কৃষি শিল্পায়ন:-
কৃষি শিল্পায়ন যথাযথভাবে করলে দেশবাসীকে কর মুক্ত এবং মূল্যস্ফীতি মুক্ত বাজেট তথা শায়েস্তাখাঁর আমলের মত সস্তা দ্রব্য মূল্যের বাজেট এমনিতেই উপহার দেয়া যাবে ইনশাআল্লাহ
, ২০ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
বাংলাদেশের কৃষি খাতের দুঃখজনক কথা হলো, কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না, আবার ভোক্তাও সস্তায় কিনতে পারে না। মাঝখানের এই বিশাল ‘দাম’ শুষে নিচ্ছে মধ্যসত্ত্বভোগীরা।
গুটিকয়েক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী যখন রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশীদার হয়, তখন তারা একটি শক্তিশালী ‘দাম নিয়ন্ত্রণকারী’ গোষ্ঠী তৈরি করে। এই গোষ্ঠীটি হিমাগার, সার এবং বীজের বাজারের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজেদের স্বার্থেই রফতানী প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিকভাবে জটিল করে রাখে, যাতে রফতানী সহজ হলে তাদের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ ভেঙে না যায় এবং প্রান্তিক কৃষক আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ না পায়। মূলত, এই ভয় থেকেই আমলাতান্ত্রিক লৌহ কাঠামোটি রফতানীর পথে সুকৌশলে কাঁটা বিছিয়ে রেখেছে।
আমাদের ৮০ শতাংশ পাটের বীজ এখনো ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। পাটের দেশ হয়েও কেন আমরা নিজস্ব বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারলাম না? এর উত্তরও লুকিয়ে আছে সেই কাঠামোতে; যেখানে আমদানির কমিশনভোগী গোষ্ঠী দেশীয় গবেষণাকে বছরের পর বছর পিছিয়ে দিচ্ছে। রাষ্ট্র যখন নিজের সক্ষমতা বিসর্জন দিয়ে আমদানিকারকের স্বার্থ রক্ষা করে, তখন কৃষি-শিল্পায়ন কেবল একটি অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়। এই আমদানিনির্ভরতার সুযোগ নিয়ে যারা ফুলে-ফেঁপে ওঠে, তারাই রফতানী প্রক্রিয়াকে জিম্মি করে রাখে; যাতে দেশীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কখনোই বিশ্ববাজারের মূল স্রোতে প্রবেশ করতে না পারে।
বিপুল উৎপাদনের বিপরীতে দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত আধুনিক রাইসমিল ও শস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। হিমাগার ও কোল্ড চেইন অবকাঠামো। ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে কৃষকেরা বাধ্য হয় মৌসুমি দামে পণ্য বিক্রি করতে, যা তাদের আয়কে অনিশ্চিত করে তোলে। অনেক সময় অতিরিক্ত উৎপাদনেও বাজারে দাম পড়ে যায়, কারণ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ নেই।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব কৃষকের আয় কমে যায়, ফলে তারা কৃষিকাজে আগ্রহ হারায়। বেকারত্ব বাড়ে, কারণ কৃষিভিত্তিক শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে না। রফতানী সম্ভাবনা নষ্ট হয়, কারণ আন্তর্জাতিক মানের প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি হয় না।
স্বাধীনতার পর জিডিপির ৬০ শতাংশ আসত কৃষি থেকে, যা আজ ১১ শতাংশে নেমে এলেও কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশের বেশি এখনও এই খাতেই আটকে আছে। তত্ত্বমতে, গ্রামীণ উদ্বৃত্ত শ্রম শিল্পে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা থাকলেও, শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি স্থবির। ফলে শহরমুখী শ্রমিকেরা শোভন কাজের বদলে অনিশ্চিত মজুরির গোলকধাঁধায় পতিত হচ্ছে। সেবা খাত অর্থনীতির অর্ধেকের বেশি দখল করলেও সেখানেও অদক্ষ শ্রম আর মেধা পাচারই মূল বাস্তবতা। এদিকে, পূর্ণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পেয়েও বাংলাদেশের একজন নাগরিক তার উৎপাদনশীলতা-সম্ভাবনার মাত্র ৪৬ শতাংশ অর্জন করতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার গড়ের নিচে। তাই, বাংলাদেশের জন্য সমৃদ্ধি কেবল পোশাক কারখানার সারিতে নয়, বরং কৃষি শিল্পায়নে। যখন আমাদের আলু কোল্ড স্টোরেজে পচে যায় অথচ আমরা চিপস আমদানি করি, যখন দেশীয় সুতা অবিকৃত থাকে আর আমরা ভারত থেকে সুতা আনি, কিংবা রাষ্ট্রীয় চিনিকল বন্ধ করে চিনি আমদানিতে ঝুঁকে পড়ি; তখন বুঝতে হবে আমাদের শিল্পায়ন মডেলটি মৌলিকভাবেই ত্রুটিপূর্ণ। এটি কেবল অর্থনৈতিক অপচয় নয়, বরং জাতীয় সক্ষমতার অপমৃত্যু।
