মন্তব্য কলাম:
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না। যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৫)
, ০২ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
ঢাকা মহানগরে যানজটের প্রধান প্রধান কিছু কারণ হলো-
২) গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারী পরিকল্পনা ও অর্থ বরাদ্দের অভাব:
জাতীয় বাজেটে গ্রামীণ জনজীবনে কর্মসংস্থানমুখী ও কর্মসংসংস্থান সৃষ্টিতে তেমন কোন উন্নয়ন প্রকল্প থাকে না। বরং অনুৎপাদনশীল ও সেবা খাতেই সব বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হয়ে বরং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ সরকারের দেয়া বিভিন্ন ধরনের ভাতা, টিআর, কাবিটা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বাকী কর্মক্ষম জনশক্তি বেকারত্বের বোঝা টানছে।
উল্লেখ্য জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, বাঁধ, হাট-বাজার নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি অবকাঠামোগত উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয়।
এছাড়া টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ, কৃষি খাতের জন্য সার, বীজ ও সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ বিলের ওপর ভর্তুকিতে সরকারী বরাদ্দ দেয়া হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, উন্নত স্যানিটেশন ইত্যাদি সেবাখাতেও স্বল্প পরিমাণে বরাদ্দ দেয়া হয়।
তবে এসবের তুলনায় গ্রামীন জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারি পরিকল্পনা, প্রণোদনা ও বাজেট বরাদ্দ নেই বললেই চলে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি যদি অঞ্চলভিত্তিক কল-কারখানা, গ্রামীণ শিল্প পার্ক, আইটি পার্ক, কৃষিজ ও মৎস্যজাত পণ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত হিমাগার এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করলে গ্রাম ও জেলা পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়ার সাথে সাথে কর্মসংস্থান বেড়ে যেতো এবং লোকজন ঢাকামূখী হতো না এমনকি বিদেশমূখীও হতো না।
৩) আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গ্রামীণ পণ্য বাজারকরণের অসুবিধা:
গ্রামীণ পণ্য শহরে পাঠিয়ে যে নিজস্ব কর্মসংস্থান হওয়ার কথা, সেখানেও অনেক সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যা সমাধান না হওয়ায় লোকজন আত্মকর্মসংস্থানের পরিবর্তে কাজের খোঁজে ঢাকামূখী হতে বাধ্য হয়।
ক) অনুন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: গ্রামে বেশীরভাগ রাস্তা কাঁচা বা সরু, ব্রীজ কালভার্টের অভাব ইত্যাদি কারণে বড় ট্রাক ঢ়ুকতে পারে না। ছোট ছোট যানবাহনে পণ্য আনা-নেওয়া করতে খরচ অনেক বেশি পড়ে এবং দ্রব্যমূল্যও বৃদ্ধি পায়। অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে কৃষকের লোকসান বেড়ে যায়। লোকসান সামাল দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কাজের সন্ধানে ঢাকামূখী হয়।
খ) হিমাগারের অভাব: গ্রামীণ এলাকায় হিমাগারের প্রচন্ড সংকট। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় কৃষক তার পণ্য সংরক্ষণ করতে পারে না। এতে শাকসবজি বা ফলের মতো পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। পচন ধরার ভয়ে কৃষক ভরা মৌসুমে পানির দরে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আর শ্রমজীবিদের কাজের সংকট দেখা দেয়। এতে কৃষক-শ্রমিকের সারা বছরের সংসারের খরচে ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে কৃষক-শ্রমিক বাধ্য হয়ে বাকী মৌসুমের সংস্থানে কাজে বের হতে হয়। আর সহজে কাজের সংস্থানের সুযোগ থাকায় শ্রমজীবিদের কাছে ঢাকাই অগ্রাধিকার পায়।
গ) সঠিক বাজার তথ্যের অভাব: গ্রামের অনেক উৎপাদনকারী জানতেই পারেন না যে শহরে বা অন্য জেলায় তার পণ্যের বর্তমান চাহিদা কেমন বা দাম কত। তথ্যের অভাবে তারা স্থানীয় পাইকাররা যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, তাতেই পণ্য ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তারা। এতে পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেক সময় পূজি হারায় কৃষক। ফলে বাধ্য হয়ে পণ্য উৎপাদন না করে বিকল্প পেশায় চলে যায় তারা। আর সেই বিকল্পের খোঁজে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তারা ঢাকার দিকেই ধাবিত হয়।
ঘ) পুঁজি ও ঋণের অভাব: পণ্য বাজারজাত করণে যে প্রাথমিক পুঁজি (উৎপাদন, পরিবহন, মোড়কজাতকরণ) প্রয়োজন, তা অনেক গ্রামীণ উদ্যোক্তার থাকে না। সরকারীভাবে ঋণ পাওয়া কঠিন ও পর্যাপ্ত না হওয়ায় তারা মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেয়। আবার কখনো ঋণও পায়না। এতে স্থানীয় উৎপাদক ও শ্রমজীবিরা বিকল্প অবলম্বন হিসেবে বিনা পূজির কর্মসংস্থানে ঢাকামূখী হতে বাধ্য হয়।
ঙ) সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্রের অভাব: শহরগুলোতে গ্রামের মানুষের জন্য সরাসরি পণ্য বিক্রির স্থায়ী কোনো “কৃষক বাজার”নেই। এরূপ বাজার সৃষ্টিতে সরকারী কোন উদ্যোগও নেই। তারা সবসময় কোনো না কোনো পাইকার, ফরিয়াদের ওপর নির্ভরশীল থাকে। ফলে কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না, আবার শহরের ভোক্তাকে চড়া দামে পণ্য কিনতে হয়। লাভের সিংহভাগই মধ্যস্বত্বভোগী ও পরিবহন ভাড়ায় চলে যায়। এতে কৃষক পণ্য উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে চাকুরীর খোঁজে ঢাকামৃখী হওয়াকেই প্রধান্য দেয়।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সরকার থেকে খাস বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের দাপটে ভূমির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভূমিহীনরা।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“আঃলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে কি করবে তার পরিকল্পনা ফাঁস আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার হওয়া উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মার্কিনীরা তাদের পতিত সরকারকেই নূতন করে তুলে ধরে অপেক্ষাকৃত বেশি লুটতরাজের শর্তে। নূতন করে মার্কিন গোয়েন্দাদের আনা-গোনা কি তারই আলামত!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












