মন্তব্য কলাম
সিলেটের সবুজ অরণ্যে পাপাচারের কালো ছায়া-চা বাগানের পৌত্তলিক শ্রমিকদের মদ্যপতা ও অনৈতিকতা: উম্মাহর জন্য এক সতর্কসংকেত
, ০১ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
সিলেটের দিগন্তজোড়া সবুজ চা বাগান, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত; আজ সেখানে এক ভয়াবহ নৈতিক ও রূহানী বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই বাগানের অভ্যন্তরে বসবাসরত পৌত্তলিক শ্রমিকদের মাঝে বিরাজমান লাগামহীন মদ্যপতা, জুয়া এবং বিজাতীয় অপসংস্কৃতির চর্চা কেবল ওই অঞ্চলের পরিবেশকেই কলুষিত করছে না, বরং তা মুসলিম জনপদ সিলেটের ঈমানি আবহকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিজাতীয় আর্দালী, লুটেরা ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই শ্রমিক শ্রেণীর মাঝে যে কুসংস্কার ও নৈতিক স্খলনের বীজ বপন করা হয়েছিল, তা আজ এক বিশাল বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা বাগানগুলোর ভেতরে পচুই ও দেশি মদের অবাধ উৎপাদন এবং সেবন এখন এক নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পৌত্তলিক বিশ^াসের আড়ালে ধর্মীয় উৎসবের নামে প্রকাশ্য মদ্যপান এবং উন্মাতাল নৃত্য-গীতের মাধ্যমে তারা সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘিœত করছে। এই মদ্যপতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে-যেখানে মারামারি, খুনাখুনি এবং নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধগুলো ডালভাতের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে ওই অঞ্চলের জননিরাপত্তা আজ এক গভীর সংকটের সম্মুখীন।
বিজাতীয় ইহুদীবাদি ব্যবস্থার কুপ্রভাবে এই শ্রমিকদের মাঝে ঈমানি শিক্ষার আলো পৌঁছানোর পরিবর্তে তাদের কেবল দেশদ্রোহী কার্যক্রম অবাধে পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা যুগ যুগ ধরে মদ্যপতা ও পৌত্তলিক বিকৃতির অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, চা বাগানগুলোতে মুষ্টিমেয় মুসলিম বসবাস করলেও এই পৌত্তলিক শ্রমিকদের অপকর্মের কারণে তারা তাদের দ্বীনি আমল ও পর্দার পবিত্রতা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। এটি মূলত একধরণের 'সাংস্কৃতিক আগ্রাসন', যা নীরবে মুসলিম সমাজের নৈতিক মেরুদ- ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চা বাগানগুলোতে এই মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকা-ের নেপথ্যে রয়েছে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা কেবল মুনাফার জন্য এই শ্রমিকদের নেশার জগতে ডুবিয়ে রাখছে। সরকারের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলা হলেও, চা বাগানের ভেতরে এই নিষিদ্ধ পল্লীগুলোর বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আজও দৃশ্যমান নয়। অথচ প্রয়োজন ছিল এই অন্ধকার জনপদে সঠিক মানবিক ও দ্বীনি দাওয়াতের আলো পৌঁছে দেওয়া এবং কঠোর আইনি নজরদারির মাধ্যমে মদ্যপতা বন্ধ করা।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনাতে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন: “নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। অতএব তোমরা এগুলো বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: আয়াত শরীফ নং ৯০)। এই আয়াত মুবারক-এর হাক্বীকত হলো-যেখানে পৌত্তলিকতা ও মদ্যপতা একত্রে অবস্থান করে, সেখানে শয়তানি শক্তির আধিপত্য সুনিশ্চিত হয়। সিলেটের মতো একটি রূহানী পুণ্যভূমিতে এই ধরণের পাপাচার কখনোই কাম্য হতে পারে না। অনতিবলম্বে, এই চা বাগানের মুশরিক শ্রমিকদের বহিষ্কার করতে হবে, এরা হচ্ছে সত্যিকারের কৃতঘœ।
এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে- চা বাগানগুলোতে মাদকের উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, পৌত্তলিক অপসংস্কৃতির প্রকাশ্য মহড়া বন্ধ করা এবং সেখানে বসবাসরত মুসলিমদের ঈমানি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একইসাথে ওই অঞ্চলে পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়্যাদ শরীফ তথা নকশায়ে সাহাবায় কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের অনুসরনে হাক্বীকি দ্বীনি দাওয়াত উনার কার্যক্রম জোরালো করতে হবে যাতে বিভ্রান্ত মানুষগুলো হিদায়াতের আলোকবর্তিকা খুঁজে পায়। এটা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়, যদি প্রশাসন ও সচেতন মুসলিম জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে এই পাপাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
-মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












