চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি উদ্ভাবন
, ১৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পাঁচ মিশালী
প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক। উপযুক্ত বিনিয়োগ ও সরকারি সহায়তা পেলে দুই বছরের মধ্যে ট্যানারিগুলোর আন্তর্জাতিক পরিবেশগত সনদ অর্জন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক সেমিনারে এ কথা জানান বিশ^বিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে বিশ^বিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ও দি এশিয়া ফাউন্ডেশন।
মিজানুর রহমান বলেন, উদ্ভাবিত প্রক্রিয়ায় চামড়ার গুণগত মানোন্নয়ন ছাড়াও ট্যানারির তরল বর্জ্যে পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ক্রোমিয়ামের পরিমাণ ৯০ শতাংশ হ্রাস পাবে। অন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিকের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এ প্রক্রিয়ায় নির্গত তরল বর্জ্যও বাহ্যিকভাবে অনেকটাই স্বচ্ছ, যা দৃশ্যমান হবে। উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ৩০ শতাংশ রাসায়নিক খরচ এবং ৫০ শতাংশেরও বেশি তরল বর্জ্য পরিশোধন ব্যয় হ্রাস পাবে। এর ফলে ট্যানারির তরল বর্জ্য পরিশোধন পদ্ধতিও সহজ হবে।
বাংলাদেশের চামড়া শিল্প হতে রপ্তানি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ শিল্প খাতে রপ্তানি হ্রাস পাওয়ার মূল কারণ হলো- বাংলাদেশের ট্যানারিগুলো চামড়া খাতের বৈশি^ক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদপ্রাপ্ত নয়। সনদ পাওয়ার পথে মূল বাধা হলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত না করা, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব।
ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, এই প্রযুক্তিতে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার ৩০ ভাগ কমিয়ে স্বল্প খরচে উদ্ভাবিত এনজাইম ব্যবহার করে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অধিকতর গুণগত মান সম্পন্ন ফিনিশড লেদার উৎপাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া, উদ্ভাবিত এই এনজাইম ব্যবহার করে আনট্যানড কঠিন বর্জ্য থেকে কম খরচে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বায়োডিজেল এবং জৈব সার প্রস্তুত করা যায়, যা দেশের নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস হতে পারে।
গরু-ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি
হচ্ছে শিরিষ আঠা
গরু, ছাগল,
মহিষ
কিংবা ভেড়া; এসব পশুর চামড়ার ফেলে দেয়া
অংশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে এক প্রকার আঠা। যা শিরিষ আঠা নামেও পরিচিত। রাজধানীতে গড়ে উঠেছে
এই আঠা তৈরির ছোট ছোট বেশ কিছু কারখানা। এসব কারখানায় তৈরি হওয়া আঠা ব্যবহার হচ্ছে
বই বাঁধাই থেকে শুরু করে সুতা ও জুতা তৈরির কারখানাসহ ওষুধ তৈরির কাজেও। এ শিল্পের
সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে পাওয়া
গেছে এসব তথ্য।
চামড়া দিয়ে উৎপাদিত গুরুত্বপূর্ণ
পণ্য- জুতা, ব্যাগ, কোমরের বেল্ট, জ্যাকেটের পাশাপাশি এখন চামড়ার খ-িত অংশ আগুনে সিদ্ধ করে গলিয়ে
তৈরি হচ্ছে শিরিষ আঠা।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ এলাকার রাস্তার
দুই ধারে ছোট ছোট ট্রেতে করে শুকানো হচ্ছে কিছু জিনিস। দূর থেকে দেখে হয়তো মনে হবে
আমের আচার বা আমসত্ত্ব শুকানো হচ্ছে। আসলে তা নয়। এটি গরু-ছাগলের চামড়া থেকে আঠা তৈরির
একটি প্রাথমিক প্রক্রিয়া। যার নাম শিরিষ আঠা। বর্তমানে গরু-ছাগলের ফেলে দেওয়া চামড়া
থেকে তৈরি হচ্ছে এই আঠা। সেই আঠার চাহিদা রয়েছে ওষুধ খাদ্যসহ বিভিন্ন শিল্পে।
রাজধানীর হাজারীবাগের পাশাপাশি
বাংলাদেশের অনেক জায়গায় বিশেষ করে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে
চামড়া থেকে আঠা তৈরির কারখানা। যা থেকে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি
করা হচ্ছে। বর্তমানে একেকটি কারখানায় মাসে কোটি টাকার পর্যন্ত এই আঠা বিক্রি হয়ে থাকে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গরু ও ছাগলের চামড়া দিয়ে আঠা তৈরির ইতিহাস বহু
পুরোনো। একসময় কাঠের আসবাবপত্র সংযুক্ত করা থেকে শুরু করে বই বাঁধাই পর্যন্ত নানান
কাজে এই প্রাকৃতিক আঠার ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি শিল্প কারখানার
গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। যা আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। বর্তমানে দেশে চালু
করা হয়েছে বেশ কিছু আঠা তৈরির কারখানা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে
জানা যায়, চামড়াকে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়া
