পবিত্র উহুদ জিহাদ সংঘটিত হওয়ার ঘটনা
, ০৭ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৮ হাদী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রি:, ০৪ বৈশাখ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
পবিত্র বদর জিহাদে পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থানকারী কাফিররা পবিত্র মদীনা শরীফ আক্রমণ করতে আসলে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার ৩ মাইল উত্তর-পূর্বে উহুদ নামক একটি পাহাড়ের নিকটস্থ কঙ্করময় প্রান্তরে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
পবিত্র উহুদ জিহাদের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১ হাজার লোকের বাহিনী নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফ হতে রওয়ানা দেন। শাওত নামক স্থানে পৌঁছানোর পর জিহাদে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে মুনাফিক নেতা উবাই ইবনে সুলুল ৩ শত লোক নিয়ে দলত্যাগ করে। এতে মুসলিম বাহিনীর লোক সংখ্যা হয় ৭ শত। উনাদের মধ্যে ১০০ জন বর্ম পরিহিত ছিলেন এবং ৫০ জন ছিলেন অশ্বারোহী। মুসলিম বাহিনীকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়। মুহাজির বাহিনী, আউস বাহিনী ও খাজরাজ বাহিনী।
অপরদিকে কাফিররা ছিল তিন হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে ৭০০ ছিল বর্ম পরিহিত। ছিল ২০০ ঘোড়া ও ৩০০০ উট।
মল্লযুদ্ধের মাধ্যমে জিহাদ শুরু হলে তা কঠিন আকার ধারণ করে। কাফিররা দলে দলে পালাতে থাকে। এক সময় পুরো ময়দান ফাকা হয়ে যায়। মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হিসেবে জিহাদের মালামাল গুছানো শুরু করেন। এমতাবস্থায় জিহাদের নিয়ম ভঙ্গ করে কাফিররা পিছন দিকের গিরিপথ দিয়ে আক্রমণ করে। এতে কাফিররা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তা ছিল সাময়িক। মূহুর্তের মধ্যেই মুসলিম বাহিনী কাফিরদের সমুচিত জওয়াব দেন। অনেক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সব কাফিরই পালিয়ে যায়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র উহুদ জিহাদেও মুসলমান উনাদেরকে সুস্পষ্ট বিজয় হাদিয়া করেন।
উল্লেখ্য যে, পবিত্র উহুদ জিহাদ নিয়ে ঐতিহাসিকরা মিথ্যা-বানোয়াট বিভিন্ন মন্তব্য করে। তারা বলতে চায়, পবিত্র উহুদ জিহাদে মুসলমানরা পরাজিত হয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! মুসলমানরা গণিমতের মালামাল লুন্ঠন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
মূলত, বিশ্বের ইতিহাসে কোন জিহাদেই মুসলমানরা পরাজিত হননি। বরং প্রত্যেক জিহাদেই মুসলমানরা বিজয়ী হয়েছেন। উহুদ জিহাদেও মুসলমানরাই বিজয়ী হয়েছেন। কাফিররাই পরাজিত হয়েছে। তারা যদি বিজয়ী হতো, তাহলে তো তারা গণিমত ও বন্দি লাভ করতো। কিন্তু তারা যেহেতু পরাজিত হয়েছে, সেহেতু কোন গণীমত পায়নি এবং কাউকে বন্দিও করতে পারেনি। বরং তারা পালিয়ে গেছে। মুসলমানরাই বিজয়ী হয়েছেন, উনারা গণীমত লাভ করেছেন, কাফিরদের কয়েকজনকে বন্দিও করেছেন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৬ তম পর্ব)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৫ তম পর্ব)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৭)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৪ তম পর্ব)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












