৭ই মে: বসনিয়ার মসজিদ দিবস এবং এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধের স্মৃতি
, ০১ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আপনাদের মতামত
ইতিহাসের পাতায় কিছু তারিখ কেবল দিনপঞ্জির অংশ থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে জাতিগত পরিচয়, আত্মত্যাগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রতীক। বসনিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য তেমনি একটি দিন হলো '৭ই মে'। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বলকান অঞ্চলে চলা ভয়াবহ যুদ্ধে বসনিয়ান মুসলিমদের (বোশনিয়াক) ওপর যে পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তার একটি নির্মম অংশ ছিল তাদের দ্বীনি ও তামুদ্দনিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা। আজ যখন বসনিয়ার মসজিদ দিবস' পালন করা হচ্ছে, তখন সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ইতিহাসকে পুনরায় পাঠ করা প্রয়োজন।
তামুদ্দনিক গণহত্যার এক অন্ধকার :
অধ্যায়: বসনিয়ার যুদ্ধে কেবল রক্তপাতই হয়নি, বরং সেখানে চালানো হয়েছে -তামুদ্দনিক গণহত্যা' । সার্ব সেনা এবং উগ্র ক্রোয়েট বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল বসনিয়ানদের শেকড় উপড়ে ফেলা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই তিন বছরে কমপক্ষে ৬১৪টি মসজিদ, ২১৮টি নামাজ কক্ষ, ৬৯টি মাদ্রাসা এবং অসংখ্য দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছিল। বিশেষ করে বানজা লুকার বিশ^খ্যাত ফারহাদিয়া মসজিদ' ধ্বংস করার ঘটনাটি ছিল মুসলিম স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। ১৯৯৩ সালের ৭ই মে সেই ঐতিহাসিক মসজিদটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কেন এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ?
বসনিয়ানরা কেন ৭ই মে-কে মসজিদ দিবস' হিসেবে বেছে নিলেন? এটি কেবল পাথর আর ইটের তৈরি ইমারত হারানোর শোক নয়, বরং এটি একটি জাতির টিকে থাকার লড়াইয়ের স্মৃতি।
মসজিদগুলো ধ্বংস করার দখলদাররা প্রমাণ করতে চেয়েছিল যে, এই মাটিতে মুসলিমদের কোনো চিহ্ন থাকবে না। কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার যে সংকল্প বসনিয়ানরা দেখিয়েছেন, তা আজ বিশ^বাসীর কাছে বিস্ময়। তারা প্রতিটি ধ্বংস হওয়া স্থানে পুনরায় মিনার তৈরি করেছেন, যা প্রমাণ করে যে আদর্শ ও বিশ^াসকে ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বর্তমান বিশ^ ও আমাদের শিক্ষা :
বসনিয়ার এই ইতিহাস আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বর্তমানে বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে তা ফিলিস্তিন হোক কিংবা অন্য কোনো ভূখ- যখন দ্বীনি স্থাপনা এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর পদ্ধতিগত আক্রমণ চালানো হয়, তখন বসনিয়ার মসজিদ দিবস' আমাদের একতাবদ্ধ হওয়ার ডাক দেয়। 'এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি জাতির সংস্কৃতি ও দ্বীনি ঐতিহ্য রক্ষা করা মানেই সেই জাতির অস্তিত্ব রক্ষা করা।
উপসংহার:
বসনিয়ার মসজিদ দিবস' কেবল কান্নার দিন নয়, এটি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। এক হাজারেরও বেশি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেও যারা একটি জাতির কণ্ঠরোধ করতে পারেনি, ইতিহাস তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত করেছে। আর যারা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন মিনার গড়েছেন, তারাই বিজয়ী। আমাদের শপথ হওয়া উচিত বিশে^র যেকোনো প্রান্তে দ্বীনি ও তামুদ্দনিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব এবং আমাদের ঐতিহ্য রক্ষায় আপসহীন থাকব। "ইমারত ধ্বংস করা যায়, কিন্তু ঈমান নয়। বসনিয়ার প্রতিটি মিনার আজ সেই অজেয় ঈমানের সাক্ষী।"
-মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুনশী মুহম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব উনার ঈমানী লড়াই এবং আজকের প্রেক্ষাপট
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












