চীনের উইঘুর নারীদের আর্তনাদ:
জাতিগত নির্মূলের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেকের জাগ্রত হওয়ার ডাক
, ১৭ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ মে, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) ইতিহাস
সেই নারীর আকুতি, "মহামান্য! আমাদের আপনার কাছ থেকে একটি ফতোয়া প্রয়োজন। কারণটা হলো, আমাদের বিয়ে করতে বাধ্য করা হচ্ছে, নাস্তিক অমুসলিম ‘হান’ পুরুষদের সাথে রাত কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছে।"
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি চীনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উইঘুরদের জাতিগত ও দ্বীনি পরিচয় মুছে ফেলার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। চীনের কমিউনিষ্ট সরকার উইঘুর নারীদের ‘হান’ পুরুষদের সাথে জোরপূর্বক বিবাহ এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করে একদিকে উইঘুর জনসংখ্যা হ্রাস করছে, অন্যদিকে তাদের দ্বীনি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধ্বংস করছে। এটি মূলত একটি জাতির সত্তাকে মুছে ফেলার এক আধুনিক ও অদৃশ্য কৌশল।
সেই নারীর আরও প্রশ্ন, "আমরা কি আত্মহত্যা করতে পারি?" এই ভয়াবহ প্রশ্নটি প্রমাণ করে যে উইঘুর নারীদের ওপর যে নির্যাতন চলছে, তা কতটা অসহ্য। যখন একজন ব্যক্তি তার ঈমান ও ইজ্জত রক্ষা করতে না পেরে আত্মহত্যার কথা ভাবেন, তখন সেই সমাজের পতন অনিবার্য। কিন্তু আত্মহত্যা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। এই নারীদের এই চরম অসহায়ত্বের মুহূর্তে বিশ^ মুসলিম উম্মাহ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হলো তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর চলা এই পৈশাচিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।
চীনের এই জাতিগত নির্মূল অভিযানের বিরুদ্ধে বিশে^র নীরবতা আরও ভয়াবহ। পশ্চিমা দেশগুলো অনেক সময় এই ইস্যুতে মুখ খুললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় না। অন্যদিকে মুসলিম দেশগুলোরও একটি বড় অংশ চীনের সাথে অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে এই ইস্যুতে নীরব থাকে। এই নীরবতা চীনের এই পৈশাচিক কাজকে উৎসাহিত করছে।বিশ^বিবেকের এখনই জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলমানদের ওপর চলা এই জাতিগত নির্মূল অভিযানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। একই সাথে চীনের সাথে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বিশ^ মুসলিম উম্মাহকেও এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং উইঘুরদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
ইনসাফ কায়েম হোক, উইঘুরদের সার্বভৌমত্বের মর্যাদা ফিরে আসুক।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফরাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং নববী মুহব্বতের দৃষ্টান্ত
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: অভিশপ্ত ইহুদী মনস্তত্ব বিশ্লেষণ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (৩)
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উসমানীয় সালতানাতে যেভাবে পবিত্র কুরবানীর ঈদ বিশেষভাবে উদযাপন করা হতো
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কুরবানীবিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী জালিম শাসক গৌরগোবিন্দের করুণ পরিণতি
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (২)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (২য় পর্ব)
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৫ম পর্ব)
১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
উসমানীয় শাসনের প্রতি ভারতের মুসলমানদের আত্মত্যাগ এবং সিঙ্গাপুর গণহত্যার করুণ ইতিহাস
১৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












