সম্পাদকীয়
এবার শুধু শাসক গং নয়, বাংলাদেশের গোটা জনসাধারণকেই বশ ও বুদ করার ছক কষছে ভারত প্রতিবেশী দেশের সাথে মিলিতভাবে আগামী পহেলা বৈশাখ পালনের ঘোষণা ভারতীয় ষড়যন্ত্রের সমার্থক। ঈমানদার দেশবাসীকে খুবই সতর্ক এবং সক্রিয় হতে হবে ইনশাআল্লাহ।
, ০৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
(১)
ভারতের ঐতিহ্যগত এবং পরীক্ষিত ফরমাবরদার আওয়ামী সরকার পতনের পর- ভারতীয় বিশ্লেষকদের আক্ষেপের ভাষ্য ছিলো- মোদী শুধু হাসিনাকে বশ করেই তুষ্ট থেকেছে। মোদীর উচিৎ র্ছিল বাংলাদেশের জনগণকেও ফাদে ফেলা। এ বোধোদয় থেকে এখন ভারত বাংলাদেশের জনগণকেও প্ররোচিত করবে, বিভ্রান্ত এবং বিপথগামী করার ষড়যন্ত্র করবে- এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ।
আর অভিজ্ঞমহল মনে করেন এক্ষেত্রে- এদেশে ভারতীয় সংস্কৃতির অবাধ প্রসার হল সেই নীল নকশার মূল প্রক্রিয়া। তবে এই পরিক্রমায় যে সরকারের কর্তাব্যক্তিরাও প্রলুদ্ধ হবে, পর্যবেক্ষক মহল তাও আশঙ্কা করছেন। গত পরশু তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য প্রমাণ করছে এমন সন্দেহ অমূলক নয়।
বর্তমান সরকার আগামী বছর প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে আঞ্চলিকভাবে নববর্ষ উদযাপনের কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ।
গত ২০ শে এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে সে বলেছে
-“এবার সরকার দায়িত্বে আসার পর খুব বেশি সময় পাওয়া যায়নি। বৈশাখকে কেন্দ্র করে শুধু তিন-চার দিন নয়, পুরো মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
আমরা আঞ্চলিকভাবে এই উৎসব উদযাপন করা যায় কি না, তা আগামী বছর খতিয়ে দেখব। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব। তাদের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা আমাদের দেশে আসবে, আমাদের প্রতিনিধিরা ওই দেশগুলোতে যাবে-এ ধরণের একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
প্রসঙ্গত বিবিসি জানিয়েছে, বৈশাখের প্রথম দিনটিকে ‘বাংলা দিবস’ হিসাবে পালন করার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একটি কমিটি।
জানা গেছে, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো পহেলা বৈশাখকে বাংলা দিবস হিসাবে পালনের উদ্যোগ নিয়েছে।
সমালোচক মহল বলছেন, তথ্য উপদেষ্টার এহেন বক্তব্য তার শপথের খেলাফ। কারণ তিনি বিশ্বস্ত থাকার শপথ নিয়েছেন। কারো প্রতি অনুরাগ না হওয়ার শপথ নিয়েছেন। কিন্তু আলোচিত বক্তব্যের দ্বারা তিনি- ব্যক্তি বিশ্বাস, চেতনা ও ধারণাকে দেশ ও জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন। নিজস্ব উপলব্ধি পরীক্ষা করতে চাইছেন। দেশবাসীকে গিনিপিগ ভাবছেন।
অভিজ্ঞমহল দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন ইতিহাসের নির্মমতা যে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। ‘মন্ত্রী’ পদ জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক পদ। জনমতের প্রতিফলন হতে হবে মন্ত্রী বচনে।
কিন্তু আফসুস ও দুঃখের বিষয় হলো- সবসময়, সব দলেই ব্যক্তি চিন্তার বিকাশ হয়- মন্ত্রী চয়নে, বয়ানে।
(২)
বিশ্লেষকগণ মনে করেন পহেলা বৈশাখকে প্রতিবেশী দেশের সাথে মিলিতভাবে পালন করা- মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়া ও বি.এন.পির নীতি আদর্শ তথা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সাথে ঘোর সাংঘর্ষিক। বাঙ্গালী তথা হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের বোধ থেকে পহেলা বৈশাখের চেতনা এবং বাঙ্গালী তথা হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের চেতনা থেকেই প্রতিবেশী দেশের বাঙ্গালী তথা হিন্দুত্ববাদীদের সাথে একীভূত হয়ে পহেলা বৈশাখ পালনের প্রক্রিয়া।
বাংলা ভাষাই বাঙ্গালী তথা হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের মূল উপজীব্য। তার বিপরীতে বাংলাদেশ নামক ভূ-খন্ডের সার্বভৌমত্ব সুসংহত করার প্রয়াসেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রেরণা। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা জিয়া আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কঠোর ধারক বাহক।
কিন্তু তারই উপদেষ্টা কী করে, ওপার বাংলার বাঙ্গালীদেরও পহেলা বৈশাখে আমন্ত্রণের মাধ্যমে বাঙ্গালী তথা হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতির উত্তরণ ঘটাতে উদ্যত?
