ফতওয়া
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৭)
, ১৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৮ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ১৭ মে, ২০২৫ খ্রি:, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ফতওয়া বিভাগ
আপত্তিসমূহের জওয়াব
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে যে পবিত্র কুরবানী করা সমস্ত উম্মতের জন্য ফরয, এ মাসয়ালা বা ফতওয়া অনেকে মেনে নিতে পারছে না। তাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কিভাবে ফরয হলো? না‘ঊযুবিল্লাহ!
আপত্তিকারীদের প্রথম আপত্তি
এই আমল মুবারক ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার জন্য খাছ। কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে ওছিয়ত মুবারক করেছেন, আদেশ মুবারক করেছেন। অন্যদের জন্য মুস্তাহাব অর্থাৎ করলে ছাওয়াব পাবে, না করলে কিছুই হবে না। না‘ঊযুবিল্লাহ!
এর জবাবে বলতে হয়, সম্মানিত শরীয়ত উনার একটি পরিভাষা রয়েছে যে, নুযূল খাছ হুকুম আম। অর্থাৎ কোনো হুকুম নাযিল হয়েছে কোনো ব্যক্তি বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু ঐ হুকুম মুবারক সবার জন্যই পালন করা আবশ্যক হয়ে যায়। এরকম অনেক সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত রয়েছেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ছিলেন ইহুদীদের মধ্যে অনেক বড় আলিম। তিনি মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর নিয়মিত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে থাকেন। একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ কিছু উটের গোস্ত হাদিয়া মুবারক এসেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক হচ্ছেন- কোনো কিছু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদিয়া মুবারক আসলে, সেখান থেকে একটা অংশ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য ভিতরে পাঠিয়ে দিতেন আর বাকীটা উপস্থিত সকলের মধ্যে বণ্টন মুবারক করার জন্য দিতেন। সেদিনও বণ্টনকৃত উটের গোস্তের এক ভাগ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দেয়া হলো। ইহুদীদের জন্য উটের গোস্ত খাওয়া হারাম ছিলো। তিনি যেহেতু ইহুদীদের মধ্যে অনেক বড় আলিম ছিলেন, তাই তিনি জীবনে কোনো দিন উটের গোস্ত খাননি। আজকে নতুন করে উটের গোস্ত খেতে উনার নিকট কেমন যেন মনে হচ্ছে। সেজন্য তিনি উটের গোস্ত খাওয়া থেকে রুখ্ছত চেয়ে বার বার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আরযী পেশ করতে থাকলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি যখন উটের গোস্ত খাওয়া থেকে বার বার রুখছত চাচ্ছিলেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুপ ছিলেন। কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোনো কথা মুবারক বলেন না, কোনো কাজ মুবারক করেন না এবং কোনো সম্মতি মুবারকও প্রকাশ করেন না।
তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার উটের গোস্ত খাওয়া থেকে বার বার রুখছত চাওয়াকে কেন্দ্র করে সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করলেন,
يٰۤـاَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا ادْخُلُوْا فِـى السِّلْمِ كَآفَّةً. وَلَا تَـتَّبِعُوْا خُطُوٰتِ الشَّيْطٰنِ. اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِـيْـنٌ
“হে ঈমানদাররা! তোমরা সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণরূপে দাখিল হও। কখনও শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। ” (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ্ শরীফ: ২০৮)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা নাযিল হয়েছেন- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার উটের গোস্ত খাওয়া প্রসঙ্গে। উল্লেখিত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার পর তিনি উটের গোস্ত খাওয়া শুরু করেন।
প্রকৃতপক্ষে উটের গোশত খাওয়া সুন্নত মুবারক। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু সম্মানিত আদেশ মুবারক করেছেন, তাই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার জন্য উটের গোস্ত খাওয়া ফরয হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
যদি তাই হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে উনার তরফ থেকে আবাদুল আবাদ অর্থাৎ অনন্তকাল ধরে অর্থাৎ প্রতি বছর সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন, সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক করেছেন, তাহলে এই সম্মানিত আদেশ মুবারক, সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক পালন করা কেন উম্মতের জন্য ফরয হবে না, তা ফিকির করতে হবে। অতএব, সমস্ত উম্মতের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে- সব সময় অর্থাৎ দায়িমীভাবে প্রতি বছর অর্থাৎ অনন্তকালধরে বংশ পরম্পরায় একজনের ইন্তেকালের পর তার পরবর্তী বংশধরগণ অবাদুল আবাদ অর্থাৎ ক্বিয়ামত পর্যন্ত ফরয কুরবানী করে যেতেই থাকতে হবে অর্থাৎ আবাদুল-আবাদ জারী রাখবে ও জারী রাখতে হবে। কোন মতেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করা বন্ধ রাখতে পারবে না বা বন্ধ করতে পারবে না।
(অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রায় ৭০০ বছর আগের ঐতিহাসিক ফতওয়া:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রায় ৭০০ বছর আগের ঐতিহাসিক ফতওয়া:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৭)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৮)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৬)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৭)
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৬)
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৫)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৫)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৪)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












