ঠাঁই দাঁড়িয়ে ঢাকার তৃষ্ণার্ত পানিঘর
, ০১ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পাঁচ মিশালী
সিপাহী বিদ্রোহের বিপ্লবীদের স্মৃতিচিহ্ন ধারণ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বাহাদুর শাহ পার্কের আশেপাশেই রয়েছে প্রাচীন শহর ঢাকার নানান নিদর্শন। ঢাকার প্রথম পেট্রোল পাম্পের অদূরে চোখে পড়বে পুরোনো লালচে পানির ট্যাংক। দেখতে সুউচ্চ বিশালাকার! বাহাদুর শাহ পার্কে কোলাহল আর পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ গাড়ির সারির দেখা মিললেও, পুরোনো সেই পানির ট্যাংক এখন পরিত্যক্ত। সবুজ আগাছায় ছেয়ে আছে পানিঘরটি। পানিঘরে কি পানি মিলবে? না। থাকার কথাও নয়। প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো এই পানিঘর বা ট্যাংক যে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে টিকে আছে, সেটাই-বা কম কিসে!
শুধু ‘বাহাদুর শাহ পার্ক পানির ট্যাংক’ নয়, তিলোত্তমা ঢাকায় অন্তত ৩৮টি ওভারহেড ট্যাংক আছে। যেগুলো একসময় বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য নগরবাসীর প্রধান উৎস ছিল। কালের বিবর্তনে ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পানির পাম্পের ভিড়ে এসব ট্যাংক ‘অসহায়ের মতো’ দাঁড়িয়ে আছে। নেই রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সংরক্ষণের তাড়না। অথচ এসব ট্যাংকের প্রাচীর কাঠামো, স্থাপত্যশৈলী, নির্মাণকৌশল এতই অসাধারণ এবং স্বতন্ত্র যে কারো নজর কেড়ে নিতে বাধ্য।
ওভারহেড ট্যাংকের যাত্রা শুরু:
খন্দকার মাহমুদুল হাসান তার ‘বাংলাদেশের প্রথম ও প্রাচীন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ১৮৬৪ সালে ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর পৌরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য নবাব পরিবার আর্থিক সহায়তা করে। ফলে ১৮৭৮ সালের ২৪ মে থেকে ঢাকাবাসীকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়। পানি সরবরাহের জন্য পানির ট্যাংকটি নির্মিত হয়েছিল।
এর কয়েক বছর পর ঢাকার গেন্ডারিয়ার ভাট্টিখানা এলাকায় নির্মিত হয় ঢাকার দ্বিতীয় ট্যাংক। যার স্থাপত্যশৈলী অনেকটা প্রথমটার মতো। নবাব ও ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বেশিরভাগ ট্যাংকই ছিল লাল ইট-সুড়কি দিয়ে বানানো। পাকিস্তান আমলে ও তার পরবর্তী সময়ে স্থাপিত ট্যাংকগুলো দেখতে বেশিরভাগই সাদাটে রঙের এবং বেশ উঁচু। ফুলবাড়িয়া, ফকিরাপুল, বিজয়নগর, হাটখোলা রোড, লালমাটিয়া, মিরপুর ১০ এলাকার ওভারহেড পানির ট্যাংকগুলো দেখলেই তা বোঝা যায়।
কবে ও কেন বন্ধ হলো?
শোধনাগার থেকে পরিশোধিত করে পাম্পের সাহায্যে ট্যাংকে উঠিয়ে পানি রিজার্ভ করে রাখা হতো ওভারহেড ট্যাংকগুলোতে। সে সময় ঢাকার জনসংখ্যা বেশ কম হওয়ায় এসব রিজার্ভ পানিতেই সমাধান হতো। তবে জনসংখ্যা বাড়ার কারণে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। এর ফলে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় ট্যাংকগুলো। ঢাকার ওভারহেড পানির ট্যাংকগুলোর কোনটি কবে বন্ধ হয়ে গেছে- এর কোনো সঠিক তথ্য কোথাও নেই। ঢাকা ওয়াসার নথিপত্রেও এর রেকর্ড নেই। তবে সর্বশেষ ২০০৭ সালে আগারগাঁওয়ে সর্বশেষ পানির ট্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানা যায়। কেন বন্ধ হলো সেই জবাব দিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ. কে. এম. সহিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ওভারহেড পানির ট্যাংকগুলো ভরতেই সময় লাগত ১০ ঘণ্টার মতো। তাই রিজার্ভ ট্যাংকে পানি উঠিয়ে রাখার মতো সময় আর নেই। এখন সরাসরি লাইনে পানি সাপ্লাই করা হয় বাড়িগুলোর নিজস্ব রিজার্ভ ট্যাংকে। এছাড়া পাম্পের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেশি, বেশ ঝামেলাপূর্ণও। ’
পানির ট্যাংকির নামে নামকরণ:
পানি ট্যাংকগুলোর নামে ঢাকার বিভিন্ন জায়গার নামকরণও হয়েছে। যেমন, ‘ফকিরেরপুল পানির টাংকি’, ‘বিজয়নগর পানির টাংকি’। অথচ এসব ট্যাংকের বেশিরভাগই এখন দখলদারদের কবজায়। কিছু কিছু ট্যাংক অকেজো ও জরাজীর্ণ বিশাল স্তম্ভ হয়েই দাঁড়িয়ে আছে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
রোযায় জরায়ু ও স্তন ক্যানসার রোগীদের করণীয়
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভিটামিন সি কেন প্রয়োজন?
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিড়াল কেন এক পাশে ঘুমায়?
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দুই শতাব্দীর সাক্ষী রূপসা জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাকিস্তানে ঐতিহাসিক ১২০ বছরের ‘বাবা জি’ মসজিদ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতারে যেসব পানীয় পানে দূর হবে ক্লান্তি
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কদম মুবারকে কদম রসূল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৌদি আরব কেন লাখ লাখ উটকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে কারণে ইফতার-সাহরিতে খেজুর খাবেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নারীদের জন্য লালশাক খাওয়া যে কারণে জরুরি
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে বক চয়, জানুন উপকারিতা
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইফতারে হালিম কি স্বাস্থ্যসম্মত?
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












