মন্তব্য কলাম
কয়লা খনি আবিষ্কারের ছয় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রধান সংকট বিরাজ করছে সিদ্ধান্তহীনতায়। অহেতুক বিতর্কে সময় যাচ্ছে। সরকার প্রধানকেই সর্বাগ্রে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
, ২৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
দৈনিক আল ইহসানে বহুদিন ধরে লেখালেখি হচ্ছে- ‘আমদানি করা কয়লার চেয়ে দেশি কয়লা উত্তোলন করলে জ্বালানি খরচ কম হবে। দেশি কয়লা উত্তোলন করতে না পারা আমাদের জন্য বড় দুর্বলতা।’
বর্তমানে চালু করা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি নির্মাণাধীন কেন্দ্র উৎপাদনে এলে প্রতি বছর দেশে কয়লার চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন টন। এর পুরো কয়লার জোগান দেশি খনি থেকে দেওয়া সম্ভব। এই কয়লা দিয়ে অন্তত ৪০ বছর চলবে।
কয়লা ওঠালে কোন ক্ষতি নেই বরং অনেক উপকার রয়েছে। বড়পুকুরিয়ায় ১৫ বছর ধরে কয়লা ওঠানো হচ্ছে। এর ফলে কী ওই এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে? গাছপালা নষ্ট হয়েছে? যে জায়গায় কয়লা উত্তোলন করা হয় সে জায়গা একসময় পুকুরে পরিণত হয়। ওই পুকুরে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা যেতে পারে। তাহলে জমি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
দেশে অন্তত সাত হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতি বছর এসব কেন্দ্রের জন্য অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকার কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে সরকারকে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতসহ অতীতের বিভিন্ন সময় দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরণের আর্থিক চাপ ও সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু এ সংকট কাটাতে জ্বালানি চাহিদা পূরণে স্থানীয় কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি বারবার সামনে এলেও কখনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পেট্রোবাংলা তথা খোদ সরকার।
মূলত বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলেও কয়লা উত্তোলনে বড় ধরণের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি; যে কারণে আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়ে দেশের বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ সিদ্ধান্তের অভাবে পড়ে আছে মাটির নিচে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লা খনি আবিষ্কারের ছয় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রধান সংকট ছিল সিদ্ধান্তহীনতা। বিভিন্ন সময় খনি থেকে কয়লা উত্তোলনে ভূগর্ভস্থ ও উন্মুক্ত পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কে কেটে গেছে বছরের পর বছর। কখনো আবার পরিবেশ দূষণ, বিদেশী কোম্পানির হস্তক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ কারণে জ্বালানি বিভাগ বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানির পথে হাঁটলেও নিজস্ব কয়লা সম্পদ উত্তোলনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।
জ্বালানি বিভাগের এক কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, দেশে পাঁচটি খনিতে যে পরিমাণ কয়লা রয়েছে তার ২০ শতাংশ উত্তোলন করা গেলেও ১ হাজার ৫৬৪ মিলিয়ন কয়লা উত্তোলন করা যেতে পারে, যা ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে পেট্রোবাংলা, যা মোট গ্যাসের চাহিদার ২৫ শতাংশ। এ গ্যাস আমদানি করতে সরকারকে গত অর্থবছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করতে হয়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে দেশে এ পর্যন্ত আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি এলএনজি আমদানি হয়েছে। এ আমদানীকৃত গ্যাসের বড় একটি অংশ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে স্থানীয় কয়লা উত্তোলন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে তাতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর বহুলাংশে চাপ কমে যাবে। এতে স্থানীয় কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেমন কম খরচ পড়বে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানি ব্যয়ও কমানো যাবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে দেশের ৫টি কয়লাখনিতে ৮৮০৩ মিলিয়ন টন কয়লার মজুদ রয়েছে। দেশে যে কয়টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে কিংবা নির্মাণাধীন রয়েছে, সেগুলো দীর্ঘ সময় মজুদকৃত কয়লা দিয়েই চালানো যাবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে যে পরিমাণ কয়লার মজুদ তা দিয়ে ৬৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমান তাপশক্তি উৎপাদন করা যাবে। অর্থাৎ কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে খুব দ্রুতই বিদ্যুতের সঙ্কট থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পাবে।
কয়লা উত্তোলনে সর্বশেষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে বা সরকার প্রধান এর কাছ থেকেই সিদ্ধান্ত আসতে হবে। এটা পেট্রোবাংলার একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এখানে সরকার প্রধানকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।’ সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতির’ প্রধানের কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশের’ স্বার্থে- বাংলাদেশের কয়লা উত্তোলনে তিনি উদ্যোগী হবেন- এটাই একান্ত প্রত্যাশা।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












