চলচ্চিত্র নামক জাহান্নামী সংস্কৃতির ফাঁদে মুসলিম উম্মাহ। নাটক-সিনেমার মাধ্যমে মুসলিম প্রজন্মকে দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সিনেমার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিস্তার ঘটছে ইসলামোফোবিয়ার। পরকালের কথা স্মরণ করে মুসলিম উম্মাহকে বিধর্মীদের এসব ষড়যন্ত্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
, ০৭ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৭ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ১৬ মে, ২০২৪ খ্রি:, ০২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত কয়েক বছরে মুসলমানদের সন্ত্রাসী, দেশবিরোধী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে সিনেমা তৈরির ধুম পড়েছে। এসব সিনেমা আবার মুসলিম দেশগুলোতে প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং সেখানে ব্যাপক আয় করছে সিনেমাগুলো। মাঝে মধ্যে মুসলিমবিদ্বেষ থাকার কারণে কিছু সিনেমা নিষিদ্ধ হলেও সিংহভাগ সিনেমাই মুসলিম দেশগুলোর সিনেমা হলে প্রচার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় চলচ্চিত্রে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম অবমাননা এবং মুসলিমবিদ্বেষ তথা মুসলমানদের উগ্রবাদী, দেশবিরোধী এবং সন্ত্রাসবাদী হিসেবে প্রদর্শন করা নতুন কোনো বিষয় নয়। ভারতের বর্তমান সরকার এবং ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি টিকেই আছে মুসলিমবিদ্বেষের প্রচার-প্রসার করে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের মুসলমানদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক এবং আক্রমণাত্মক চলচ্চিত্র ভারতে অহরহ তৈরী হচ্ছে। ভারতের মুসলিম শাসক, যাদের মাধ্যমে আধুনিক ভারতের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে তাদের নিয়েও ইতিহাস বিকৃত করে বানানো হচ্ছে মুসলিমবিদ্বেষী সিনেমা। ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানির মতো পুরোদমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধভাবে নেমেছে ভারতীয় ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি।
মুসলিমবিরোধী সিনেমার পেছনে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে মুসলিম দেশগুলোতে এসবের প্রচার প্রসার করে মুসলিম মননে তারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে বিরুপ ধারণা দিচ্ছে, দ্বীন ইসলামবিরোধী মতভেদ উস্কে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। চলচ্চিত্রের অবাধ প্রবেশ এবং প্রসারের কারণে বাংলাদেশের কথিত চলচ্চিত্র মহলও এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশে নারীবাদের নাম দিয়ে হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারকে কটূক্তি করে সিনেমা তৈরীর দুঃসাহস দেখাচ্ছে। কুটকৌশলে মুসলমানদের মধ্যে দ্বীন ইসলামবৈরী পরিবেশ সৃষ্টি করছে। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে সরকার কোনো প্রকার পদক্ষেপই নিচ্ছে না। উল্টো ২ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে দেশের প্রতিটি জেলায় সিনেমা হল নির্মাণের জন্য। নাউযুবিল্লাহ!
এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে চলচ্চিত্র ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। যে কাতার কিছুদিন পরপর ভারতীয় সিনেমা নিষিদ্ধ করে সেই কাতারকে বলা হয় ভারতীয় সিনেমার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। এমনকি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পবিত্র ভূমি জাজিরাতুল আরব অর্থাৎ সৌদিতেই চলচ্চিত্রের অবাধ প্রসার হচ্ছে। সৌদিতে আর্থসামাজিক সংস্কারের অজুহাত দিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় ২০১৮ সালে। সিনেমা বানানোর ৪০% খরচ দেয়ার ঘোষণা দেয় সৌদি ইহুদীবাদী সরকার। ফলে সৌদিতে বাড়ছে সিনেমা হল, রমরমা সিনেমার ব্যবসা। বর্তমানে দেশটিতে ১৫৪টি সিনেমা হল চালু রয়েছে। ৭০০ সিনেমা হল নির্মাণ করা হচ্ছে যাতে খরচ হবে ১৬ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল। বাংলাদেশি টাকায় যা ৪৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সিনেমা হলগুলোতে সর্বমোট ৫০০ স্ক্রিনে সিনেমা প্রদর্শনী হয়। এসব হলে সিনেমা মুক্তি দিয়ে দেশটি সদ্য বিদায়ী বছরে আয় করেছে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় তিন হাজার ৮৫০ কোটি টাকার বেশি। ২০২৫ সালে সৌদি আরব বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম সিনেবাজার হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
অপরদিকে বিধর্মীরা সুক্ষè কৌশলে মুসলমানদের বিরুদ্ধেই চলচ্চিত্র তৈরী করে তা তাদের দেশে প্রচার প্রসার করে তাদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলাম ফোবিয়া তৈরি করে দিচ্ছে তথা ইসলামবিরোধী স্বার্থসিদ্ধি করছে।
মূলত চলচ্চিত্রের কারণে বর্তমান মুসলিম প্রজন্ম এবং আগামীর মুসলিম প্রজন্ম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার চেতনা, মুহব্বত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এজন্য দ্বীন ইসলামবিরোধী চলচ্চিত্র তাদের মননে কোনো প্রভাব ফেলছে না। তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে পারছে না। আওয়াজ তুলতে পারছে না। বরং এসব বিষয়কে তারা স্বাভাবিকই মনে করছে। নাউযুবিল্লাহ! ভয়াবহ বিষয় হলো, বাংলাদেশের মতো দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশে চলচ্চিত্র উদ্বোধন করা হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
অথচ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম তথা সম্মানিত শরীয়ত অনুসারে গান-বাজনা, নাটক-সিনেমা সম্পূর্ণরূপেই হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং এগুলোকে জায়েজ মনে করা কাট্টা কুফরী এবং ঈমান হারানোর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাদ্যযন্ত্রের বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছি। ছবি নির্মাণের বিষয়ে হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ছবি নির্মাতাদের কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি দেয়া হবে এবং সে যা তৈরী করেছে তাদের জীবন দিতে বলা হবে। (বুখারী শরীফ) আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, যারা মহিলাদের কণ্ঠের এবং তাদের নিমিত্তে রচিত গান-কবিতা শুনবে তারা জাহান্নামী। অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে চলচ্চিত্র, গান-বাজনার মতো এসব কর্মকান্ডকে শক্তভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
সঙ্গতকারণে সংবিধানে বিধিবদ্ধ রাষ্ট্রদ্বীন ইসলামের আলোকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাবো, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হিসেবে দেশে সংস্কৃতি চর্চার নাম দিয়ে জাতির সুস্থ চেতনা ধ্বংসের হাতিয়ার চলচ্চিত্রের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে ব্যক্তি কোন অন্যায় হতে দেখে বাঁধা না দেয়, সে যেন মহান আল্লাহ পাক উনার আযাবের অপেক্ষায় থাকে”। আমরা আশা করবো, সরকার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোকে নিজেরাও আযাব থেকে দূরে থাকবে এবং জনগনকেও খোদায়ী আযাব থেকে রক্ষা করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভারত বাংলাদেশ চুক্তিকে তারা গোলামীর চুক্তি বলে কঠিন আওয়াজ তুলেছিলো! আজ আমেরিকার প্রকাশ্য গোলামী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে তারা নীরব কেনো? দেশ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধীরাও নিস্ক্রিয় থেকে কঠিন বৈষম্য করছে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ২য় অংশ)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম রফতানীর বাধা দূর এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় গুরুত্ব দিন
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর জন্য ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কৌশলগত রোডম্যাপ (পর্ব-১২ : ১ম অংশ)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বর্তমানে সন্ত্রাসী দখলদার ইহুদীদের দ্বারা ফিলিস্তীনীদের উপরে চরম যুদ্ধাপরাধ করার পরও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করার পরও কী এদেশের মুসলমানরা আর্জেন্টিনা উন্মাদনায় উন্মত্ত থাকবে? গ্যালারীতে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা, মুসলমান বলে মিশরীয় সমর্থকদের উপর মদ ছিটিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করেছে।
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নারিকেল দ্বীপ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অস্তিত্বের সংকট
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
রেলে যাত্রীসেবার সাথে সাথে পণ্য পরিবহণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দিতে হবে।
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কৌশলগত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা: সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যা কিছু ‘কালো’ তার সাথে ‘প্রথম কালো’ প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে "যুদ্ধের ট্রফি" হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (৩)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