(৩)
বৈশাখের ১তারিখ হিন্দুদের একটি মৌলিক ধর্মীয় উৎসবের দিন। এর আগের দিন তাদের চৈত্রসংক্রান্তি। আর পহেলা বৈশাখ হলো ঘট পুজার দিন। তারা ঐ দিন গণেশ পুজা করে। গণেশের বিভিন্ন মূর্তি তৈরি করে মঙ্গল শেভাযাত্রা করে।
প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমবঙ্গে পহেলা বৈশাখে উৎসবের মধ্যে রয়েছে: হিন্দুদের ঘটপুজা, গণেশ পুজা, সিদ্ধেশ্বরী পুজা, হিন্দুদের ঘোড়ামেলা, হিন্দুদের চৈত্রসংক্রান্তি পুজা-অর্চনা, হিন্দুদের চড়ক বা নীল পুজা বা শিবের উপাসনা ও সংশ্লিষ্ট মেলা, গম্ভীরা পুজা, কুমীরের পুজা, অগ্নিনৃত্য, ত্রিপুরাদের বৈশুখ মারমাদের সাংগ্রাই ও পানি উৎসব, চাকমাদের বিজু উৎসব (ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের পুজা উৎসবগুলোর সম্মিলিত নাম বৈসাবি), হিন্দু ও বৌদ্ধদের উল্কিপুজা, মজুসি তথা অগ্নি পূজকদের নওরোজ, হিন্দুদের বউমেলা, মঙ্গলযাত্রা এবং সূর্যপূজা ইত্যাদি।
উল্লেখ্য পহেলা বৈশাখের কথিত উৎসবে সংযুক্ত হওয়ার অর্থ হলো পূজা করা। যা পবিত্র দ্বীন ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। তাহলে কি তথা উপদেষ্টা মুসলমানদেরকে পূজা করার মাধ্যমে হিন্দু বানাতে চায়?
(৪)
পশ্চিম বাংলার বাঙালি মুসলমানরা কিন্তু বাংলা নববর্ষ পালন করে না। কেন করে না? কারণ তারা এদিনটিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পার্বণ হিসাবেই গণ্য করে এসেছেন।
উল্লেখ্য, ইসলামে সূর্যপুজারীদের সাথে সময়ের সামঞ্জস্য হয়ে যাবে বলে তিন সময় নামায পড়া হারাম করা হয়েছে। আর কাফেরদের হাজারো পূজাকে এখন- ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের বাংলাদেশে প্রচার করা হচ্ছে সার্বজনীন!!! নাউযুবিল্লাহ!
(৫)
নতুন তথ্য উপদেষ্টা, ভারতের হিন্দুদের সাথে পহেলা বৈশাখ পালনে- ৯৮ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের এদেশে একাকার করে দিতে চাচ্ছে।
যৌথভাবে পহেলা বৈশাখ পালনের মাধ্যমে এদেশের সাধারণ মুসলমানকে আকৃষ্ট করে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে বুদ করার পায়তারা হিসেবে চিহ্নিত করে,- গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের পক্ষের আলেম সমাজ।
তারা মনে করছেন এটা শুধু শাসক মহল নয় বরং গোটা বাংলাদেশী জনগণকে ভারতীয় সংস্কৃতিতে বশ ও বুদ করার ষড়যন্ত্র। খোদ জনগণকেই এ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে ইনশাআল্লাহ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যা উম্মু আবীহা, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান নিসবতে আযীম শরীফ দিবস। একই সাথে জামিউল কুরআন, খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। এবং নবম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ও নকশ্বন্দিয়া তরীক্বার ইমাম হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশ্বন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বিরোধিতাকারীরা গুমরাহ ও উলামায়ে ‘সূ’র অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে পরিহার করা ফরয-ওয়াজিব।
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূল আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুধু পরকালীন শাফায়াত ই একমাত্র চাওয়া পাওয়া নয়;
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংস্পর্শে নাগরিকদের সংশোধনের জন্য পাঠাতে হবে
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“মুসলিম বিশ্ব যদি ডলারের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামী দিনার’ চালু করে, তবে তা পশ্চিমাদের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












