ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৫)
, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ফতওয়া বিভাগ
(৪১৫)
قال جابر رضى الله عنه وجماعةٌ: أُولُو الأَمْرِ: أهل القران والعِلْمِ.
قال عطاءٌ رحمة الله عليه: طاعةُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم هي اتباع سُنَّته يعني بعد موته، ولفظ ابْنِ العَرَبِيِّ في ্রاحكامهগ্ধ قال: قوله تعالى {وَأُوْلِي الأمر مِنْكُمْ} فيها قولان:
الأوَّل: قال ميمونُ بْنُ مِهْرَانَ رحمة الله عليه هم أصحاب السَّرَايَا، وروى في ذلك حديثاً، وهو اختيار البُخَاريِّ، وروي عن ابْنِ عباس رضى الله عنهما أنَّها نزلَتْ في عبد الله بْنِ حُذَافَة رضى الله عنه إذْ بعثه النبيُّ صلى الله عليه وسلم في سرِيَّة.
والثاني: هم العلماءُ، وبه قال أكثر التابِعِينَ رحمة الله عليهم، واختاره مالكٌ والطبريُّ رحمة الله عليهما.
والصحيحُ عِنْدِي: أنهم الأمراء والعلماء، أمَّا الأمراء فَلأنَّ الأمْرَ منهم والحُكْمَ إلَيْهم، وأمَّا العلماء فَلأنَّ سؤالهم متعيِّن على الخَلْق، وجوابهم لازمٌ، وامتثال فَتْوَاهم واجبٌ، ويدخُلُ فيه تَأَمُّر الزَّوْج على الزَّوْجَةِ؛ لأنَّه حاكِمٌ عليها.
অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও একদল মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, আহলুল কুরআন ও বিজ্ঞ আলিম উনারা। হযরত আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তয়াতুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বারা উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর উনার সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা করা উদ্দেশ্য।
হযরত ইবনুল আরাবী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার তাফসীর ‘আহকামুল কুরআন’ উনার মধ্যে বলেন, উলিল আমর উনার ব্যাপারে দু’টি মত রয়েছে। প্রথমত: হযরত মাইমূন বিন মিহরান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উলিল আমর হচ্ছেন জিহাদের সেনাপতি। এ ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণনা রয়েছে। হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ মতটি পছন্দ করেছেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয় হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুযাফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ব্যাপারে, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে কোন জিহাদে প্রেরণ করেছিলেন।
দ্বিতীয়: উলিল আমর হলেন হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। অধিকাংশ তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম এটাই বলেছেন। হযরত ইমাম মালিক ও তবারী রহমতুল্লাহি আলাইহিমা এ মতটিকে পছন্দ করেছেন।
আমার নিকট বিশুদ্ধ মত এই যে, উলিল আমর হলেন হযরত উমারা ও উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। কেননা, আমীরগণ আদেশ করে থাকেন এবং মানুষদেরকে হুকুম করে থাকেন। আর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে মানুষেরা জিজ্ঞাসা করে থাকে। তাদের জাওয়াব দেয়া, ফতওয়া দেয়া ওয়াজিব। এর দ্বারা স্ত্রীর উপর স্বামী আদেশদাতা প্রমাণিত হয়। কেননা, স্বামী তার স্ত্রীর উপর হাকিম বা কর্তৃত্বকারী। (আল জাওয়াহিরুল হাসসান ফী তাফসীরিল কুরআন অর্থাৎ তাফসীরুস ছায়ালাবী লেখক: হযরত আবূ যায়েদ আব্দুর রহমান বিন মুহম্মদ বিন মাখলূফ ছা’লাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৮৭৫ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(৪১৬)
والرَّدُّ إلى الله هو النَّظْرُ في كتابِهِ العزيزِ، والرَّدُّ إلى الرسولِ هو سؤَالُه صلى الله عليه وسلم في حياتِه، والنَّظْرُ فى سُنَّته بعد وفاته، هذا قولُ مجاهد رحمة الله عليه وغيرِه، وهو الثعالبي المؤلف: ابو زيد عبد الرحمن الصحيحُ.
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে প্রত্যাবর্তন দ্বারা মহিমান্বিত কিতাব তথা পবিত্র কুরআন শরীফ উদ্দেশ্য। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্যাবর্তন দ্বারা উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারকে উনাকে জিজ্ঞাসা করা আর উনার পবিত্র দীদার মুবারকে যাওয়ার পর উনার পবিত্র সুন্নাহ শরীফ তথা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আনুগত্য করা উদ্দেশ্য। এটা হযরত মুজাহিদ ও অপরাপর মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মত। এ মতটি ছহীহ বা বিশুদ্ধ। (আত তাসহীল লিউলূমিত তানযীল অর্থাৎ তাফসীরু ইবনি জুযী, লেখক: হযরত মুহম্মদ বিন আহমদ বিন মুহম্মদ বিন জুযী কালবী গারনাত্বী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি, বিলাদত: ৬৯৩ হিজরী, ওফাত: ৭৪১ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৪)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৩)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭২)
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭১)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৩)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭০)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৯)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (২)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৮)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৭)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