কৃষিকে যদি যথাযথ ভাবে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভব্যতা যাচাই গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষি শিল্পে পরিণত করা যেত তাহলে সোনার বাংলা অনেক আগেই স্বর্ণালী আভায় আলোকিত থাকতো।
ফিলিপাইনে শুধু নারিকেল থেকে ২০ থেকে ২৫ রকমের রকমারি দ্রব্যাদি তৈরী হয়ে সারা বিশ্ব দাপাচ্ছে। চিনে একটি পণ্য দিয়ে ডজন ডজন রকমারি শিল্প জাত পণ্য দ্রব্যাদি তৈরী করে সারা বিশ্বকে দখল করে যাচ্ছে।
বিপরীত দিকে আমাদের বিশেষ কিছু ধানের মুড়ি কার নজর না কাড়বে বা স্বাদে বিবেচ্য না হবে, আমাদের মনুহারি লিচু সারা পৃথিবী রফতানী করার মতো বৈশিষ্ট্য আছে। সরূপ কাঠির/পটিয়ার পেয়েরা, বরিশালের আমড়া, ভোলার তরমুজ, সিলেটের গোয়াল গাদা শিম, যারা লেবু, অদা লেবু, এলাচি লেবু, সাতকড়া, যশোরের খেজুরের পাটালি গুড়, মুক্তগাছার মন্ডা, আমান বাড়িয়ার ছানা মিষ্টি, কুমিল্লার রস মালাই, চিটাগাং এর শুটকি, রাজশাহীর শুটকি, রাজশাহীর শত রকমের আম, রাজশাহীর কালাই রুটি, নাটোরের কাঁচা গোল্লা, ফরিদ পুরের গুড়, দিনাজপুরের সুগন্ধি চাল, নোয়াখালির নারকেল চিড়া, চট্টগ্রামের ছিম, চাঁদপুরের ইলিশ, টাঙ্গাইলের মিষ্টি, ঘোড়াশাল /বিয়ানী বাজার /মধুপুরের আনারস, বগুড়ার দই, কিশোরগঞ্জ আর আমগতির পনির, উপকলীয় অঞ্চলের চিংড়ি, নরসিংদীর কলা, ভাটি এলাকার মাটা খির, এরকম অজ¯্র শস্যাদি বা ফল-ফলাদি যদি
কৃষি শিল্পের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে রফতানী করা হত তাহলে দেশবাসীকে সম্পূর্ণ করমুক্ত, মূল্যস্ফীতি মুক্ত বাজেট খুব সহজেই উপহার দেয়া যেতো ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা ও বহুমাত্রিক সার্ভে প্রযুক্তি: তুরস্ক, ইরান এবং পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতার রোডম্যাপ (পর্ব-১১)
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বঙ্গপোসাগরের শুধু টুনা মাছ বিক্রি করে বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব।
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভারতকে বুঝতে হবে তাদের সে দিন শেষ
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রয়োজন শরয়ী সর্বোচ্চ শাস্তি
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা।
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত প্রতিরক্ষা কৌশলের জরুরি রূপরেখা (পর্ব-১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অন্তর্জালে আম্রিকার সাথে বাংলাদেশের গোপন সমঝোতা- নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ ও সমালোচনা।
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষাধিক সদস্য সম্পন্ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ন্যানোটেকনোলজির কৌশলগত উপযোগিতা (পর্ব-১০)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের সাথে রাশিয়ার মুনাফেকী নূতনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের জাগরণ দরকার।
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত প্রতিরক্ষা কৌশলের জরুরি রূপরেখা (পর্ব-২)
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নওমুসলিমদের আইনি সুরক্ষা ও তথাকথিত ‘ডিটেনশন সেল’ উচ্ছেদের দাবি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশের বাংকার নেটওয়ার্কের রূপরেখা (পর্ব ৯)
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












