গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৩)
, ২০ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আইন ও জিহাদ
মুসলমানদের সম্মানিত মক্কা শরীফ অভিমুখে অগ্রে গমন মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছিলেন সম্মানিত মক্কা শরীফ অভিমুখে অগ্রসরমান। যখন উনারা যুল হুলাইফায় গিয়ে পৌঁছলেন তখন কুরবানীর পশুকে হার পরিয়ে দিলেন, উটের পিঠের উঁচু জায়গা কেটে চিহ্নিত করলেন এবং উমরাহ করার জন্য ইহরাম বাঁধলেন। এর প্রত্যক্ষ উদ্দেশ্য ছিলো, লোকজনেরা যেন নিশ্চিন্ত থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যুদ্ধ করবেন না। কুরাইশদের খবরাখবর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে খুযাআহ সম্প্রদায়ের একজনকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে প্রেরণ করা হলো। অগ্রভাগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উসফান নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন এ গোয়েন্দা ফিরে এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অবহিত করলেন যে, মুসলমানদের সাথে মুখোমুখী যুদ্ধ করার জন্য কা‘ব বিন লুওয়াই সাহায্যকারী আহাবীশ (মিত্র) গোত্রকে সংঘবদ্ধ করছে এবং আরও সৈন্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। সে আপনার সঙ্গে যুদ্ধ করার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর সম্মানিত বাইতুল্লাহ শরীফ থেকে আপনাকে বিরত রাখার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
এ সংবাদ অবগত হওয়ার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সঙ্গে এক পরামর্শ মজলিস করলেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন-
(أَتَرَوْنَ نَمِيْل إِلٰى ذَرَارِيْ هٰؤُلَاءِ الَّذِيْنَ أَعَانُوْهُمْ فَنَصِيْبَهُمْ؟ فَإِنْ قَعَدُوْا قَعَدُوْا مُوْتُوْرِيْنَ مَحْزُوْنِيْنَ، وَإِنْ نَجَوْا يَكُنْ عُنُقٌ قَطَعَهَا اللهُ، أَمْ تُرِيْدُوْنَ أَنْ نَؤمَ هٰذَا الْبَيْتِ فَمَنْ صَدَّنَا عَنْهُ قَاتَلْنَاهُ؟)
‘আপনাদের অভিমত কি এটা, যে সকল লোক আমাদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের সাহায্য করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমরা তাদের পরিবারবর্গের উপর আক্রমণ চালিয়ে সেসব দখল করে নেই। এরপর যদি তারা চুপচাপ বসে পড়ে তাহলে সেটা হবে কল্যাণজনক। এতে আমরা ধারণা করবো যে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি, চিন্তা ভাবনা এবং দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেই তারা বসে পড়েছে। আর যদি তারা পলায়ন করে তাতেও তাদের এমন এক অবস্থার মধ্যে দেখবো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের গর্দান কেটে দিয়েছেন অথবা আপনারা এ অভিমত পোষণ করছেন যে, আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর সম্মানিত বাইতুল্লাহ শরীফ অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকি। আমাদের রওয়ানাপথে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আমরা তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবো। (ছহীহ ইবনে হিব্বান শরীফ)¬¬
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারকের পরিপ্রেক্ষিতে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “কি করতে হবে তা মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ভাল জানেন, তবে আমরা এসেছি উমরাহ পালন করতে, যুদ্ধ করতে নয়। অবশ্য কেউ যদি আমাদের এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ঘরের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা তাদের সাথে জিহাদে লিপ্ত হতে বাধ্য হবো।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘ভাল কথা, আপনারা সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকুন।’ সকলে রওয়ানা শুরু করলেন।
এদিকে কুরাইশরা যখন মুসলমানদের আগমন সম্পর্কে অবহিত হলো তখন তারা একটি পরামর্শ বৈঠকে মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যে প্রকারেই হোক মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর হতে মুসলমানদের নিবৃত্ত করতেই হবে। নাঊযুবিল্লাহ! এমনি এক অবস্থার প্রেক্ষাপটে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশদের সাহায্যকারী লোকজন অধ্যুষিত জনপদের পার্শ্ববর্তী পথ দিয়ে পথচলা অব্যাহত রাখলেন। এ সময় বনু কা’ব গোত্রের এক লোক এসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে পেশ করলেন যে, কুরাইশরা যী’তাওয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেছে এবং হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তিনি তখনও দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেননি) দুই শত ঘোড়সওয়ার সৈন্য দল নিয়ে কুরাউল গামীমে প্রস্তুত রয়েছেন। (কুরাউল গামীম মক্কা শরীফ যাওয়ার পথে মধ্যস্থলে এবং যাতায়াতের মহাসড়কের উপর অবস্থিত।) হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মুসলমানদেরকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এমন এক স্থানে ঘোড়সওয়ারদের মোতায়েন করলেন যেখান থেকে উভয় দলই পরস্পর পরস্পরকে দেখতে পাচ্ছিলো। পবিত্র যোহরের ওয়াক্তে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি প্রত্যক্ষ করলেন যে, মুসলমানগণ নামাযের মধ্যে রুকু সিজদাহ করছেন। এতে উনার ধারণা হলো, নামাযের মধ্যে যখন উনারা বহির্জগত সম্পর্কে চিন্তামুক্ত অবস্থায় থাকেন তখন আক্রমণ চালালে সহজেই উনাদের পরাভূত করা সম্ভব হতে পারে। উনার এ ধারণার প্রেক্ষিতে তিনি স্থির করলেন যে, আছরের সময় উনার বাহিনী নিয়ে তিনি আকস্মিকভাবে মুসলমানদের উপর আক্রমণ চালাবেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি ঠিক সেই সময়েই ছলাতুল খাওফ (যুদ্ধাবস্থার বিশেষ নামায) উনার ব্যাপারে মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ নাযিল করলেন। ফলে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সে সুযোগ লাভ সম্ভব হলো না। (চলবে)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১১)
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৯ম পর্ব)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৯)
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১০)
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












