মন্তব্য কলাম
উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্ঠা চলছে। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া। (৩)
, ২৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
"পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০" পুনর্বহাল হলে কি হবে?
আদালত রায়টি বলবৎ করলে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় সংকট তৈরী হবে।
১) পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি- ১৯০০ পুণঃবহাল হলে এ অঞ্চলে সরকার ও বাঙালিদের ভূমি অধিকার খর্ব হবে।
২) পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের উপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও উপজাতিরা সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি আরো জোড়ালো করবে।
৩) ১৯০০ সালের শাসনবিধির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব ধরনের ভূমির মালিক হবে উপজাতিরা। এই আইনের ক্ষমতাবলে হেডম্যান, কার্বারী ও সার্কেল চীফরা আবারো অসীম ক্ষমতার অধিকারী হবে।
৪) প্রথাগত ভূমি অধিকার হিসেবে উপজাতীদের এ অঞ্চলের সব ভূমির উপর অধিকার বলবৎ থাকবে। এই শাসনবিধি বলবৎ করলে ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির উপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ খর্ব হবে।
৫) পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলগুলোর উস্কানিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আরও উত্তপ্ত হবে।
৬) পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে চাকমা ব্যতীত বাঙ্গালীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বিতাড়িত হবে।
৭) পার্বত্য চুক্তির ফলে দুই দশকে অর্জিত সাফল্যগুলো হুমকির মুখে পড়বে। তিন পার্বত্য জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম আরো সীমিত হয়ে পড়বে।
৮) আইনটি ডেড ল’ হিসেবে ঘোষিত থাকায় এখন হেডম্যান কারবারীরা বাঙালিদের সাথে দৃশ্যত যেসব সহযোগীতা করছে তার বিপরীতে হেডম্যান, কার্বারী ও সার্কেল চীফরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী হবে।
৯) পাহাড়ি জনগোষ্ঠী আবারও প্রথাগত ভূমি অধিকার দাবি সামনে এনে সবভূমির উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। সর্বোপরি পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলগুলোর উস্কানিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।
১০) বাঙ্গালীদের প্রতি বৈষম্য ও শোষণ আরো বৃদ্ধি পাবে:
১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও এই পার্বত্য শাসনবিধি’র শোষণ ব্যবস্থা চলমান থাকে। এর মাধ্যমে রাজা, মৌজা হেডম্যান এবং কার্বারীরা বাঙ্গালীদের উপর এখনো শোষণ অব্যাহত রয়েছে, রেখেছে। এই কালো আইনের পর রয়েছে ১৯৯৭ সালের বৈষম্যমূলক ‘শান্তিচুক্তি’। এসব কালো আইনের কারণে উপজাতি পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয় যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, তার বিপরীতে বাঙালি পরিবারগুলো তা পায় না।
“রাজনৈতিকভাবে তিন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আঞ্চলিক চেয়ারম্যান উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। সেখানে একজন চেয়ারম্যানের সমপরিমাণ ক্ষমতা দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান বাঙালিদের থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় না; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদটিও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। গুরুত্বপূর্ণ পদে বাঙালিদের থেকে একজনও বাঙালি প্রতিনিধি রাখা হয়না। তিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজাতি, তিন সার্কেল চিফ উপজাতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সবাই উপজাতি। বাঙ্গালীদের প্রতিই বৈষম্য।
উল্লেখ্য পাহাড়ে উপজাতিদের জন্য আয়কর ও ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে উপজাতিরা সুবিধা ভোগ করে, কিন্তু বাঙালিরা বঞ্চিত থাকে। উপজাতিরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না, পারলে তাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই মওকুফ করা হয়, কিন্তু বাঙালিরা পরিশোধ করতে না পারলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয় এবং জেলখানায় যেতে হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিদের সাথে বারবার বৈষম্য করা হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে বাঙ্গালীরা গরিব থেকে গরিব হচ্ছে আর উপজাতিরা ধনী থেকে আরো ধনী হচ্ছে। পাহাড়ের সব নিয়মকানুন পার্বত্য অঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের জন্য একই নিয়ম ও একই নীতি অবলম্বন করতে হবে। সব কালো আইন বাতিল করতে হবে। জনসংখ্যানুপাতে ভূমি কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। পাহাড়ি বাঙ্গালী সবাইকে সমান নাগরিক অধিকার দিতে হবে। একদেশে দুই আইনের মাধ্যমে বৈষম্য বাতিল করতে হবে।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নদীভাঙনে গত এক দশকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সরকার থেকে খাস বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের দাপটে ভূমির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভূমিহীনরা।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সক্ষমতা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ও যথেষ্ট সংখ্যক আমলা, কূটনৈতিক তৈরি ও প্রয়োগ করতে হবে।
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“আঃলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে কি করবে তার পরিকল্পনা ফাঁস আঃলীগ ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ভারতের সেনাবিাহিনীকে দেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার হওয়া উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মার্কিনীরা তাদের পতিত সরকারকেই নূতন করে তুলে ধরে অপেক্ষাকৃত বেশি লুটতরাজের শর্তে। নূতন করে মার্কিন গোয়েন্দাদের আনা-গোনা কি তারই আলামত!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন এমনকী জানালার পর্দা চাইলো জামায়াত এমপি বিরোধী এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা, স্পিকার বললেন ‘আমি কোনোদিন কানাকড়িও পাইনি’ সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক। এমপিদের জন্য বরাদ্দ প্রদান সংবিধান পরিপন্থী সংসদে বসে সাংসদরাই সংবিধান বিরোধী কাজ এবং নিজস্ব ভোগ বিলাসে তথা লুটতরাজে মত্ত (২য় পর্ব)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন এমপিদের জন্য ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের আইনী ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা অনেক।।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












