মন্তব্য কলাম
খাদ্যে ব্যবহৃত কেমিক্যালের মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেই কেনো? মান যাচাইয়ের প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের মান শূন্য কেনো? সরকারের কর্তব্য কী?
, ১৭ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
বাজারের প্রায় সব খাবারেই দেদারছে ব্যবহৃত হচ্ছে কেমিক্যাল। কেক, পাউরুটি, বিস্কুট, চানাচুর, আইসক্রিম, চকোলেটসহ নানা পণ্য মুখরোচক করতে এ কেমিক্যালের ব্যবহার। কিন্তু এসব কেমিক্যাল আদৌ মানসম্পন্ন কিনা বা তা সঠিক মাত্রায় ব্যবহার হয়েছে কিনা, তা যাচাইয়ের কোনো উপায় নেই। প্রস্তুতকারক জানে না, খাবার তৈরিতে তারা যে রঙ মেশাচ্ছে, তা ফুড গ্রেডেড বা খাবারে ব্যবহারের উপযোগী কিনা। বিক্রেতারাও জানে না পণ্যে ব্যবহৃত রঙ মানসম্পন্ন কিনা। এমনকি বিএসটিআইয়ের আইনেও খাবারে ব্যবহৃত কেমিক্যালের মাত্রা পরীক্ষার বিধান রাখা হয়নি।
বিএসটিআইয়ের পরিচালক এ প্রসঙ্গে বলেছে, তৈরি পণ্যের গুণমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। খাবারে কেমিক্যাল ব্যবহারে বিএসটিআইয়ের স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। ওই স্ট্যান্ডার্ডে ব্যবহারের মাত্রা রয়েছে। তবে সঠিক মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তা ব্যবহারকারীরাই ভালো বলতে পারবে। তা দেখার দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের নয়। বলাবাহুল্য বিএসটিআইয়ের এ বক্তব্য গোটা জাতির জন্য গভীর হতাশাব্যাঞ্জক।
জানা গেছে, বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে খাদ্যে ব্যবহৃত ইস্ট, বেকিং পাউডার, হাইড্রোজ, ঘন চিনি, স্যাকারিন, ব্রেড ও কেক ইমপ্রুভার, বোরিক পাউডার, অ্যামোনিয়াম বাইকার্বোনেট, চেরি ফল, সাইট্রিক এসিড, সোডিয়াম পাইরোফসফেট, আম, কলা, আপেল, কমলা, ডিম, কাঁঠাল, ঘি, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও মরিচের রঙ। এসব কেমিক্যাল খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয়ে আসছে।
জানা গেছে, পাউরুটি তৈরিতে ব্যবহার হয় ব্রেড ইমপ্রুভার, ঘন চিনি, স্যাকারিন, ইস্ট ও বেকিং পাউডার। বিস্কুটে বেকিং পাউডার, ফ্লেভার, ডিমের রঙ, ঘির ফ্লেভার, ডালডা ও তেলের পরিবর্তে মার্জারিন, অ্যামোনিয়াম বাইকার্বোনেট। কেক তৈরিতে ইমপ্রুভার, হপস পাউডার, চেরি ফল ও হাইড্রোজ। চানাচুরে সাইট্রিক এসিড, টেস্টিং সল্ট, সোডিয়াম বেনজয়েট, বেকিং পাউডার, রঙ ও সোডিয়াম পাইরোফসফেট। আইসক্রিমে ব্যবহার হচ্ছে রঙ, স্যাকারিন ও কোকো পাউডার। কিন্তু এসব কেমিক্যাল সঠিক মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে কিনা বা উৎপাদনকারীরা যে কেমিক্যালটি ব্যবহার করছে, তা মানসম্পন্ন কিনা, সেটাও জানে না ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ রয়েছে, খাবার তৈরিতে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে এসব কেমিক্যাল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে টেক্সটাইল মিলে ব্যবহার করা রঙ। অসৎ ব্যবসায়ীরা মোটা অঙ্কের লাভের আশায় এসব কেমিক্যাল বিক্রি করছে। এগুলো খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে ঢুকছে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। স¦াস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষিদ্ধ কেমিক্যালযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে গ্যাস্ট্রিক, চর্মরোগ, হাঁপানি, পাকস্থলি প্রদাহ, লিভার ক্যান্সার ও কিডনির নানা রোগ হতে পারে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারের যে প্রতিষ্ঠানটি খাদ্যদ্রব্যসহ সবধরনের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে মাননিয়ন্ত্রণ করে সেই বিএসটিআইয়ের মান নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। যন্ত্রপাতির অভাব, জনবল সংকটসহ বহুবিধ সমস্যায় প্রতিষ্ঠানটি এখনো মানসম্পন্ন হয়ে উঠতে পারেনি। ফলে পণ্যের দাম, মান ও ওজনে ঠকবাজি চলছেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিএসটিআইয়ের স¦ীকৃতি জোটেনি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া গুণগতমানের সনদ কোনো দেশেই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডোর) পরিদর্শক দল বিএসটিআই পরিদর্শন শেষে বলেছে, এর সনদ ও মানের নিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয়। ইউনিডো এ ব্যাপারে কিছু সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সনদ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় রপ্তানিকারকরা দেশীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাতে নানা জটিলতায় পড়ে। বিভিন্ন পণ্যের নমুনা ভারতীয় ল্যাবরেটরির মান সনদ নিয়ে তবেই তা অন্য দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয়।
বিএসটিআইর আঞ্চলিক দফতরগুলোর বেহাল অবস্থা। বিভাগীয় আঞ্চলিক দফতর নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে সাজানো। বিএসটিআইর চট্টগ্রাম দফতরে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ পণ্যের পরীক্ষণ ব্যবস্থা নেই। ১৫৬টি পণ্যের মধ্যে মাত্র ৫৭টির মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি পণ্যের মান পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। অনেক ভেজাল পণ্যের নমুনার ‘পরীক্ষণ রিপোর্টের’ জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। ততদিনে ওই ভেজাল পণ্যের বাজারজাত সম্পন্ন হয়ে যায়।
বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স বাতিল করা শতাধিক প্রতিষ্ঠানের পণ্যও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। পণ্যের মোড়কে যথারীতি ব্যবহৃত হচ্ছে বিএসটিআইর লোগো। ওজনে কম দেয়ার ক্ষেত্রেও চলছে নানা ধরনের কারসাজি। জানা যায়, এক বছরেরও বেশি সময় আগে ১০৬টি প্রতিষ্ঠানের ৪৭ ধরনের খাদ্যপণ্যের লাইসেন্স বাতিল করে বিএসটিআই। কিন্তু এসব পণ্য বিক্রি বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। দেয়া হয়নি কোনো নির্দেশনাও।
একটি পণ্যের নমুনা যাচাই করে বিএসটিআই যে মান সনদ দেয়, সে মান বজায় থাকছে কি না তা তদারকির দায়িত্বও তাদের। কিন্তু বাজারে মান তদারকির নজির দেখা যায় না। পণ্য উৎপাদনকারীর অনুকূলে শুধু মান সনদ দিয়েই বিএসটিআই দায়িত্ব শেষ করছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
বলাবাহুল্য এটা স্বাধীন রাষ্ট্রে সুস্পষ্টত সংবিধান লঙ্ঘন। কাজেই সরকারকে অবিলম্বে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যালসহ সব ক্ষতিকর উপাদান মুক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠাপোষকতা করতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৫০ লক্ষাধিক সেনাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশের বাংকার নেটওয়ার্কের রূপরেখা (পর্ব ৯)
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












