প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুর জন্ম বনাম অস্ত্রপচার নির্ভরতা:
অস্ত্রপচার বৃদ্ধির ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জন্মগ্রহণ (১)
, ০২ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২০ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আপনাদের মতামত
একটি দৃশ্য কল্পনা করুন। একজন সন্তানসম্ভাবা মা, যিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, যার শরীর প্রস্তুত, শিশুর অবস্থান স্বাভাবিক, পুরো চিকিৎসা প্রতিবেদন স্বাভাবিক। পরিবার অপেক্ষায় আছে একটি স্বাভাবিকভাবে সন্তান লাভের। কিন্তু’ চিকিৎসা কক্ষে কিছু সময় পর্যবেক্ষণের পর জানানো হলো, স্বাভাবিক প্রসব ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই অস্ত্রপচারই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত, ভয়, এবং চাপ একসাথে মিশে যায়। সিদ্ধান্তটা একসময় ছিল স্বাভাবিক চিকিৎসা আলোচনার অংশ, তা মুহূর্তেই পরিণত হয় জরুরি মানসিক চাপের সিদ্ধান্তে।
এই প্রশ্ন এখানেই শেষ হয় না। এটা কি শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা, নাকি ধীরে ধীরে একটি বড় সামাজিক বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক জন্মের জায়গা দখল করছে অস্ত্রপচার? একটি সমাজকে বোঝার জন্য তার মাতৃত্ব ব্যবস্থাকে বোঝা জরুরি। কারণ মাতৃত্ব কেবল একটি চিকিৎসা বিষয় নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ, একটি প্রজন্মের সূচনা। কিন্তু’ সাম্প্রতিক বাস্তবতা বলছে, সেই সূচনাই ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক পথ থেকে সরে গিয়ে একটি অস্ত্রপচারনির্ভর ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে।
মানবদেহ কোনো এলোমেলো কাঠামো নয়। বিশেষ করে নারীর শরীর সন্তান ধারণ থেকে প্রসব পর্যন্ত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রাকৃতিক তরতীব অনুসরণ করে। শিশুকে পৃথিবীতে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় শরীর নিজেই সংকোচন তৈরি করে, যা ধাপে ধাপে প্রসবকে এগিয়ে নেয়। এখানে মা ও শিশুর শরীর একটি সমন্বিত জৈবিক ছন্দে কাজ করে। এই কারণেই স্বাভাবিক প্রসবকে মানবদেহের মূল জীববিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি হিসেবে ধরা হয়।
স্বাভাবিক প্রসবের সময় শিশুর শরীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ঘটে। জন্মের সময় সে মায়ের শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে, যা তার রোগ-প্রতিরোধ গঠনে ভূমিকা রাখে। একই সাথে ফুসফুসে থাকা তরল বের হয়ে গিয়ে শ^াসপ্রশ^াস স্বাভাবিক হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রাকৃতিক জন্মপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে শ^াসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
প্রসব ব্যথাকে অনেক সময় শুধুই কষ্ট হিসেবে দেখা হয়, কিš’ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে এটি একটি কার্যকর জৈবিক সংকেত। এই সময় শরীরে অক্সিটোসিন ও এন্ডরফিন নিঃসৃত হয়, যা জরায়ুকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং ব্যথাকে সহনীয় করে তোলে। একই সাথে এটি মা ও শিশুর মধ্যে গভীর আবেগীয় সংযোগ তৈরি করে, যা জন্মের পরবর্তী সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।
-ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আবহাওয়া রাডার অবকাঠামোর মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি? (২য় পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে কার স্বার্থে এই তথাকথিত জ্বালানি চুক্তি!
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুর জন্ম বনাম অস্ত্রপচার নির্ভরতা সিজার বৃদ্ধির ছায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক জন্মলাভ (২)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আস্তিনের বিষধর সাপ: দেশীয় মোসাদ, সিআইএ ও র-এর গুপ্তচরদের সমূলে উৎপাটন আজ সময়ের দাবি
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খাদ্য নিরাপত্তার নামে জাতিধ্বংস-জিএমও প্রত্যাখ্যানই একমাত্র পথ
২৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গরুর গোশত নিয়ে উগ্রবাদী চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে
২২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ইহুদি-কাফির ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার জিএমও- এটাকে প্রতিরোধ করা মুসলমানদের ঈমানী ফরজ দায়িত্ব
২১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৭ই মে: বসনিয়ার মসজিদ দিবস এবং এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধের স্মৃতি
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
জিএমও নিষিদ্ধ করুন- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও প্রজন্মকে রক্ষা করুন
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র শরীয়ত উনার হুকুম হচ্ছে, বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করা: বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক: টিকা নিয়েও মিলছে না রক্ষা
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকা আম দ্রুত পচে যায়, ভালো রাখবেন যেভাবে
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্যের সন্ধানে
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












