَمَل بهما بِسَبَبِ القِياسِ.
অর্থ: এই পরিচ্ছেদ হচ্ছে- পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনারা পবিত্র কিয়াস উনার উপর অগ্রগণ্য। অত্র আয়াত শরীফ প্রমাণ করেছে যে, পবিত্র পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনারা পবিত্র কিয়াস উনার উপর প্রাধান্যযোগ্য। এজন্য পবিত্র কিয়াস উনার কারণে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আহকাম পরিত্যাগ করা যাবে না। (তাফসীরুল লুবাব লি ইবনি আদিল, লেখক: হযরত আবূ হাফ্স উমর বিন আলী ইবনু আদিল দামিশ্কী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৮৮০ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(৪২৭)
فصل في دلالة الاية على أكثر علم الأصول دَلَّت هذه الايةُ على أكْثَرِ أصُولِ الفِقْه، لأن أصُول الشَّريعَة هي الكِتَابُ والسنةُ والإجْماع والقياسُ، فقوله تعالى "اطيعوا الله وأطيعوا الرسول" إشارة للكِتَابِ والسُّنَّةِ، وقوله: "وأولي الأمر منكم" يدل على الإجماع. ... فوجَبَ أن يكُونَ المُرَادُ من {اولى الأَمْرِ} أولي الحَلِّ والعَقْدِ من هذِه الأمَّة وهو الإجْمَاعُ.
অর্থ: এই পরিচ্ছেদ হচ্ছে অধিকাংশ ইলমুল্ উছূল অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হওয়া সম্পর্কে। অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ প্রমাণ করেছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে উছূলুল ফিকহ প্রয়োজন। কেননা, পবিত্র শরীয়ত উনার উছূল হলো, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল্ উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ কিয়াস শরীফ। যেমন মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম: ‘তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করো ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো।’ এখানে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের অনুসরণের ইঙ্গিত রয়েছে।
অনুরূপ মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মুবারক: ‘তোমাদের মধ্যে যারা উলিল্ আমর উনাদের অনুসরণ করো।’ ইহা পবিত্র ইজমা দলীল হওয়ার পক্ষে একটি প্রমাণ। তাই আবশ্যিকভাবে উলিল্ আমর দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য যে, উনারা হচ্ছেন এই উম্মতের মধ্যে ফায়সালাকারী ও মিমাংসাকারী। আর ইহাই হলো পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ। (তাফসীরুল লুবাব লি ইবনি আদিল, লেখক: হযরত আবূ হাফ্স উমর বিন আলী ইবনু আদিল দামিশ্কী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৮৮০ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(৪২৮)
فصل: من المعتبر في الإجماع، إذا ثَبَت أن الإجْماع حُجة، فاعلم: أن المُعْتَبَر إجْمَاعُهم هُمُ الذين يُمْكِنُهُم استِنْبَاط الأحْكَام الشرعية من الكِتَابِ والسنة، و هم المُسَمون بأهْلِ الحَلِّ والعَقْدِ، فهم الَّذين يُمْتَثَلُ أمْرُهُم ونَهْيُهُم بِخلاف المُتَكَلِّم والمُقْرِئ والمُحْدِّث والعَوَامّ الذين لا يُمْكِنُهم الاسْتِنْبَاط.
অর্থ: পবিত্র ইজমা’ গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিষয়ে পরিচ্ছেদ। যখন প্রমাণ হয়েছে যে, পবিত্র ইজমাউল্ উম্মাহ সম্মানিত শরীয়ত উনার দলীল তখন জেনে নেয়া উচিত যে, উনাদের ইজমা’ গ্রহণযোগ্য যে সকল ব্যক্তিত্ব পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে পবিত্র শরয়ী হুকুমসমূহ ইজতিহাদের ভিত্তিতে বের করতে সক্ষম। উনারাই বিচার-বিশ্লেষণকারী হিসেবে স্বীকৃত। উনারাই আদেশ ও নিষেধের ব্যাপারে অনুসরণীয়। তবে যারা মাসয়ালা বের করতে সক্ষম নন যেমন স্বাভাবিক মুতাকাল্লিম (আকায়িদ বিশারদ), কারী, মুহাদ্দিছ ও সাধারণ জনতা; তারা অনুসরণীয় নন। (তাফসীরুল লুবাব লি ইবনি আদিল লেখক: হযরত আবূ হাফ্স উমর বিন আলী ইবনু আদিল দামিশ্কী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৮৮০ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকারী, কটাক্ষকারী, অবমাননাকারীদেরকে শরঈ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৯)
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৯)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রায় ৭০০ বছর আগের ঐতিহাসিক ফতওয়া:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রায় ৭০০ বছর আগের ঐতিহাসিক ফতওয়া:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৭)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৮)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৬)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৭)
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৬)
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৫)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












