গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
, ২১ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৪ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মুস্তাহাব গোসল:
১. বালক কিংবা বালিকা ১৫ বৎসর বয়সের মধ্যে বালেগ হওয়ার চিহ্ন না পাওয়া গেলেও গোসল করা।
২. পাগলের সুস্থ হওয়ার পর গোসল করা।
৩. পীড়া অথবা আঘাতবশতঃ বেহুশ হয়ে হুশ ফেরার পর গোসল করা।
৪. নেশাখোরের নেশা হতে মুক্ত হওয়ার পর গোসল করা।
৫. শরীরে শিঙ্গা লাগানোর পর গোসল করা।
৬. মৃতকে গোসল দেয়ার পরে গোসল করা।
৭. পবিত্র শবে বরাত (পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের ১৫ই রাতে) উনার রাতে গোসল করা।
৮. পবিত্র আরাফা (পবিত্র ৯ই যিলহজ্জ শরীফ) উনার রাতে গোসল করা।
৯. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করার সময় গোসল করা।
১০. পবিত্র ১০ই যিলহজ্জ শরীফ অতি প্রত্যুষে সূর্য উদয়ের পূর্বে গোসল করা।
১১. পবিত্র মীনা ময়দান উনার মধ্যে প্রবেশের সময় গোসল করা।
১২. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশের সময় গোসল করা।
১৩. পবিত্র তাওয়াফে যিয়ারতের জন্য গোসল করা।
১৪. ১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্জ শরীফ, এ তিনদিনে কঙ্কর নিক্ষেপকালে গোসল করা।
১৫. চন্দ্রগ্রহণ এবং সূর্যগ্রহণের সময় গোসল করা।
১৬. ইসতিস্কা নামায উনার জন্য গোসল করা।
১৭. কোনো ভয়াবহ ঘটনা উপস্থিত হলে গোসল করা।
১৮. দিনে অন্ধকার হয়ে গেলে গোসল করা।
১৯. ভীষণ ঝড়-তুফান হলে গোসল করা।
২০. গুনাহ হতে তওবাকালে গোসল করা।
২১. বিদেশ হতে গৃহে আসার সময় গোসল করা।
২২. রোগের কারণে স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব হয়ে বন্ধ হলে গোসল করা।
২৩. কারো প্রাণ বধ হওয়াকালে গোসল করা।
২৪. কোন পরহেযগার লোকের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার সময় গোসল করা।
২৫. নতুন কাপড় পরিধানের সময় গোসল করা।
২৬. ইহ্তিলাম (স্বপ্নদোষ) হওয়ার পরে আহলিয়ার সাথে একান্তে অবস্থান করার ইচ্ছা করলে গোসল করা মুস্তাহাব।
গোসল উনার ফরযসমূহ:
গোসল উনার ফরয তিনটি :
১. গড়গড়াসহ কুলি করা।
২. নাকে পানি দেয়া।
৩. সমস্ত শরীর এমনভাবে ধৌত করা যেন একটি পশমও শুকনা না থাকে। (ফতওয়ায়ে শামী)
জ্ঞাতব্য বিষয় : গড়গড়ার সাথে কুলি করা আবশ্যক, তবে রোযাদার ব্যক্তিদের জন্য গড়গড়া করতে হবে না। নাকের ভিতরের উপরিস্থ শক্ত হাড্ডি পর্যন্ত পানি প্রবেশ করিয়ে এমনভাবে ঝেড়ে ফেলতে হবে, যেনো কোনো প্রকার শুষ্ক ময়লা না থাকে। রোযাদার হলে, অঙ্গুলি দ্বারা নাকের ছিদ্র ভিজিয়ে নিবে।
ফরয গোসলে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনভাবে ধৌত করতে হবে, যেনো চুল পরিমাণ স্থানও শুষ্ক না থাকে। অন্যথায় শরীর পাক হবে না। অতএব ফরয গোসলে নিম্নলিখিত অঙ্গসমূহের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।
১) নাভী ও কানের প্যাঁচের স্থান।
২) হাত, কান, নাক এবং গলায় অলংকার পরিহিত স্থান।
৩) মাথার চুল, দাড়ি, ভ্রু, মোচ যদি এমন ঘন হয় যে, সহজে পানি প্রবেশ করে না, তাহলে সে সমস্ত স্থানের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে, যেনো একটি চুলের গোড়াও শুষ্ক না থাকে। যদি মহিলার মাথার চুল খোলা থাকে, তবে সমস্ত চুল ধৌত করা ফরয। আর যদি খোপা কিংবা বেণী বাঁধা থাকে, তাহলে শুধু চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছালেই যথেষ্ট হবে। খোপা বা বেণীর কারণে যদি চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে তা খুলে ধৌত করা অপরিহার্য। কিন্তু, সতর্কতার জন্য সর্বদা খোপা বা বেণী খুলে পানি পৌঁছানোই উত্তম।
৪) পায়ের বা শরীরের ফাটা স্থানে মলমজাতীয় ওষুধ লাগানো থাকলে অথবা শরীরের কোনো স্থানে মাছের আঁশ, আঠা লেগে থাকে তবে তা উঠিয়ে ফেলতে হবে।
৫) যাদের অঙ্গুলি এরূপ জমাট যে, সহজে পানি প্রবেশ করেনা, তার প্রতি দৃষ্টি রেখে পানি পৌঁছাতে হবে।
৬) যাদের খতনা হয়নি, বিনা কষ্টে লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া উল্টানো সম্ভব হলে, তা খুলে ধৌত করতে হবে।
৭) যে কোন অপবিত্রতা অর্থাৎ মাসিক মাজুরতা হোক অথবা সন্তান হওয়ার কারনে মাজুরতা হোক প্রত্যেক নাপাকীর গোসলে মহিলাদের বড় ও ছোট ইস্তিঞ্জার স্থান ভালোরূপে ধৌত করতে হবে।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নেককাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (৩)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২১)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হামদ্ শরীফ, পবিত্র না’ত শরীফ ও পবিত্র ক্বাছীদাহ শরীফ লেখা, পাঠ করা ও শোনা খাছ সুন্নত মুবারক। গান-বাজনা করা, শোনা হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত (৪)
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হামদ্ শরীফ, পবিত্র না’ত শরীফ ও পবিত্র ক্বাছীদাহ শরীফ লেখা, পাঠ করা ও শোনা খাছ সুন্নত মুবারক। গান-বাজনা করা, শোনা হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত (৩)
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হামদ্ শরীফ, পবিত্র না’ত শরীফ ও পবিত্র ক্বাছীদাহ শরীফ লেখা, পাঠ করা ও শোনা খাছ সুন্নত মুবারক। গান-বাজনা করা, শোনা হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত (২)
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র হামদ্ শরীফ, পবিত্র না’ত শরীফ ও পবিত্র ক্বাছীদাহ শরীফ লেখা, পাঠ করা ও শোনা খাছ সুন্নত মুবারক গান-বাজনা করা, শোনা হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত (১)
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ”
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২০)
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












