মন্তব্য কলাম
কর্মক্ষম জনশক্তি তথা কর্মক্ষমতার স্বর্ণযুগে বাংলাদেশ অথচ যথাযথ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত দেশীয় শ্রমিক স্বদেশে তো ফিরবেই পাশাপাশি বিদেশি কর্মশক্তি বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে।
সরকারের উচিত, এই বোনাসকাল অপচয় না করে এর প্রকৃত সুফল দেশবাসীর হাতে তুলে দেয়া।
, ০৩ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১২ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ১০ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ২৬ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
একটি দেশের কর্মক্ষম হিসেবে বিবেচিত জনসংখ্যার মোট পরিমাণ কর্মক্ষম নয়, এমন জনসংখ্যার (শিশু ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী) তুলনায় বেশি হলে তখন সেই অবস্থাটাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট বা জনমিতিক লভ্যাংশ বলে।
অর্থনীতির ভাষায়, দেশের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ যদি কর্মক্ষম হয় তাহলে দেশটি ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ পাওয়ার অবস্থায় রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ অর্জনের পর্যায়ে রয়েছে।
দেশে কর্মক্ষম মানুষের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করছে বিবিএসও। সম্প্রতি সমন্বয় প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান সচিব বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বয়সী জনগোষ্ঠী ৩২.৮৪ শতাংশ। এরাই আমাদের আগামী দিনের শক্তি। তাদের কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব তথ্য প্রকাশ করা। সরকারের অন্য সংস্থাগুলো এদের নিয়ে কাজ করলে, গবেষণা করলে আগামী দিনে ইতিবাচক ফল পাবে। এদের এখনই কাজে লাগাতে হবে। কারণ এরা প্রোডাক্টিভ। এদের নিয়ে ভাবা উচিত। ’
বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপ করতে হবে। এখন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হয়ে গেলে অনেক বাজার সুবিধা থাকবে না। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা করতে হবে দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে। তিনি বলেন, ‘দেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছি। সেখানে কোন ধরনের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে। প্রতি বছর ২১ লাখের মতো শ্রমবাজারে আসে, এর বড় একটি অংশ বাইরেও চলে যায়। সেখানেও কোনো ধরনের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে সেটা লক্ষণীয়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে অনেক ধরনের নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। সেবা খাত, কেয়ারিং সার্ভিস, মেডিকেল টেকনিশিয়ানসহ অনেক চাকরি। বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা যদি স্কিলগুলো দিতে পারি তাহলে কাজে লাগবে; বিশেষ করে বাজারে যত বেশি যুবক, তত বেশি আনইমপ্লয়মেন্ট। ’
‘বাজারের চাহিদা আগামীতে কী হবে, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সঙ্গে সার্টিফিকেশন, রিকগনিশন বা যেসব জায়গায় আমাদের ছেলেমেয়েরা যাবে তাদের সঙ্গে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং করা। এসব জায়গায় নজর দেওয়ার সময় এখন। বৈদেশিক বাজার, অভ্যন্তরীণ বাজার দুটোরই চাহিদা রয়েছে। দেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনসহ অনেক জায়গায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এমওইউ স্বাক্ষরও করেছে, তারা সেখানে কী ধরনের ইনভেস্ট করছে, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগাযোগ বাড়াতে হবে। যেমন আমাদের এখন নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট হচ্ছে, সেখানে এক্সপার্টদের লাগবে আগামী ৫০ বছর। এখানকার সুযোগগুলো বের করে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। স্বাধীনতার পর আমাদের দেশে কর্মক্ষম লোকের পরিমাণ ছিল মাত্র ২০-২২ শতাংশ। স্বাধীনতার প্রায় ৩৬ বছর পরে ২০০৭ সালে আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬১ শতাংশের বয়স এই সীমার মধ্যে উপনীত হয়, বর্তমানে যা প্রায় ৬৫ শতাংশ। কর্মক্ষম মানুষের এই আধিক্য ২০২৯ সালের পর থেকে কমতে থাকবে। এমন সম্ভাবনা যা কোনো জাতির জীবনে একবার কিংবা কয়েক শ বছরে একবার আসে। চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এসব দেশ এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। শূন্য থেকে ১৪ ও ৬৪ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠীকে নির্ভরশীল বলে ধরা হয়। সে হিসাবে দেশে বর্তমানে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৩৭.৭৭ শতাংশ। এরা সবাই দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল। ’
অভিজ্ঞমহল আরো মনে করেন, ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে ওয়ার্কিং ফোর্স কাজে লাগাতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের পরিধি বাড়াতে হবে। অ্যাগ্রিকালচার থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং বা ইন্ডাস্ট্রি বা ফরমাল সার্ভিস সেক্টরে আসতে হবে। তাহলেই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পাওয়া যাবে। আমি যদি গ্রামে থাকি তাহলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড আসবে না। অথবা যদি রিকশাও চালাই তাহলেও এই ডিভিডেন্ড আসবে না। তবে আইটি খাত হলে ঠিক আছে, এটি অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে, ভ্যালু এডিশনেও ভূমিকা রাখে। এ ধরনের ট্রান্সফরমেশন দরকার, শুধু জনসংখ্যা বাড়ালেই তো হবে না। তাদের এমপ্লয় করতে হবে। প্রোডাক্টিভলি এমপ্লয় করতে হবে। গত এক দশকে দেশে শিল্পে কোনো কর্মসংস্থান হয়নি। ’
