কিভাবে বুঝবেন ডেঙ্গু নাকি চিকুনগুনিয়া হয়েছে?
, ২৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পাঁচ মিশালী
দেশে বেশ কিছুদিন ধরে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ বেড়েছে। এডিস মশাবাহিত এই দুই রোগেরই উপসর্গ প্রায় একই রকম।
এ কারণে অনেক রোগীরই প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গুর টেস্ট করানো হয়, কিন্তু এর ফল নেগেটিভ আসে।
পরে আবারও টেস্ট করিয়ে চিকুনগুনিয়া রোগ শনাক্ত হয়েছে এমন কথা জানিয়েছেন অনেকেই।
একই মশাবাহিত এই দুই রোগের উপসর্গ এক হলেও বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। জেনে নিন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের মূল পার্থক্যগুলো কি কি?
চিকুনগুনিয়ার অন্যতম উপসর্গ তীব্র ব্যাথা:
কারো চিকুনগুনিয়া হলে জ্বর সহজে ছাড়তে চায় না। জ্বর আসার এক মাস পরেও জ্বর অনুভূত হয়। সেই সাথে হাতে-পায়ের জয়েন্টে জয়েন্টে তীব্র ব্যাথা থাকে। জ্বরের সাথে সাথে হাত-পা ফুলে যায়, কারো কারো শরীরে পানিও আসে। চিকুনগুনিয়া হলে তীব্র ব্যাথায় ঘুমানো পর্যন্ত যায় না। মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়; সবকিছু তিতা মনে হয়।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মধ্যে কি পার্থক্য?
চিকিৎসকরা বলছেন প্রায় সব রোগীকেই তীব্র ব্যথায় ভুগতে হয় চিকুনগুনিয়া রোগে। ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়া রোগের উপসর্গ কাছাকাছি হলেও এরকম আরও বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যার আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে শরীরে র্যাশ অথবা গুটি হওয়া। ডেঙ্গু রোগের ক্ষেত্রে এটি বহুলভাবে দেখা গেলেও চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে র্যাশ হতে তেমন দেখা যায় না।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাস দুটিই ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে। একই সময়ে এই দুটি রোগের প্রকোপ বাড়ার এটিও একটি কারণ।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ জানান, গত কয়েক বছর আগে যেমনটা ছিলো, তার সাথে বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গের প্যাটার্ন বেশ খানিকটা পাল্টে গেছে।
ডেঙ্গুর উপসর্গ:
ডেঙ্গু জ্বরে এখন তীব্র তাপমাত্রা থাকে।
চার-পাঁচদিন পরে শরীরে লাল লাল র্যাশ হয়। র্যাশটা বেশি হয়।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী অনেক সময় শক সিনড্রোমে চলে যায়।
রক্তের প্লাটিলেট কমে যায়। ফলে রক্তক্ষরণ হয়।
একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শরীরে ব্যাথাও থাকে, তবে ততটা তীব্র নয়।
অনেক সময় ‘এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু’ যেমন এই জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার, হার্ট, কিডনিসহ শরীরের নানা অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে সেই অনুযায়ী রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা খেতে পারেন না, বমি করেন।
চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ:
চিকুনগুনিয়াতে ডেঙ্গুর মতো সব উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দেয় না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
চিকুনগুনিয়াতে আক্রান্ত রোগীর প্রথমেই জ্বর হয়। কিন্তু দুই-তিন দিন পরে জ্বরের তীব্রতা খুব একটা বেশি থাকে না। পরে থেমে থেমে আবার রোগী জ্বরে আক্রান্ত হন। সেটা কখনো কখনো ১০২ ডিগ্রি থেকে ১০৪ ডিগ্রিও হয়।
শরীরে প্রতি জয়েন্টে জয়েন্টে তীব্র ব্যাথা থাকে। প্রায় সব মাসলেও এই ব্যাথা থাকে। তীব্র ব্যাথায় রোগী হাঁটা-চলা করতে পারে না, বসলে উঠতে পারে না এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই জ্বরকে ‘ল্যাংড়া জ্বর’ও বলা হয়।
চিকুনগুনিয়া রোগের অন্যতম উপসর্গ জ্বরের পরে রোগীর পুরো শরীরের গিরায় গিরায় ব্যাথা হয়। হাত-পা ফুলে যায়।
শরীরে র্যাশ তেমন একটা হয় না বললেই চলে।
তীব্র মাথা ব্যাথা, চোখের পেছনে ব্যাথা হয়।
এই রোগে রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়া বা রক্তক্ষরণ হয় না।
রোগী শক সিনড্রোমে চলে যাওয়া অথবা এই রোগে মৃত্যুঝুঁকি একদমই নেই।
অনেক সময় চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর স্কিন বা চামড়ায়ও প্রভাব পড়ে। অনেকের গায়ের রং কালো হয়ে যায়, চামড়া উঠে। ডেঙ্গুতে র্যাশ হলেও শরীরের চামড়া কালো হয়ে যায় না।
এই রোগে মৃত্যুঝুঁকি না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ভুগতে হয় আক্রান্ত রোগীকে।
চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার, হার্ট বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
খাবারে অনীহা এই রোগের রোগীদেরও রয়েছে।
উপসর্গ থেকে ধারণা পাওয়া গেলেও দুটি রোগের ক্ষেত্রেই ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করার মাধ্যমেই চিকিৎসক নিশ্চিত হতে পারেন যে রোগী ঠিক কি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া কখন, কিভাবে শনাক্ত হয়?
