মন্তব্য কলাম
ইহুদী-নাছারাদের ষড়যন্ত্রে পড়েই দুনিয়াদার মালানারা বেহেশত-দোযখের ওয়াজ বাদ দিয়েছে। পর্নোগ্রাফি, মাদক থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে চাইলে বেহেশত-দোযখের ওয়াজও বেশি বেশি করতে হবে।
, ১৫ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৫ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ১৪ মে, ২০২৫ খ্রি:, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
বিষয়গুলো পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে আলোচিত হচ্ছে না। হচ্ছে ‘পারিবারিক বন্ধন ভঙ্গ’, ‘মূল্যবোধের অবক্ষয়’, সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট ইত্যাদি শিরোনামে। অনেকটা ধর্মনিরপেক্ষ স্টাইলে আলোচনা যা হচ্ছে, তার সমাধান বলতে হাক্বীক্বতে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার খুব কাছাকাছি যাওয়া হচ্ছে। এক কথায় এসব সমস্যার ক্ষেত্রে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে বর্ণিত পর্দার প্রচলনের কথা বললে সব সমাধানই এসে যায়।
প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, ছাপার বক্তব্যে অথবা টকশোতে জোরালোভাবেই আলোচনা এসেছে- মাদক, এনার্জি ড্রিংক, পর্নো- এগুলো নিয়ে জনতার একটা বড় অংশ শুধু বেশামাল নয়; উন্মাতাল হয়ে উঠছে। শিশু-কিশোররা ডিজে-পার্টিতে যোগদান করছে। রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাসসহ শুধু সব অভিজাত মার্কেটই নয়; রাজধানীর অলি-গলিতেও হাজারো নামের পর্নোসিডি বিক্রি হচ্ছে। স্কুলের কোমলমতি কিশোররা ৩০/৪০ টাকায় পেনড্রাইভে ডাউনলোড করে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১’র খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের অনুমোদিত আইনে পর্নোগ্রাফি বহন, বিনিময়, মুঠোফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা, বিক্রি ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইনে শাস্তি ও জরিমানার বিধানসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ে মিথ্যা মামলা করলে বাদীর শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কিন্তু আইন অনুমোদনকারী মন্ত্রিসভায় উল্লেখ করেছে সমাজে পর্নোগ্রাফি ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
বলাবাহুল্য, আইন করে এ পর্নোগ্রাফি এবং মাদকের বিন্দুমাত্র রোধ করতে পারেনি সরকার। মূলত সরকারই পর্নোগ্রাফি ও মাদকের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। সরকারের সেন্সরশীপের পরও বিলবোর্ড, সিনেমা, নাটক, মুভি তথা পেপার-পত্রিকায় যেসব সুন্দরী ও বিবস্ত্রপ্রায় নারীর অশ্লীল অঙ্গ-ভঙ্গীমা চিত্রিত হয়। তাই দেখে শিশু-কিশোরসহ বয়স্করা পর্নোগ্রাফির পূর্ণ ছবক পায়। এরপর হাত বাড়ালেই মেলে আসল পর্নোগ্রাফি।
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে সরকারের লোকবল এমনিতেই নগণ্য। আর দু’-চারজন যা আছে, তারাই পর্নোগ্রাফি ও দুর্নীতি দুটোতেই আসক্ত। সুতরাং সরকারের নছীহত আর খোঁড়া আইনের কথা বলে পর্নোগ্রাফি ও মাদক কোনোটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। পর্নোগ্রাফিসহ বর্তমান সংস্কৃতিতে মানুষ আশে-পাশে তাকালেই বহু সুন্দরী মেয়েলোক দেখে। অপরদিকে নারীরা দেখে পুরুষ। উভয়ের মাঝেই জেগে উঠে কামুক প্রবৃত্তি। এর অবসান কিভাবে হবে?
