ইতিহাস
ইহুদীদের নিশানাতে ভূমি নাকি আল আকসা শরীফ? (২)
অভিমত: ফিলিস্তিনে সংঘাতের মূল কারণ:
, ০৩ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১২ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ১০ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ২৬ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) ইতিহাস
পরবর্তীতে এক ইহুদী রাজা সেই টেম্পেল মাউন্ট এর উপর আরেকটি দ্বিতীয় টেম্পল নির্মাণ করে, কিন্তু সেই দ্বিতীয় টেম্পলটাও রোমান সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধে ভাঙ্গা পড়ে। অতঃপর সেখানে হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের আমলে এই অঞ্চলটি খেলাফতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়। তখনই সেই পাহাড়ে মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং একই সাথে সেই মসজিদ কমপ্লেক্সে বর্তমানে ছয়টা পৃথক মসজিদ অবস্থিত। এই মসজিদগুলোকেই আমরা একসাথে আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্স হিসেবে জানি।
ইহুদী ধর্ম অনুযায়ী এই টেম্পল মাউন্টটাই হচ্ছে ওদের প্রধান ক্বিবলা, ওদের ধর্ম অনুসারে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বলে গেছেন যে, মহান আল্লাহ পাক একজন আখেরী নবী এবং রসূল প্রেরণ করবেন এবং উনি ইহুদীদেরকে নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন যাতে ওরা সবাই উনার উম্মত হয়ে যায়। বর্তমানে যারা ইহুদী ধর্ম পালন করে তারা সেই আখেরী নবীর জন্য অপেক্ষা করছে। ওরা এটাও বিশ্বাস করে যে আখেরী নবী এসে সেই টেম্পেল মাউন্ট এর উপরে ওদের জন্য নতুন করে ক্বিবলা নির্মাণ করে দিবে।
বর্তমান সময়ে দখলদার ইহুদীদের মধ্যে প্রধানত দুইটা ভিন্ন মত দেখা যায়। একটি মত অনুযায়ী, যেহেতু আখেরী নবী আসছেন সেহেতু তাদেরকে আগেভাগেই টেম্পেল মাউন্ট এ অবস্থিত মসজিদগুলোকে ধ্বংস করে অর্থাৎ শহীদ করে তার উপরে তৃতীয় টেম্পল নির্মাণ করে ফেলা উচিত। তাদের বিপরীত ইহুদীরা সেখানে তৃতীয় টেম্পল নির্মাণের বিরুদ্ধে থাকলেও মসজিদ শহীদ করার ব্যাপারে তারা সবাই একমত। এর জন্যই প্রায়ই দেখা যায় যে আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সে ইহুদীরা হামলা করছে এবং সেটার দখল তারা ছিনিয়ে নিতে চাচ্ছে।
কিন্তু এই বিভ্রান্ত ইহুদীরা বিশ্বাস করতে চায় না যে, যেই আখেরী নবীর জন্য তারা অপেক্ষা করছে উনি হচ্ছেন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। তিনি ইতিমধ্যেই পৃথিবীতে আগমণ করেছেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ থেকে ক্বিবলা ঘুরিয়ে পবিত্র মক্কা শরীফে স্থানান্তর করেছেন। এবং উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) ধরে যে সকল বনী ইসরাইলিদের হিদায়েত লাভ করার কথা ছিল তারা হিদায়েত প্রাপ্ত হয়েছেন।
অতঃপর আমরা জানতে পারলাম যে এতদিন আমাদের সামনে যে সকল বয়ান হাজির করা হয়েছিল যে, পৃথিবীজুড়ে ইহুদীরা নির্যাতিত তাই তাদের জন্য ফিলিস্তিনে একটা পৃথক ভূমি দরকার যেখানে তারা নিরাপদে থাকতে পারবে। সেটা আসলে সত্য নয় ফিলিস্তিন দখল করার তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে ধর্মীয়। তারা তাদের বিভ্রান্ত এবং বিকৃত ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এবং এই উদ্দেশ্য তখনই সফল হবে যখন তারা আল-আকসা মসজিদকে শহীদ করতে পারবে।
-মুহম্মদ ইনজামামুল রাব্বি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
জানা আছে কি? আজকের সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা একসময় মুসলমানদের কর দিয়ে চলতো
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে বাংলার সুলতান যেভাবে নেপাল বিজয় করেছিলেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












