আপনাদের মতামত
ইসকনকে নিষিদ্ধ করার আইনি প্রেক্ষিত
, ১২ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৭ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) আপনাদের মতামত
শহীদ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের নির্মম হত্যাকা-ের পর দেশের সচেতন মহলে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার জোর দাবি উঠেছে।
ইসকনের কর্মকা- পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইসকন সমর্থকরা সরাসরি খুন, সংঘাত, সংঘর্ষ, ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। কোনো সংগঠনের সদস্যরা এই ধরনের অপরাধে যুক্ত হলে সেই সংগঠনকে "সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯"-এর আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করার বিধান রয়েছে। সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(১) ধারায় "সন্ত্রাসী কার্য"-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে:
যদি কোন ব্যক্তি, সত্তা বা বিদেশী নাগরিক-
(ক) বাংলাদেশের অখ-তা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করিবার জন্য জনসাধারণ বা জনসাধারণের কোন অংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার বা কোন সত্তা বা কোন ব্যক্তিকে কোন কার্য করিতে বা করা হইতে বিরত রাখিতে বাধ্য করিবার উদ্দেশ্যে-
(অ) অন্য কোন ব্যক্তিকে হত্যা, গুরুতর আঘাত, আটক বা অপহরণ করে বা করিবার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে; অথবা
(আ) অন্য কোন ব্যক্তিকে হত্যা, গুরুতর জখম, আটক বা অপহরণ করার জন্য অপর কোন ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্র বা সহায়তা বা প্ররোচিত করে; অথবা
(ই) অন্য কোন ব্যক্তি, সত্তা বা প্রজাতন্ত্রের কোন সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে বা করিবার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে; অথবা
(ঈ) অন্য কোন ব্যক্তি, সত্তা বা প্রজাতন্ত্রের কোন সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করিবার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র বা সহায়তা বা প্ররোচিত করে;
...তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা বিদেশী নাগরিক ‘‘সন্ত্রাসী কার্য’’ সংঘটনের অপরাধ করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে। "
ইসকনের কর্মকা- পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইসকন সমর্থকরা সরাসরি খুন, সংঘাত, সংঘর্ষ, ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।
এখানে এই যুক্তি দেওয়া হাস্যকর যে, ইসকনের সমর্থকদের কর্মকান্ডের দায় সংগঠন হিসেবে ইসকনের উপর চাপানো যাবে না।
কেননা সংগঠনের নেতা কর্মীদের কর্মকান্ডই সংগঠনের চরিত্রের মূল পরিচয়ক। যেমন, সম্প্রতি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বা ওয়েবসাইটে ছাত্রলীগের মূলনীতি হিসেবে শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির কথাই বলা আছে। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকা- বিবেচনায় নিয়ে সরকার সংগঠন হিসেবেই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে।
একইভাবে ইসকনের ওয়েবসাইটে বা গঠনতন্ত্রে ভাব আন্দোলনের কথা লেখা থাকলেও সংগঠনটির কি নেতাকর্মীরা বর্তমানে স্পষ্টই বাংলাদেশ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকা-, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত হয়ে পড়েছে। সুতরাং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেই ইসকনকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ!
ইসকনের কার্যক্রম শুধু সন্ত্রাসী কার্যই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ওপরও আঘাত:
বাংলাদেশের ইসকন নেতারা কৌশলে চিন্ময় দাসকে বহিষ্কারের গল্প শোনালেও ইসকনের আন্তর্জাতিক কমিটির অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে গত ২৫ নভেম্বরে চিন্ময় দাসকে “ইসকন নেতা” হিসেবে উল্লেখ করেই তার মুক্তি চাওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ কথাটি হলো, চিন্ময় দাসের মুক্তির বিষয়ে ইসকন সদর দপ্তর সরাসরিই ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। [দৈনিক সমকাল: ঃরহুঁৎষ.পড়স/সঢ়পধ৬ঁ৭ি]
ইসকনের এই বিবৃতির পরদিনই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তার ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ ইসকনের সদর দপ্তর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে এবং ভারত কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা ছাড়িয়ে সেই হস্তক্ষেপ করেছেও।
ইসকন সদর দপ্তরের এই বিবৃতি সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ করে এমন কোনো সংগঠন বাংলাদেশ কোনোভাবেই বৈধ থাকতে পারে না। বাংলাদেশে ইসকনের কর্মকা- নিষিদ্ধ করার জন্য এই একটি কারণই যথেষ্ট।
ইসকনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাংলাদেশী আইনের কমপ্লায়েন্স ইস্যু
ইসকন তাদের সাংগঠনিক স্ট্যাটাসের বিষয়ে ধোঁয়াশা রেখেছে। তারা বাংলাদেশে কোন্ আইনের অধীনে নিবন্ধিত কিংবা আদৌ নিবন্ধিত কিনাÍসেটাও স্পষ্ট নয়। মিডিয়ায় এসেছে, ইসকন নাকি একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান, কিন্তু এনজিও হিসেবে কার্যক্রম চালালেও তাদের একাউন্টগুলোর দীর্ঘদিন কোনো অডিট হয় না। তাদের আয়-ব্যয়ের উৎস কেউ জানে না। এক্ষেত্রে এনজিও ব্যুরোর সঠিক মনিটরিং প্রয়োজন।
বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ব্রাঞ্চ হিসেবে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনগুলো ইসকন আদৌ নিয়েছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন, ২০১৬-এর আওতায় ইসকনের ফান্ডিং প্রক্রিয়া আইনসম্মত কিনা, সেটাও তদন্ত হওয়া উচিত।
-আদনান হামিদী আখন্দ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (২য় পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে কার স্বার্থে এই তথাকথিত জ্বালানি চুক্তি!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুর জন্ম বনাম অস্ত্রপচার নির্ভরতা সিজার বৃদ্ধির ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জন্মলাভ (২)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আস্তিনের বিষধর সাপ: দেশীয় মোসাদ, সিআইএ ও র-এর গুপ্তচরদের সমূলে উৎপাটন আজ সময়ের দাবি
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খাদ্য নিরাপত্তার নামে জাতিধ্বংস-জিএমও প্রত্যাখ্যানই একমাত্র পথ
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গরুর গোশত নিয়ে উগ্রবাদী চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ইহুদি-কাফির ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার জিএমও- এটাকে প্রতিরোধ করা মুসলমানদের ঈমানী ফরজ দায়িত্ব
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
অস্ত্রপচার বৃদ্ধির ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জন্মগ্রহণ (১)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৭ই মে: বসনিয়ার মসজিদ দিবস এবং এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধের স্মৃতি
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জিএমও নিষিদ্ধ করুন- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও প্রজন্মকে রক্ষা করুন
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র শরীয়ত উনার হুকুম হচ্ছে, বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করা: বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক: টিকা নিয়েও মিলছে না রক্ষা
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকা আম দ্রুত পচে যায়, ভালো রাখবেন যেভাবে
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