বাংলাদেশে প্রথম ২০০৮ সালে চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। এরপরে ২০১৭ সালে ব্যাপক হারে এই জ্বরে মানুষ আক্রান্ত হয়।
এ বছর আবার এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা।
আর ডেঙ্গু রোগটি প্রথম ১৯৬০ সালের দিকে শনাক্ত হয় এই অঞ্চলে। পরে ২০০০ সালে আবার ব্যাপক আকারে ডেঙ্গু দেখা দেয় বাংলাদেশে।
এরপর থেকে দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্যাটার্নের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় মানুষ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে টেস্ট করালে ডেঙ্গু শনাক্ত করা যায়। তবে এর বেশি সময় পার হলে তা আর শনাক্ত হয় না।
কিন্তু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পাঁচ দিন থেকে এক সপ্তাহ পরে চিকুনগুনিয়ার টেস্ট করতে হয়। তবে এই সময়ের আগে টেস্ট করলে চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয় না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এছাড়াও চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হওয়ার আরেকটি নির্দিষ্ট টেস্ট বা পরীক্ষা আরটি-পিসিআর।
চিকিৎসকরা জানান, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসের আরএনএ শনাক্ত করা হয়। পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এই টেস্ট বেশি কার্যকর।
আর চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত রোগীর দেহে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হয় সেরোলজি টেস্টের মাধ্যমে। এই টেস্টও পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে করতে হয় বলে জানান চিকিৎসকরা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১০ হাজার সূর্যের শক্তি ছড়াচ্ছে প্রথম শনাক্ত ব্ল্যাক হোল সিগনাস এক্স-১
০২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
লিরিড উল্কাবৃষ্টি: আকাশে ঝলমলে আলোর রেখা
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সৌরজগতেই থাকতে পারে রহস্যময় ‘পঞ্চম বল’
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাকৃতিক কম্পাস ধ্রুবতারা: আকাশে এক ঝলকে খুঁজে নেওয়ার উপায়
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ডেটা কেবল দিয়ে চার্জের সময় তথ্য চুরি ঠেকাবে এই যন্ত্র
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সব ‘মুকুল’ থেকে আম হয় না কেন?
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মানুষের আয়ু হতে পারে ২০০ বছর, সূত্র মিললো তিমির প্রোটিনে
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভালো ঘুমের জন্য যা প্রয়োজন
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যুদ্ধাস্ত্র : ব্যালিস্টিক মিসাইল কীভাবে কাজ করে
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আমরা অনেকেই জানি না যে, ভাতও একটি সুন্নতী বরকতময় খাবার। আমাদের দেশে পান্তা ভাত একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে গরমের সময়ে অনেকেই খাদ্যতালিকায় এ খাবারকে গুরুত্ব দেন।
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শিশুর জীবন বাঁচাতে তারা মিয়ার বিশেষ খাঁচা, ডাক পাঠালো ফায়ার সার্ভিস
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘হাঁস’ সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানতেন?
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












