ছাহিবে কা’বা কাওসাইনে আও আদনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আযীমুশ শান মি’রাজ শরীফ উনার বর্ণনা মুবারক (৭)
, ৩০ শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৩ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ৩১ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ১৭ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) আইন ও জিহাদ
ধন্য হলো আরশে আযীম:
‘আরশে আ’যীমে’ পৌঁছে খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দেখতে পেলেন ‘লাওহে মাহফুজ’। সেখানে লেখা রয়েছে- হাদীছে কুদসী শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “আমার রহমত গযবের উপর প্রাধান্য পেয়েছে। ”
এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আরশে মুয়াল্লা উনাকে’ লক্ষ্য করে বললেন, ‘আমি গোটা আলমের জন্য রহমতস্বরূপ। ’ তোমাদের জন্য কিরূপ রহমত? ‘আরশে মুয়াল্লা’ তিনি তখন বিনয় ও আদবের সাথে জবাব দিলেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সৃষ্টি করার পর আমার মধ্যে কালিমা শরীফ-এর প্রথম অংশ
لا اله الا الله
)‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’( লিখে দিলেন তখন মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী শান মুবারকের কারণে আমার মধ্যে কম্পন শুরু হয়ে গেলো। মনে হচ্ছে যেন আমি ‘আরশে মুয়াল্লা’ ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যাবো। তারপর যখন আপনার নূরময় নাম মুবারক
محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم
‘মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লিখে দিলেন, তখন আমার কম্পন বন্ধ হয়ে গেলো। সুতরাং আমার জন্য আপনি সবচেয়ে বড় রহমত। ” সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ‘আরশে মুয়াল্লায়’ উনার না’লাইন শরীফ খুলে তাশরীফ নিবেন। এমতাবস্থায় ‘আরশ পাক’ তিনি আর্জি জানালেন, হে বারে ইলাহী! আমি ‘আরশে মুয়াল্লা’ আপনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বদম মুবারকের ধুলি পেয়ে ধন্য হওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ। তিনি যেন উনার না’লাইন (স্যান্ডেল) মুবারক পরেই ‘আরশে মুয়াল্লায়’ (তাশরীফ নেন) ক্বদম মুবারক রাখেন। তাহলে ‘আরশে মুয়াল্লা’ সম্মানিত হয়ে যাবে, মর্যাদাবান হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আরশে মুয়াল্লায়’ না’লাইন শরীফ পরেই তাশরীফ নিলেন। ‘আরশে মুয়াল্লা’ ধন্য হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারকে:
এবার খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লা-মাকামের দিকে অর্থাৎ অজানার দিকে রওনা হলেন। যেখানে স্থান কাল বলতে কিছুই নেই। গোটা আলম, এখন খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বদম মুবারকের নিচে। আসমান, যমীন, চন্দ্র, সূর্য, আরশ-কুরসী এমনকি ‘আলমে খালক্ব’ ‘আলমে আমর’ সবকিছুই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ক্বদম মুবারকের তলে। তিনি সবকিছু অতিক্রম করে খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী হলেন।
এ কারণে খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হাদীছে কুদসী শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا حَبِيْبِىْ صَلَّىْ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! اَنَا وَ اَنْتَ وَمَا سِوَاكَ خَلَقْتُ لِاَجْلِكِ، وَ (قِالَ حَبِيْبُ اللهُ صَلَّىْ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَبِّىْ) مَا اَنَا وَمَا سِوَاكَ تَرَكْتُ لِاَجْلِكْ-
“আয় আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এবং আপনি, আর কেউ না। আর আপনার মুহব্বতেই আমি সবকিছু সৃষ্টি করেছি। ” তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জবাব দিলেন, “আয় বারে ইলাহী! আমিও না, শুধুমাত্র আপনিই; আর আপনার মুহব্বতে আমি সমস্ত কিছুই তরক করেছি। ” সুবহানাল্লাহ!
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা হচ্ছে, যমীনে কেউ সরাসরি স্বচক্ষে হাক্বীক্বীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনাকে কখনো দেখবে না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেহেতু বেমেছাল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, সেজন্য তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক সাক্ষাতে গিয়েছেন; মুবারক দীদার ও ছোহবত লাভ করেছেন।
-আল্লামা সাইয়্যিদ আহমদ শাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৯)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