করা হয়। প্রথমেই চামড়ার গায়ে থাকা চর্বি-ময়লা এবং অন্য অপ্রয়োজনীয় অংশ ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর চুনের পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় এসব চামড়া। এর মধ্য দিয়ে চামড়ার গঠন নরম হয়ে যায়।
এরপর শুরু হয় মূল কাজ। বাছাই করা সব চামড়ার অংশ উচ্চ তাপমাত্রায় সিদ্ধ করা হয়। দীর্ঘ
সময় ধরে চলে এই প্রক্রিয়া। এর ফলে চামড়া গলে গিয়ে তরলে পরিণত হয়। এই তরল অংশ ছেকে আলাদা
করা হয়। যা পরবর্তীতে ছোট ছোট ট্রেতে শুকানো হয়। শুকানোর পর তা দেখতে অনেকটা আমসত্ত্বের
মতো লাগে। গরু-ছাগলের চামড়া থেকে এভাবে বিভিন্ন ধরনের আঠা তৈরি করা হয়। যার কোনোটা
কাজে লাগে ওষুধ শিল্পে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ক্যাপসুল জাতীয় ওষুধের ওপরের আবরণ
তৈরিতেও এই চামড়ার আঠা কাজে লাগে। বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস পণ্যেও এর ব্যবহার হচ্ছে।
নানান ধরনের ক্রিম এবং চুলের চিকিৎসায়ও এসব পণ্য কাজে লাগে। একসময় কাঠের আসবাবপত্র
তৈরিতে চামড়ার আঠা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এখনও উন্নতমানের ফার্নিচারে এসব আঠা ব্যবহার করা
হয়। পাশাপাশি জুতা তৈরির কাজে প্রয়োজন হয় চামড়ার আঠা। বাংলাদেশের এসব কারখানায় উৎপাদিত
চামড়ার আঠা প্রচুর পরিমাণে জুতার কাজে লাগে। চামড়া থেকে আঠা তৈরি করা এখন লাভজনক ব্যবসা।
কারণ বাংলাদেশের চামড়ার অভাব নেই। খরচও তুলনামূলক কম। তাছাড়া চামড়া সিদ্ধ করতে যে জ্বালানির
প্রয়োজন হয় তা ফেলে দেওয়া চামড়ার বিভিন্ন অংশ থেকেই পাওয়া যায়।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া থেকে বানানো আঠা অনেক
বেশি মূল্যবান। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জেলাটিন ও চামড়ার
আঠার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ওষুধ ও কসমেটিক শিল্পে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য
হারে বেড়েছে। তবে বিদেশে বিক্রির জন্য খুবই উন্নতমানের আঠা তৈরি করতে হয়। বাংলাদেশে
এখনও প্রযুক্তির ব্যবহার কম। সে কারণে রফতানির পরিমাণ বেশি নয়। তবে দেশের চাহিদা মেটাতে
ভূমিকা রাখছে দেশে তৈরি ব্যবসায়ীদের এসব আঠা তৈরির কারখানা। বাংলাদেশে প্রতিবছর অনেক
বেশি চামড়া পাওয়া যায়। সে তুলনায় চামড়া শিল্প উন্নত হয়নি। আগে শুধু জুতা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ
ছিল এই শিল্প। বর্তমানে চামড়া থেকে আঠা তৈরির ফলে অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি হাজারও
মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
জানতে চাইলে হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ
এলাকায় গড়ে তোলা একজন আঠা তৈরির কারখানার মালিক আফজাল হোসেন বলেন, আগে ব্যবসা ভালো হতো। কারণ কাঁচামাল সংগ্রহে কোনও
টাকা-পয়সা লাগতো না। ট্যানারিতে গেলে এমনিতেই পরিত্যক্ত চামড়ার অংশ ফ্রিতে পাওয়া যেতো।
এখন ফ্রি পাওয়া যায় না। কেজি দরে কিনে আনতে হয়। প্রতিকেজি পরিত্যক্ত চামড়া ৮ থেকে ৯
টাকা কেজি দরে কিনতে হয়। এর পর রয়েছে পরিবহন খরচ। হাজারীবাগে ট্যানারি শিল্প থাকাকালীন
কোনও পরিবহন খরচ ছিল না। বর্তমানে সাভারের চামড়া শিল্প নগরী থেকে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ
এলাকা পর্যন্ত এক ট্রাক কাঁচামাল আনতে গুনতে হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।’
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নদীর বুকে সবুজ রহস্য ‘ধাঁধার চর’
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুস্থ থাকতে লিফট নয়, ভরসা হোক সিঁড়ি
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কিশোর-কিশোরীদের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে মোবাইল ফোন স্ক্রলিং
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যদি চাঁদ না থাকতো তাহলে কী ঘটতো
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যেভাবে গোশত সংরক্ষণ করলে ১ বছর পর্যন্ত ভালো থাকবে
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রোটিনের মানের দিক দিয়ে দুনিয়ার সেরা গোশত হচ্ছে গরুর গোশত
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়লো তিমি
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তাৎক্ষণিক উত্তরে দুর্বল হচ্ছে মানবমেধা
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রকৃতির কীটনাশক পিঁপড়া
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যুদ্ধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে?
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গরুর চামড়া গোশতের মতোই স্বাদ, রান্না করবেন যেভাবে
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গার্হস্থ: গৃহ ব্যবস্থাপনায় যে সকল গুণাবলির প্রয়োজন
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












