ইতিহাস
জানা আছে কি? আজকের সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা একসময় মুসলমানদের কর দিয়ে চলতো
, ২৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ইতিহাস
মুসলমান দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে মুসলমানরা নিদারুণ নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যে অতিবাহিত করছে। কোটি কোটি মুসলমানকে নির্মমভাবে শহীদ করা হচ্ছে জুলুমবাজ আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতায়। পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা যাতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারেন, পূর্বের সেই স্বর্ণালী যুগে ফিরে যেতে না পারেন এজন্য অর্থ ও শ্রম দিয়ে সর্বাত্মকভাবে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত বাস্তবায়ন করছে তারা। মুসলমান বিশ্বের কতিপয় মুসলমান নামধারী শাসককেও ইদানিং দেখা যায়, আমেরিকার প্রশংসা এবং লেজুরবৃত্তিতে লম্ফঝম্ফ করতে। অথচ আপনারা কি জানেন? এই আমেরিকা একসময় মুসলমানদের কর দিয়ে চলতো। মুসলমানদের দয়া ভিক্ষা চাইতো। চলুন সেই সংক্ষিপ্ত ইতিহাসটি জানা যাক-
১৭৮৩ সাল। আমেরিকান নেভির জাহাজ এই প্রথম আন্তর্জাতিক নৌসীমায় প্রবেশ করলো। এজন্য তারা খুব উল্লাস প্রকাশ করছিলো। কিন্তু তাদের এই উচ্ছ্বাস বেশি দিন টিকলো না। কারণ আলজেরিয়ার কাছাকাছি, তৎকালীন পরাশক্তি উসমানীয় সালতানাতের নৌবাহিনীর হাতে দুই বছরের মাথায় আমেরিকান জাহাজ অবৈধ প্রবেশের দায়ে ধরা পড়ে।
১৭৯৩ সালে আরও ১২টি জাহাজ ধরা পড়ে। উসমানীয় নৌবাহিনীকে মোকাবিলার জন্য স্টিল নির্মিত জাহাজ তৈরি করার জন্য তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন সাত লাখ স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করার অনুমতি প্রদান করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উসমানীয় নৌবাহিনীকে পরাস্ত করার মতো সামর্থ্যরে ধারে কাছেও ছিলো না আমেরিকান নৌবাহিনী।
ফলে এক বছরের মাথায় উসমানীয় সালতানাতের সাথে এক চুক্তি করতে বাধ্য হয় আমেরিকা, যার নাম ছিল “বারবারি চুক্তি”। এই ধরনের নামকরণের কারণ হচ্ছে, উসমানীয় সালতানাতের উত্তর আফ্রিকান উলাইয়্যার নাম ছিল বারবারি, যার মধ্যে আলজিয়ার্স, তিউনিস এবং ত্রিপোলি অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
চুক্তির শর্তগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. আমেরিকাকে এককালীন ৯৯২,৪৬৩ ডলার পরিশোধ করতে হবে।
২. ধৃত জাহাজসমূহ ফেরত দেয়া হবে এবং আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরে আমেরিকাকে প্রবেশাধিকার দেয়া হবে। তবে এর বিনিময়ে আমেরিকান সরকার উসমানীয় সালতানাতকে ৬,৪২,০০০ ডলার সমমূল্যের স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করবে।
৩. আমেরিকাকে বার্ষিক ১২,০০০ ডলার মূল্যের স্বর্ণমুদ্রা কর হিসেবে দিতে হবে এবং এই বর্ষপঞ্জি ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গণনা করা হবে।
৪. আমেরিকার ধৃত নাবিকদেরকে ফেরত নেয়ার জন্য ৫,৮৫,০০০ ডলার পরিশোধ করতে হবে।
৫. তাদের স্টিলের নির্মিত জাহাজগুলোও জব্দ করা হয়।
এই চুক্তি হয়েছিল তুর্কী ভাষায় এবং কথিত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন নিজে এতে সই করেছিল। আমেরিকার ইতিহাসে এটাই একমাত্র চুক্তি যেখানে আমেরিকা অন্য ভাষায় লিখিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং মুসলমানদের বার্ষিক কর প্রদানে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তি উসমানীয় সালতানাতের পতনের পূর্ব পর্যন্ত বলবৎ ছিলো।
অথচ সেই দুর্বল এবং ভীত আমেরিকানরাই সারাবিশ্বের মুসলমানদের উপর আগ্রাসন চালাচ্ছে। দাদাগিরিসূলভ আচরণ করছে। পরগাছা ইসরায়েলের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে ফিলিস্তিনিদের চিরতরে যমীনের বুক থেকে বিলীন করে দেয়ার মহা ষড়যন্ত্রে মেতেছে। তবে এখনও যদি মুসলমান বিশ্ব সক্রিয় হয়, ভ্রাতৃত্ববোধে আবদ্ধ হয় তাহলে পূর্বের মতোই সেই প্রভাবশালী স্বর্ণালী যুগে মুসলিম বিশ্ব ফিরে পেতে পারবে। ইনশাআল্লাহ!
-মুহম্মদ শাহ জালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে বাংলার সুলতান যেভাবে নেপাল বিজয় করেছিলেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