মূলত, কাফির-মুশরিকরা বহু আগেই খুব সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রে ও কৌশলে শেষ রহমতটুকুও উঠিয়ে নিয়েছে। কাফিররা খুব কৌশলে ও ঘৃণাভরে প্রচার করেছে, ‘মৌলভী সাহেবরা বিজ্ঞানের কথা বাদ দিয়ে শুধু হুর-গেলমানের ওয়াজ করেন। দুনিয়াবী কাজের কথা বাদ দিয়ে শুধু বেহেশতে যাওয়ার কথা বলেন। ”
বলাবাহুল্য, বেহেশতের হুর-গেলমানের যে বর্ণনা আছে, তা ফিকির করে একজন মানুষ তার চারপাশের সুন্দরী মেয়েলোকের কথা ভুলে থাকতে উৎসাহ পেতো। না তাকানোর শক্তি পেতো। অশ্লীল চিন্তা ও পথ পরিহার করার ক্ষমতা পেতো।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মুসলমান পুরুষ ও মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোযা পালনকারী নারী, ইজ্জত-সম্ভ্রম হিফাযতকারী পুরুষ ও ইজ্জত-সম্ভ্রম হিফাযতকারী নারী এবং যিকিরকারী পুরুষ ও যিকিরকারী নারীদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। ” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “বেহেশতে থাকবে আনত-নয়না হুরগণ। যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহর। ”
তাফসীরে লেখা হয়- বেহেশতের কোনো হুরের দেহের এক বিন্দু যদি দুনিয়াতে প্রকাশ পেতো, তাহলে গোটা দুনিয়া ঝলমল করে উঠতো। তাফসীরে বেহেশতের হুরদের যে ভুবন ভুলানো সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে, তার আশায় খুব সহজেই সাধারণ মানুষ এ গোটা জিন্দেগীর বেপর্দাগিরি ছেড়ে দিতে পারে। অনেক বড় কিছুর এবং বিশেষত অনন্তকালের সুখের আশায় কদর্যময় দুনিয়ার কিঞ্চিত কণ্টকযুক্ত সুখ ছেড়ে দেয়া সম্ভব।
অপরদিকে পর-নারীর দিকে তাকালে দোযখে যে আগুনের নারী তৈরি হবে, তারা ব্যভিচারকারীদের একান্তবাসে বাধ্য করবে, তখন তাদের আগুনের দেহের চাপে সে জ্বলে পুড়ে ছারখার হবে। এই তথ্যেরও প্রচার দরকার। এই তথ্য যেমন অনিবার্য সত্য। তেমনি আগুনের নারীর একান্তবাসে ভীত হয়ে প্রতিটি মুসলমান আমল করতে বাধ্য।
মূলত, এসব তথ্য জ্ঞাপন করেছেন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মাহকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু উম্মাহ যে সতর্কতার পথে না গিয়ে- পরকীয়া, লিভ টুগেদার, সংস্কৃতিমনা, প্রগতিশীল ইত্যাদি শব্দের স্রোতে ভেসে চলছে। পারিবারিক বন্ধন থেকে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করতে চাইছে। তাই তাদেরকে তাজদীদ করে পুনরায় সতর্ক করতে চাইছেন; বেহেশতের সুখ-শান্তি, দোযখের আযাবের কথা জানাতে চাইছেন যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি। তিনি বলছেন, ছবি তোলা হারাম, পর্দা পালন করা ফরয।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঈমান ও ইজ্জত হরণে হিন্দুত্ববাদী নীল নকশা ‘ভগওয়া লাভ ট্র্যাপ’-সরকার ও জনতাকে সতর্ক হওয়া এখন সময়ের দাবি ও ফরয
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের বন্দর বিদেশিদের হাতে নয়, জাতির হাতেই থাক
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ; একটি দেশ ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী অধ্যাদেশ। অধ্যাদেশে বাঙ্গালীদের বাদ দিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য চালু হয়েছে কোটাপ্রথা, উপজাতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে সশস্ত্রবাহিনীও বিচারের আওতায়, পশ্চিমা অমানবিকতাকে প্রাধান্য।
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খনিজ সম্পদে ভরপুর সোনার বাংলা। অথচ অনুসন্ধানের অভাবে অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে বেশীরভাগ খনিজ সম্পদ। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাবিষ্কৃত তেল গ্যাসই দেশের চাহিদা মিটিয়ে দিতে পারে।
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিদেশে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের দশ লাখ টাকার ব্যাংক সহযোগিতার ঘোষণা- যুগপৎ দুর্ভাগ্যজনক এবং আত্মঘাতী যা মেধা পাচার, অর্থ পাচার এবং দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থার উৎকর্ষতা সাধনে অবহেলার দৃষ্টিভঙ্গী। দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়াতে হবে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে অতি সত্ত্বর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ইনশাআল্লাহ।
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সন্ত্রাসী আম্রিকা যুদ্ধের নামে বাঁচতে চায়। ভূয়া অস্ত্র বেঁচে টাকা লুট করতে চায় ভূয়া আম্রিকানরা মনে করে আম্রিকা যুদ্ধে সেরা অথচ মেক্সিকো, স্পেন, জার্মানসহ কয়েকটি কাফের রাষ্ট্র ছাড়া কানাডা ভিয়েতনামসহ অনেক কাফের রাষ্ট্রের কাছেও তারা শোচনীয়ভাবে হেরেছে
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে ইরানের একটি ২০ হাজার ডলারের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিরোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। যা যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন অর্থনৈতিক শিক্ষার মুখোমুখি করেছে।
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইহুদী-খ্রিষ্টান-হিন্দুরা কোন মুসলিম দেশ ধ্বংস ও দখল করার আগে সে দেশে তাদের অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়। চলচ্চিত্র নামক বিধ্বর্মীদের জাহান্নামী সংস্কৃতির ফাঁদে মুসলিম উম্মাহ।
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
“বিশ্বের সব মুসলমান একটি দেহের ন্যায়”- এ হাদীছ শরীফের শিক্ষা মুসলমানেরা নেয়নি। কিন্তু কাফিররা এ হাদীছ শরীফের ফায়দা নিয়ে এত শক্তিশালী।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