‘তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সবচেয়ে বেশি। এদের যদি কাজে লাগানো না যায় তাহলে তো ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পাব না। সমস্যা হলো, এদের মধ্যে আনএমপ্লয়মেন্ট কতখানি। যেটা আমরা ধারণা করি, শিক্ষিতদের মধ্যে আনইমপ্লয়মেন্ট কত। এখন প্রশ্ন হলো তাদের কর্মসংস্থান কোথায় হবে। তারা যদি অ্যাগ্রিকালচারে হয় তাহলে লাভ হবে না। ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের আসার কথা, কিন্তু এ চ্যালেঞ্জটা রয়ে গেছে এখনো। ’
বলার অপেক্ষা রাখে না, এইসকল মহাসম্ভাবনা বিকাশের জন্য প্রয়োজন উন্নত ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠন। এজন্য চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি জেলা শহরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মেরিন টেকনোলজি ইন্সটিটিউট গড়ে তোলা প্রয়োজন। যদিও দেশে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ১১৬টি। বর্তমানে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি শিক্ষার অধীনে শিক্ষা গ্রহণরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৭ শতাংশের কাছাকাছি। অথচ জাপানে এ ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল ৬০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪০ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৪২ শতাংশ। তাই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে।
এজন্য সরকারিভাবে উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার, শিল্পপতি, সব রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে এবং বিশেষ করে স্বয়ংসম্পূর্ণ মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এবং এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন কতটুকু অর্জিত হয়েছে এবং এর পথে কী কী অন্তরায়, সেই বিষয়ে বিশদ পর্যালোচনা করতে হবে এবং সার্বিকভাবে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এর নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে যথাযথভাবে এগিয়ে যেতে হবে। ইনশাআল্লাহ!
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মাদক পাচারের কলঙ্কিত ইতিহাস নিয়ে মেডলগ-এর হাতে পানগাঁও বন্দর তুলে দেয়া কি সঠিক?
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৌদি জনগণের চরম বিরোধীতা এবং আতঙ্ক প্রকাশের পরও মার্কিন ঘাটি স্থাপন হয়। ৬০০ বিলিয়ন সামরিক চুক্তি এবং ১ ট্রিলিয়ন বিনিয়োগ চুক্তির পরও ড্রাম্প সৌদি যুবরাজকে অপমান করেছে। আর ভ্রাতৃপ্রতীম পাকিস্তান ঠিকই চুক্তি অনুযায়ী সৌদিকে সহায়তায় এগিয়ে আসছে।
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলার ঈমানি জমিনে গেরুয়াধারী বিষাক্ত থাবা: উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলা এখন সময়ের দাবি
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
লৌহকপাটের অন্তরালে রূহানী আর্তনাদ : কারাবন্দীদের দ্বীনি তালিম ও সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি ও ঈমানি ফরয
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অভিযোগ উঠেছে নতুন করে দলীয় চাদাবাজির আওতায় আনতেই হকার উচ্ছেদ। বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও অন্যায়ের কারণে হকারের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ পূণর্বাসন না করে এদের উচ্ছেদ অমানবিক, সংবিধানের ১২টিরও বেশী অনুচ্ছেদের সাথে চরম সাংঘর্ষিক এবং ভয়াবহ অনৈসলামিক ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড এর কথা শোনা গেলেও হকার কার্ডের আওয়াজ নেই কেন?
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না। যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৩য় পর্ব)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দ্বীনি উসকানি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা; কুশল লা’নতুল্লাহি আলাইহির বিতর্কিত অপতৎপরতা
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের সংস্কৃতি যে অমুসলিমের উপলব্ধির কাছে নিরাপদ নয় তারই প্রমাণ দিলো বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রী। অমঙ্গল যাত্রাসহ বিভিন্ন কাট্টা হারাম সংস্কৃতি চালুর উৎসাহে যে বিভোর। ইসলামী পর্যবেক্ষকমহল ও সংবাদ মাধ্যম তাকে আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক এজেন্ডার ধারাবাহিকতা পালনকারী হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এবার ঘরের দিকে তাকানোর সময় হয়েছে বাংলাদেশের: দেশীয় সব কাজ ভার্তৃপ্রতীম মুসলিমদেশদেরকেই শুধুমাত্র সুযোগ দেয়া উচিত
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গত দেড় দশকে জিডিপির আকার ও প্রবৃদ্ধি অতিরঞ্জিত করে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে অনেক বেশি ঋণ সুবিধা নিয়েছে আওয়ামীলীগ জালেমশাহী সরকার।
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা কাফিরদের ষড়যন্ত্র
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কৃষিতে ডিজেল সংকট হুমকিতে ইরি-বোরো ও পাট উৎপাদন ডিজেল সংকটে সৌরবিদ্যুতের নলকূপই এখন কৃষকের জন্য খোদায়ী রহমত।
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












